thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

‘লুটেরা শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার’ বাজেট : বামদল

২০১৫ জুন ০৪ ২০:২৭:৫৪
‘লুটেরা শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার’ বাজেট : বামদল

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ২০১৫-১৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বামদলগুলো।


বামনেতারা জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেট প্রস্তাবনাকে সাম্রাজ্যবাদ, লুটেরা ও ধনিক শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার একটি গতানুগতিক দলিল হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বৃহস্পতিবার বাজেট পরবর্তী এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বাজেট প্রস্তাবনার ভিত্তি হলো পুঁজিবাদের নয়া-উদারবাদী প্রতিক্রিয়াশীল দর্শন। এ বাজেটে প্রবৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে গরিব জনগণের সম্পদ মুষ্ঠিমেয় লুটেরা-ধনিকের হাতে প্রবাহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে কথার ফুলঝুরি ও মিথ্যা আশ্বাসে ভরা লোক দেখানো মনোতুষ্টির নিষ্ফল প্রয়াস চালানো হলেও, এ কথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে বাজেটের আসল লক্ষ্য হলো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশী-বিদেশী লুটপাটকারীদের পকেট ভারি করা।’

সিপিবি মনে করে, বাজেটের অর্থের বেশীরভাগ খরচ হবে পূর্বেকার ঋণ পরিশোধ, শ্বেতহস্তির মতো বিশাল সিভিল-মিলিটারি প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণ, বিলাস দ্রব্য আমদানি, অপচয়, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকারের সিস্টেম লস, কর-রেয়াতের নামে ধনিক শ্রেণীকে বিশাল ভর্তুকী প্রদান ইত্যাদি কাজে। এ সবই হলো লুটেরা ধনিক শ্রেণীর স্বার্থে গৃহীত পদক্ষেপ। এর বাইরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবারও অব্যাহত রাখার মাধ্যমে অর্থনীতিতে লুটপাটের ধারা আরও জোরদার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জান প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ধনীকে আরও ধনী এবং গরিবকে আরও গরিব করা, ধনী-গরিব বৈষম্য ও শ্রেণী বৈষম্য বৃদ্ধি করা, সামাজিক অস্থিরতা ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি করা ইত্যাদি হবে এ বাজেটের ফলাফল। শুধু তাই নয়, এ বাজেট দেশের অর্থনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ ও বিদেশ নির্ভরতা বৃদ্ধি করে জাতির অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নৈরাজ্য, অস্থিতিশীলতা ও নাজুকতা বাড়িয়ে তুলবে।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ঘোষিত বাজেট মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক দিকদর্শনের ভিত্তিতে রচিত হয়নি। উপনিবেশিক ধাঁচের গণবিচ্ছিন্ন ও জবাবদিহিতাবিহীন রাষ্ট্র প্রশাসন বহাল থাকার কারণে উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ করা অধিকাংশ অর্থই লুট হবে।
জেএসডি নেতারা স্থানীয় সরকারের হাতে উন্নয়ন বরাদ্দের শতকরা ৩০ ভাগ প্রদানের দাবি জানিয়ে উন্নয়ন খাতে লুটপাট বন্ধ করার জন্য গণসম্পৃক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক উন্নয়ন প্রশাসন গড়ে তোলার প্রস্তাবনা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
এ ছাড়া সাতটি বামদলের সংগঠন গণতান্ত্রিক বামমোর্চাও এক বিবৃতিতে প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে। এ নিয়ে জোটটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।


(দ্য রিপোর্ট/সাআ/এমএআর/এইচ/জুন ০৪, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর

রাজনীতি - এর সব খবর