thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫,  ৭ মহররম ১৪৪০

মুস্তাফিজের চোখ কোহলির উইকেটে

২০১৫ জুন ১৪ ১১:৪৫:১৩
মুস্তাফিজের চোখ কোহলির উইকেটে

রবিউল ইসলাম, দ্য রিপোর্ট : বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এক নক্ষত্র মুস্তাফিজুর রহমান। অভিষেক ম্যাচেই নিজের প্রতিভার প্রমাণ রেখেছেন বাঁহাতি এ পেসার। সাতক্ষীরা থেকে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলে উঠে এসেছেন এই তরুণ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র্র টোয়েন্টি২০ ম্যাচে স্বপ্নের মতো অভিষেক হয়েছিল মুস্তাফিজুরের। ওই ম্যাচে ৪ ওভার বল করে ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ২টি উইকেট। এমন পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও (বিসিএল) ভাল বোলিং করেছেন। পরে ২২ জনের হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের পেস বোলিং বিভাগেও সুযোগ পেয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভাল খেলার ধারাবাহিকতায় ভারতের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১৪ জনের দলে সুযোগ পেয়েছেন মুস্তাফিজ। সুযোগ পেয়ে নিজেকে বিশ্ব তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।

দলে সুযোগ পাওয়া মুস্তাফিজুর রহমান রবিবার সকালে তার স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন দ্য রিপোর্টের সঙ্গে। মুস্তাফিজের প্রত্যাশা ভারতের বিপক্ষে মূল একাদশে সুযোগ পেলে বিরাট কোহলিকে আউট করা। নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘একাদশে সুযোগ পেলে আমার প্রথম স্বপ্ন পূরণ হবে। এরপর দ্বিতীয় স্বপ্ন কোহলিকে সাজঘরে ফেরানো। চেষ্টা থাকবে শুরু থেকেই কোহলিকে বিপদে ফেলার। ওর দুর্বলতাগুলো নিয়ে কাজ শুরু করব। চেষ্টা করব সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজানোর। কোহলি ক্রিকেটের সুপার স্টার, তাকে নিয়েই মূলত আমার ভাবনা।’

জাতীয় দলেরে হয়ে অভিষেক হয়েছে এক মাস আগে। এবারের অনুভূতিটা তাই সাদামাটা। তবে ভিন্ন ফরম্যাটে খেলা বলেই তাকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ থাকছে। যদিও এ নিয়ে খুব উচ্ছ্বাস প্রকাশ পায়নি তার কণ্ঠে। সাবলীলভাবে বলেছেন, ‘সুযোগ পেয়ে খুব ভাল লাগছে। পাকিস্তান বড় দল ছিল; তাদের সঙ্গে টোয়েন্টি২০তে অভিষেক হয়েছে। ভারতও শক্তিশালী দল। এই দলের সঙ্গে যদি অভিষেক হয় তাহলে আরও ভাল লাগবে। এখানে অনেক সুযোগ থাকবে আমার ভাল বোলিং করার ক্ষেত্রে। ওই ম্যাচটি ছিল ৪ ওভারের আর এটি ১০ ওভারের। এখানে আমি ভাল বোলিং করার সুযোগ বেশি পাব।’

বড় ভাইয়েরা মুস্তাফিজকে অনেক উৎসাহ দেন। তাদের উৎসাহে ক্রিকেটে একটা স্তর পার হয়ে এসে নতুন আর একটা স্তরে নিজের নাম এরই মধ্যে লিখিয়েছেন তিনি। হয়ত ১৮ তারিখে শুরু হওয়া ভারতের বিপক্ষে একদিনের ম্যাচে অভিষেক হয়ে যেতে পারে মুস্তাফিজুর রহমানের। এই সবকিছুর জন্যই ভাইদের অবদানের কথা জানালেন তিনি। মুস্তাফিজুর বলেছেন, ‘আমার পরিবারের সবাই আমাকে সব সময় উৎসাহ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে আমার ভাইয়েরা। আমি কী করছি না করছি এ সব নিয়ে তারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন।’

মুস্তাফিজুরের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ডেলিভারি হল কাটার। টোয়েন্টি২০ ম্যাচের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিকে এ কাটারের ফাঁদেই ফেলেছিলেন তিনি। এছাড়া বাউন্স এবং ইয়র্কারেও বেশ পারদর্শী এই বাঁহাতি পেসার। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাটার খুব ভাল হয়। এটা নিয়ে অনেক কাজ করছি। এ ছাড়া যখন তখন ইয়র্কার দেওয়ার চেষ্টাও করে যাচ্ছি। বাড়িতে গেলেও এগুলো আমি অনুশীলন করি। যদিও সেখানে পিচ নেই। তারপরও সেখানেও ইয়র্কার কিংবা কাটার অনুশীলন করি। সময় পেলেই আসলে এগুলো নিয়ে কাজ করি।’

কোহলি ছাড়া ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে আলাদা কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা- এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘ওইরকম কিছু আসলে নেই। আমার কথা হল সুযোগ পেলে সর্বোচ্চ কাজটুকু করে আসতে চাই। দলের জয়ে অবদান রাখতে চাই।’

ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা উপমহাদেশের কন্ডিশনে অসাধারণ খেলে। পেস ও স্পিন দুই ধরনের আক্রমণের বিপক্ষে ওদের ব্যাটসম্যানরা সব সময়ই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। এমন একটি দলের বিপক্ষে যেহেতু অভিষেক হচ্ছে নিশ্চয়ই কোনো রোমাঞ্চ কাজ করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই, অনেক বেশি রোমাঞ্চ কাজ করছে। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষেও রোমাঞ্চ কাজ করেছিল। এবারও তাই করছে। আমি খুব ভাগ্যবান এশিয়ার ভাল দুই দলের সঙ্গে আমি সুযোগ পেয়েছি। এটা অবশ্য আমার জন্যও খুব চ্যালেঞ্জের। আমার চেষ্টা থাকবে- এ চ্যালেঞ্জটাই জয় করা।’

ভারতের বিপক্ষে একটা ম্যাচ জিতলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আপনি সুযোগ পেলে নিজের বোলিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন নিশ্চয়ই। এমন একটি সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দলে সুযোগ পেলেন। নিশ্চয়ই তার বিশেষ কোনো অনুভূতি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই। এই স্বপ্নটা দেখা শুরু করেছি। দেশের জন্য এমন অর্জন করতে পারলে আমার অবশ্যই ভাল লাগবে। যদি সুযোগ আসে চেষ্টা করব, সেরা কিছুই করার।’

অনেক দিন ধরে নেট বোলিং করেছেন, এছাড়া পাকিস্তান সিরিজে ২-৩ দিনের জন্য ক্যাম্পেও ছিলেন। বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের সঙ্গে আপনার বোলিং নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা- এ প্রশ্নে মুস্তাফিজুর বলেছেন, ‘আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা শেষ করার পর থেকেই নেটে নিয়মিত বোলিং করেছি। এছাড়া সুজন স্যার (খালেদ মাহমুদ সুজন) আমাকে প্রায়ই বলেন নেটে আসতে। আমি সুযোগ পেলেই নেটে চলে যাই। হিথ স্ট্রিকের সঙ্গে সেভাবে কোনো কথা হয়নি। তিনি বোলিং করার হাত বেঁকে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন। হাতটা সোজা রাখলে অনেক ভাল বোলিং হবে। চেষ্টা করছি সেই অনুযায়ী কাজ করার।’

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/সিজি/শাহ/জুন ১৪, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে