thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০

‘আমি ভিলিয়ার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী নই’

২০১৫ জুন ০৮ ২০:০০:২২
‘আমি ভিলিয়ার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী নই’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ব্র্যাডম্যান হিসেবে ইতোমধ্যেই খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। এই তো একদিন আগে উইজডন ইন্ডিয়া তাকে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু ব্র্যাডম্যান নয়, অনেকে আবার তাকে বাংলাদেশের লিটল মাস্টার বলেও ডাকতে শুরু করেছেন। সেই লিটল মাস্টার মুমিনুল হকের সামনে বর্তমানে একটি অন্যন্য রেকর্ডের মালিক হওয়ার হাতছানি; ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট ম্যাচে একটি হাফসেঞ্চুরি করতে পারলেই রেকর্ডের মালিক হয়ে যাবেন তিনি। রেকর্ডটি হচ্ছে, টানা ১২ টেস্টে অন্তত একটি করে হাফসেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব। অবশ্য, ইতোমধ্যেই একজন সেই রেকর্ডের মালিক হয়ে বসে রয়েছেন। স্যার ভিভ রিচার্ডসদের আমলের কোনো ব্যাটসম্যান কিংবা হালের শচিন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারারা যা পারেননি, তাই করে দেখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স। ফলে ভারতের বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি করতে পারলে ভিলিয়ার্সের সঙ্গে যৌথভাবে রেকর্ডটি ভাগাভাগি করতে হবে মুমিনুলকে।

তবে রেকর্ডের ক্ষেত্রে পাশাপাশি বসতে পারলেও বাস্তবতার নিরিখে মুমিনুল নিজেকে কি ভিলিয়ার্সের সমকক্ষ মনে করেন? কিংবা, ভিলিয়ার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী কি তিনি হতে পারবেন? না, মুমিনুল এমন করে ভাবেন না। আর নিজেকে তিনি ভিলিয়ার্সের প্রতিদ্বন্দ্বীও মনে করেন না।

সোমবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনুশীলন শেষে এই বিষয়ে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমি তো উনার (এবি ডি ভিলিয়ার্স) আশপাশেই নেই। আপনারা ভাল করেই জানেন, উনি সব ফরম্যাটেরই রাজা। আমি মনে করি না যে আমি উনার প্রতিদ্বন্দ্বী।’ মুমিনুল আরও যোগ করেছেন, ‘সামনের টেস্টে আমার সুযোগ আছে রেকর্ডটিতে ভাগ বসানোর। কিন্তু আমি এটা নিয়ে মোটেও ভাবছি না। আগের ম্যাচগুলোতে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলতে চাই। তাতে করে কার পাশেও বসার থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই ঘটবে। তবে আমি নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য খেলছি; কারো পাশে বসার জন্য নয়।’

টেস্টে ব্যাটিং ধারাবাহিকতা দেখালেও ওয়ানডেতে মুমিনুল যেন ঠিক ততটা উজ্জ্বল নন। এখন অবধি ২৬টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে ২৩.৬০ গড়ে করেছেন ৫৪৩ রান। যেখানে ১৪ টেস্টের ২৭ ইনিংসে ৪টি সেঞ্চুরি ও ৯টি হাফসেঞ্চুরিসহ তার রান ১৩৮০। গড়ও দুর্দান্ত; কাঁটায় কাঁটায় ৬০। তাই অবস্থাদৃষ্টে মনে হতে পারে, মুমিনুল আসলে টেস্ট বিশেষজ্ঞ। ওয়ানডেতে তিনি যেন ঠিক ফিট নন। এমন আলোচনা কি মুমিনুল মেনে নিতে পারেন? এর উত্তরে সহজ-সরল পথে কথা বলার গুনে গুণান্বিত কক্সবাজারের ২৩ বছর বয়সী এই কৃতী ক্রিকেটার বলেছেন, ‘মেনে নেওয়া, না নেওয়ার কিছু নেই। বর্তমানে টেস্টে ভাল করছি বলেই অনেকে বলছে, আমি টেস্ট খেলোয়াড় হয়ে গেছি। আবার হয়তো অন্য ফরম্যাটে ভাল করলে ওটাতেও ভাল বলবে। আসলে যেখানে আমার দুর্বলতা রয়েছে, আমি চেষ্টা করছি তা জয় করার। এখন এটা নিয়ে বেশি ভাবতে গেলে সবকিছুই খারাপ হবে।’

ভারতের বিপক্ষে এই প্রথম টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছেন; কেমন লাগছে তার? উত্তরে মুমিনুল বলেছেন, ‘প্রত্যেকটা ম্যাচের আগেই ভাবনা কাজ করে। চিন্তা থাকে, ভাল খেলতে হবে; রান করতে হবে। এখনও ওই রকমই অনুভূতি কাজ করছে। অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে খেলার সময় যেমন, তেমনটাই ফিল করছি।’

ভারতের বোলিং সম্পর্কে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ভারতের বর্তমান বোলিং লাইনআপ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভাল। ওদের দলের ২ জন স্পিনারই কোয়ালিটিফুল। একজন অনেক দিন ধরেই খেলছেন। আর অশ্বিনও ভাল করছেন। তবে এ নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না। আমি মনে করি, তাদের বিপক্ষে খেলতে গেলে কিছু শিখতে পারব। যা ভবিষ্যতে কাজে দিবে।’

ফতুল্লার উইকেট সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, উইকেট একটু স্লো হতে পারে। তবে পরশু দিন খেলার সময় প্রকৃত অবস্থা বুঝা যাবে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের ফেভারিট বলেছিলেন; ভারতের বিপক্ষে দলের মানসিকতা আসলে কি? এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘শেষ সিরিজে আমরা ভাল ক্রিকেট খেলেছি। যদিও বা শেষ টেস্ট ম্যাচটা আমরা খারাপ খেলেছি। ওয়ানডে সিরিজে আমরা তাদের (পাকিস্তান) হোয়াইটওয়াশ করেছি। টোয়েন্টি২০ জিতেছিলাম। একটা সিরিজে ভাল করলে সবার আত্মবিশ্বাস ভালই থাকে। আমরা এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আছি। সবাই চেষ্টা করছে যার যার জায়গায় উন্নতি করার।’

আপনাকে অধিনায়ক করা হলে আপনি ভারতের বিপক্ষে কেমন রেজাল্ট প্রত্যাশা করবেন? এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, জয় পেলেই ভাল হয়।’

গরমের কারণে ম্যাচের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি? এর উত্তরে মুমিনুল বলেছেন, ‘মাঝে মাঝে ক্রিকেট খেলতে গেলে কোনো কোনো জায়গায় অতিরিক্ত ঠাণ্টা কিংবা অতিরিক্ত গরম পড়ে। এগুলো কন্ট্রোলের বাইরে। এটাকে কন্ট্রোল করার কোনো মাধ্যম নেই। এই কারণে আমরা অনুশীলনের সময় অতিরিক্তি রানিং করছি। যা আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করছে।’

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন জগতে মুমিনুলের গৌরবময় আগমন। পরের ম্যাচেও করেছিলেন হাফসেঞ্চুরি। নিজের তৃতীয় টেস্টে অবশ্য হাফসেঞ্চুরি পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরের মাসেই মানে ২০১৩ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টের দুই ইনিংসে করেছিলেন ২৩ ও ২৯ রান। এরপর থেকে টানা ১১টি টেস্টে অন্তত একটি করে হলেও হাফসেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের ব্র্যাডম্যান মুমিনুল।

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/জেডটি/জুন ০৮, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে