thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

সেই ‘নো বল’ ভুলতে পারছেন না শহীদ

২০১৫ মে ১২ ১৮:৩৩:৪৯
সেই ‘নো বল’ ভুলতে পারছেন না শহীদ

রবিউল ইসলাম, দ্য রিপোর্ট : খুলনা টেস্টে ৭৬তম ক্রিকেটার হিসেবে সাদা পোশাকে অভিষেক হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের ছেলে মোহাম্মদ শহীদের। তবে খুলনা টেস্টে অভিষেক ম্যাচে খুব বেশি আলো ছড়াতে না পারলেও ঢাকায় এসে ঠিকই আলো ছড়িয়েছেন শহীদ। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে ঢাকায় বাংলাদেশের পেসার হিসেবে একাই লড়েছেন তিনি। যদিও স্লো মিডিয়াম পেসার হিসেবে সৌম্য ছিলেন। খুলনা টেস্টে ১ উইকেট তুলে নিলেও বেশ কয়েকবার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন শহীদ। কিন্তু ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় তার সুযোগ কাজে লাগেনি।

ঢাকা টেস্টে ২ ইনিংস মিলে নিয়েছেন ৪টি উইকেট। ২ টেস্টের ক্যারিয়ারে তার সেরা বোলিং ফিগার ২৩ রানে ২ উইকেট। মঙ্গলবার অভিষেক সিরিজের অভিজ্ঞতাসহ নানা বিষয় নিয়ে দ্য রিপোর্টের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন মোহাম্মদ শহীদ।

ঢাকা টেস্টে প্রথম দিন নিজের করা দ্বিতীয় ওভারেই মুশফিকের তালুবন্দী করে সাজঘরে ফেরান পাকিস্তানের ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজকে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পেতে পারতেন শহীদ। কিন্তু নিজের ভুলে উইকেট তো পাওয়াই হয়নি, উল্টো জীবন পেয়ে ওই ম্যাচে আজহার আলী করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। এই ‘নো’ বলের কষ্টটাই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে শহীদকে। দ্য রিপোর্টকে টেস্ট সিরিজের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শহীদ বলেছেন, ‘ওই নো বলের কথা মনে পড়লে খুব কষ্ট পাই। নো বলটার কথা আমার অনেক দিন মনে থাকবে। বেশি কষ্ট লাগে, আজহার আলী এই নো বলে বেঁচে যাওয়ার পর ডাবল সেঞ্চুরি পেল- এটা ভাবলেই। তখন যদি এই আউটটা হয়ে যেত, তাহলে এই টেস্টটার রেজাল্ট ভিন্ন হতে পারত।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো ছড়িয়েই টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছিলেন শহীদ। ২৭টি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচ খেলে ৬১ উইকেট পকেটে পুরেছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ টেস্টে খুব ভাল পারফরম্যান্স না হলেও যতটুকু করেছেন তাতে সন্তুষ্ট শহীদ। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। নিজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘প্রথমবারের মতো খেলেছি, অবশ্যই সন্তুষ্ট। তবে এমন পারফরম্যান্সে এখনই হ্যাপি হওয়া যাবে না। এরচেয়ে আরও ভাল পারফরম্যান্স করতে হবে। এটাই আমার চ্যালেঞ্জ।’

গত বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে ছিলেন শহীদ। অবশ্য শেষ অবধি বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলে সুযোগ হয়নি তার। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলে জায়গা পেলেও ওয়ানডে দলে জায়গা হয়নি নারায়ণগঞ্জের এই পেসারের। অবশ্য রঙিন পোশাকেও খেলতে প্রস্তুত বলে জানালেন তিনি। শহীদ বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ওয়ানডে-টেস্ট-টোয়েন্টি২০ এই তিন ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলতে প্রস্তুত আছি। বাকিটা নির্বাচকদের হাতে। তারা আমাকে যোগ্য মনে করলে সুযোগ দেবেন।’

টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তান বেশ শক্তিশালী দল। এ দলের ব্যাটসম্যানরা খুব ভাল। কোন ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বল করতে বেশি চাপ অনুভব করেছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘চাপ তেমন অনুভব করিনি। ভাল জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি। এটা করতে পারলে বিশ্বের যত বড় ব্যাটসম্যানই হোক, তাদের বলটি খেলতে সমস্যা হবেই।’

এক প্রান্তে টানা বল করে গেছেন, আপনার সঙ্গী হিসেবে তেমন কাউকে পাননি ঢাকা টেস্টে, কতটা কঠিন ছিল এই ম্যাচটি- এ প্রশ্নে শহীদ বলেছেন, ‘একটু সমস্যা হয়েছে। স্পিনারের সঙ্গে আমাকে বল করতে হয়েছে। পেস বোলারদের যতটুকু সময় লাগে স্পিনারদের তার চেয়ে কম সময় লাগে। তাদের সঙ্গে লম্বা স্পেল করতে তাই কষ্ট হয়েছে। আমার সঙ্গে একজন পেস বোলার থাকলে আরও রিদম নিয়ে বল করতে পারতাম।’

পেসাররা বড় ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং করে নতুন নতুন কৌশল শিখতে পারে। এটাই ক্রিকেটীয় বাস্তবতা। শহীদও এখান থেকে পিছিয়ে ছিলেন না। এই টেস্ট সিরিজ থেকে অনেক কিছুই অর্জন করেছেন শহীদ। এমন এক প্রশ্নে তিনি জানালেন, ‘বড় বড় ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বল করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ছোট ছোট ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার অনেক সুযোগ পাব। এগুলো শুধরে নিতে পারলে ভবিষ্যতে আমার জন্য অনেক ভাল হবে। ভাল জায়গা ছাড়া বল করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো লাভ নেই। এগুলো আমি শিখেছি।’

জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবারের মতো ড্রেসিংরুম শেয়ার করার অভিজ্ঞতার কথা দ্য রিপোর্টকে জানালেন মোহাম্মদ শহীদ। তিনি বলেছেন, ‘অন্যরকম পরিবেশ। সাকিব ভাই-মুশফিক ভাই-তামিম ভাই-রিয়াদ ভাই সবাই খুব আন্তরিক। তাদের সঙ্গে অনেক মজা করেছি। তারা খুব হেল্প করেছেন আমাকে। সময়টা খুব ভালই কেটেছে।’

টেস্ট ম্যাচ জিততে পেস বোলারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের দলে পেসাররা তেমন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে না। পেসারদের এই বিষয়গুলো নিয়ে আলাদা কাজ করার প্রয়োজন আছে কিনা- জানতে চাইলে শহীদ দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘পেস বোলারদের নিজেদের নিয়ে আরও কাজ করা প্রয়োজন। আমাদের দেশের উইকেট যেমন তাতে করে পেসারদের বোলিং করাটা কঠিন। উইকেটের কারণে একজন পেসার যদি ডট বল না পায়, সে (পেসার) মানসিকভাবেই পিছিয়ে পড়ে। ডট বল হলে পেসাররা আরও স্পিড পায়; কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেটগুলোর জন্য আসলে আমাদের পেসারদের কিছুই করার থাকে না।’

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/জেডটি/এজেড/মে ১২, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে