thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫,  ১১ সফর ১৪৪০

তালাত মাহমুদ

২০১৫ মে ০৯ ০১:২২:১১
তালাত মাহমুদ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো’- রাজধানীর বুকে চলচ্চিত্রের এ গানটির জন্য বাংলাদেশে খুবই বিখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী তালাত মাহমুদ। হিন্দি সিনেমায় গানের পাশাপাশি নন-ফিল্ম গজল, গীত, হামদ, নাত, নজরুল সঙ্গীত, ভজন ও ভারতের বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। হিন্দি প্লে-ব্যাকে গজলের জনপ্রিয়তা আসে তার হাত ধরে। তাকে ‘গজল সম্রাট’ হিসেবেও ডাকা হয়। বেশকিছু সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় অভিনয়কারী এ সঙ্গীতশিল্পী ১৯৯৮ সালের এ দিনে (৯ মে) মারা যান।

তালাত মাহমুদ ভারতের উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌ শহরে ১৯২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ছেলেবেলা থেকেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রতি দুর্বল ছিলেন। অন্যদিকে শহরটি ছিল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও নৃত্যের পীঠস্থান। ১৯৩০ এর দশকে কিছু সময় পণ্ডিত এসসিআর ভাটের কাছে মরিস কলেজ অব মিউজিকে (বর্তমানে ভাটখান্দ মিউজিক ইউনিভার্সিটি) তালিম নেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৩৯ সালে বিশুদ্ধ গজলকে পেশা হিসেবে নেন। ওই বছর লক্ষ্ণৌর অল ইন্ডিয়া রেডিওতে দাগ, জিগর ও মির বিভিন্ন ধারার গজল গেয়ে সাড়া ফেলে দেন। তখনকার বড় রেকর্ড কোম্পানি এইচএমভি তাকে চুক্তিবদ্ধ করে ও ১৯৪১ সালে ‘সব দিন এক সমান নাহি থা’ গজলটি রেকর্ড করে। এরপর কলকাতায় আসেন। ততদিন তার খ্যাতি সারা ভারতে ছড়িয়ে গেছে।

১৯৪৪ সালে তালাত ‘তাসভির তেরি দিল মেরা বেহেলা না সাকো গি’ শিরোনামের বিখ্যাত গজলে কণ্ঠ দেন, যা ছিল ভারতে সবচেয়ে বিক্রি হওয়া নন-ফিল্মি ডিস্কের মধ্যে একটি। এ সময় সুদর্শন চেহারার জন্য অভিনয়ের প্রস্তাব পান। ১৯৪০ এর দশকে কলকাতা ও মুম্বাই মিলিয়ে ১৬টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এর মধ্যে কলকাতায় তিনটি ছবি বড় ধরনের সাফল্য পায়। কলকাতায় ‘তপন কুমার’ নাম নিয়ে বেশকিছু বাংলা আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান ও কয়েকটি নজরুলগীতি রেকর্ড করেন। গানগুলো কালজয়ী গান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

১৯৪৯ সালে মুম্বাইয়ে স্থায়ী হন তালাত মাহমুদ। তখন হিন্দি ছবিতে তার জনপ্রিয়তা হয় গগনচুম্বী। বিশেষ করে অনিল বিশ্বাসের সঙ্গীত পরিচালনায় ‘আরজু’ ছবিতে গাওয়া গজল তাকে শ্রোতাদের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। ১৯৬০ এর দশকে গজলে পূর্ণ মনোনিবেশ করেন এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ‘গজল সম্রাট’ হিসেবে খ্যাতির শিখরে ছিলেন। ১৯৬০ সালে কিছু সময়ের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। তখন এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’ ছায়াছবিতে দুটি কালজয়ী গানে কণ্ঠদান করেন। গান দুটি লেখেন কে জি মোস্তফা ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন বরেণ্য শিল্পী ফেরদৌসী রহমান। পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে ঢাকায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেও পরে মত বদলে ভারতে ফিরে যান।

চার দশকে তালাত মাহমুদ আট শতাধিক গান গেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য তিনটি এ্যালবাম হল— গোল্ডেন কালেকশন অব তালাত মাহমুদ, তালাত মাহমুদ ইন আ সেন্টিমেন্টাল মুড ও এভারগ্রিন হিটস অব তালাত মাহমুদ। তিনি সর্বমোট ৪৯টি বাংলা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য– অনেক সন্ধ্যাতারা ফোটে ওই আকাশে, এই তো বেশ নদীর তীরে, ঘুমের ছায়া চাঁদের চোখে, আমার সে গান (রাজধানীর বুকে), ভেঙে গেল যদি বাসা, দুটি পাখি দুটি তীরে, ঘুমের ছায়া চাঁদের চোখে, হায় ভালোবাসা সে কি, হয়ত সে কথা তোমার স্মরণে নাই, যে বিরহ দিলে, তুমি সুন্দর যদি নাহি হও, রূপের ওই প্রদীপ জ্বেলে, ফুল দিতে যদি ভুল, তোমারে লেগেছে এত যে ভাল (রাজধানীর বুকে), তুমি বোঝ না তো কেন, তুমি চিরদিন যদি নাহি রবে মোর জীবনে, আধোরাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়, তুমি শুধু গেছ ভুলে, টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে, তুমি ফিরে এসো ও শোন গো সোনার মেয়ে।

১৯৯২ সালে ভারত সরকার তালাত মাহমুদকে রাষ্ট্রীয় ‘পদ্মবিভূষণ’ খেতাবে ভূষিত করে।

(দ্য রিপোর্ট/ডব্লিউএস/শাহ/মে ০৯, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

এই দিনে এর সর্বশেষ খবর

এই দিনে - এর সব খবর



রে