thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০

সাদা পোশাকে মুশফিকের ১০ বছর

২০১৫ মে ২৬ ২০:৪১:২০
সাদা পোশাকে মুশফিকের ১০ বছর

রবিউল ইসলাম, দ্য রিপোর্ট : ১৯৮৭ সালের ৯ মে বগুড়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও বর্তমানে কেবল টেস্ট দলের নেতৃত্বেই রয়েছেন তিনি। মুশফিক বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) ছাত্র ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুশফিক ইতিহাস বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেছেন। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (এইচপি) প্রোগ্রাম থেকে উঠে আসেন জাতীয় দলের এই তারকা ব্যাটসম্যান। জাতীয় দলে তার অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই মিডলঅর্ডার ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম নির্ভরতার নাম মুশফিকুর রহিম। শুধু তাই নয়, খালেদ মাসুদ পাইলটের পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সফল উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যানের আসনটি নিজ দখলে নিয়েছেন ‘রান মেশিন’ বলে খ্যাতি অর্জন করা মুশফিক।

২০০৫ সালের ২৬ মে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল মুশফিকের। মঙ্গলবার টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০ বছর পূর্তি হয়েছে মুশফিকের। ২০০৫ সালেই মুশফিক প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে সুযোগ পান। আর ইংল্যান্ডের মাটিতে ওটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম সফর। অপরিচিত পরিবেশ এবং স্বাগতিকদের পেস বোলিং মোকাবেলায় বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের স্বাভাবিকভাবেই যথেষ্ট ভুগতে হয়েছিল। প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলে মুশফিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে ইংলিশ কাউন্টি দল সাসেক্সের বিপক্ষে তিনি ৬৩ রানের ইনিংসও খেলেছিলেন। অন্যদিকে আরেক কাউন্টি দল নটিংহ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ১১৫ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন তিনি।

এরই পুরস্কার হিসেবে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন মুশফিক। সেদিনের তরুণ ছেলেটি প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯ রানেই আউট হয়েছিলেন। আর বাংলাদেশ দল অলআউট হয়ে গিয়েছিল ১০৮ রানে। জাভেদ উমর বেলিম আর আফতাব আহমেদ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরেও পৌঁছতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩ রান করেই ইংলিশ অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন মুশফিক। গোড়ালির ইনজুরিতে পড়ে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো তার পক্ষে আর খেলা সম্ভব হয়নি।

টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ১০ বছর পূর্তিতে মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক ফ্যানপেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মুশফিক। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আজকের (মঙ্গলবার) এই দিনে বাংলাদেশের হয়ে আমার অভিষেক হয়েছিল ১০ বছর আগে। চেষ্টা করেছি ভাল কিছু করার। বাবা-মা, ভাই-বোন, পরিবারের অন্য সবাইকে আমার সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই আমার বন্ধুদের। বগুড়া জিলা স্কুল, বিকেএসপি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই। আমার শিক্ষকদের-কোচদের ধন্যবাদ জানাই। আর সব থেকে বেশি ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের মানুষকে, যারা আমার এবং দলের পাশে ছিলেন। এভাবেই আমাদের সমর্থন করতে থাকুন। ইনশা আল্লাহ আমরা এর প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই অধিনায়ক নিজের যোগ্যতা ও প্রতিভার প্রমাণ রেখেই ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে তিনিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩২১ বল খেলে ২২ চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ২০০ রান করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত মাসে খুলনা টেস্টে তামিমের ২০৬ রানের আগে এটাই ছিল টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। টেস্টের ইতিহাসে মুশফিক অষ্টম উইকেটরক্ষক হিসেবে এবং ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরিটি করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মুশফিক বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যুব দল কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলার গৌরব অর্জন করেছিল। একই বছর জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক আবার জাতীয় দলে সুযোগ পান। সে সফরে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিক তার প্রথম অর্ধশতকের দেখা পেয়েছিলেন। পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য খালেদ মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হন মুশফিক। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ম্যাচ খেলে যাচ্ছেন; দলকে উপহার দিচ্ছেন অসংখ্য সাফল্য।

মুশফিক ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত ৪৫ টেস্টে ৩২.৩৪ গড়ে ২,৫৫৫ রান করেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ওই ২০০ রান। ৩টি সেঞ্চরির পাশাপাশি মুশফিকের রয়েছে ১৪টি হাফসেঞ্চুরি। মুশফিক অস্ট্রেলিয়া ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে সবগুলো দলের বিপক্ষেই টেস্ট খেলেছেন। ভারতের বিপক্ষেই তার সাফল্য বেশি। প্রতিবেশী দেশটির বিপক্ষে তার ব্যাটিং গড় ৬১.৬৬।

মুশফিকের টেস্ট ক্যরিয়ার :

প্রতিপক্ষ

ম্যাচ

ইনিংস

মোট রান

সর্বোচ্চ

গড়

সে/হা.সে

ইংল্যান্ড

১০

২৬৯

৯৫

২৬.৯০

০/২

ভারত

১৮৫

১০১

৬১.৬৬

১/০

নিউজিল্যান্ড

১১

২৫৩

৭৯

২৩.০০

০/২

পাকিস্তান

১৯০

৫৩

২৩.৭৫

০/১

দ.আফ্রিকা

১৪৫

৬৫

১৮.১২

০/১

শ্রীলঙ্কা

১৬

৫৮২

২০০

৪১.৫৭

১/৩

ও.ইন্ডিজ

১৬

৫৫৮

১১৬

৩৯.৮৫

১/২

জিম্বাবুয়ে

১২

৩৭৩

৯৩

৩৩.৯০

০/৩

সর্বমোট

৪৫

৮৫

২৫৫৫

২০০

৩২.৩৪

৩/১৪

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/জেডটি/এজেড/মে ২৬, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে