thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫,  ১২ মহররম ১৪৪০

জুয়েল রানা : ফুটবল জাগরণের নতুন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

২০১৫ জুন ১৭ ২০:২৯:০৩
জুয়েল রানা : ফুটবল জাগরণের নতুন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

খাদেমুল ইসলাম, দ্য রিপোর্ট : বাংলাদেশে চমক দিয়ে অনেক ফুটবলারের সৃষ্টি হয়। কিন্তু যেভাবে চমকে শুরু, ঠিক সেভাবে শেষ হয় না। আছে ব্যতিক্রমও। দীর্ঘদিন জাতীয় দলে অবদান রাখছেন এমন যে একেবারে নেই, তা নয়। তবে চোখ ধাঁধিয়ে যারা আসেন তাদের নিয়ে তোলপাড় হওয়াটাই স্বাভাবিক।

জাতীয় দলে এবার চমক হিসেবে উঠে এসেছে জুয়েল রানার নাম। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের হয়ে খেলা এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে আশার বাতিঘর দেখছেন অনেকেই। ক্লাব হয়ে এখন জুয়েল বাংলাদেশের আশা-আলো তারকা। সেই আশার প্রতিফলন দেখাতে উদগ্রীব জুয়েল রানাও। পরিণত ফুটবলার হয়ে দীর্ঘ সময় দেশের হয়ে খেলতে চান তিনি। হতে চান বাংলাদেশের ফুটবল জাগরণের নতুন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষেই বাড়ির পথ ধরেছেন। রাত সাড়ে ৩টায় পৌঁছে গেছেন ঝিনাইদহের অচিন্তানগর গ্রামে; নিজ বাড়িতে। দু’দিনের সংক্ষিপ্ত ছুটি কাটিয়ে ২০ জুন যোগ দেবেন ক্লাবের অনুশীলনে। উদ্দেশ্য, ২৬ জুন শুরু হতে যাওয়া পেশাদার লিগের দ্বিতীয় লেগের জন্য প্রস্তুতি। গ্রাম থেকেই সেলফোনে দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছেন ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা।

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াহেদ আহমেদ ও তকলিস আহমেদের কথা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। মোহামেডানে গত মৌসুমে ১৫ গোল করে ওয়াহেদ চমকে দিয়েছেন সবাইকে। খ্যাতি পেয়েছিলেন ‘সুপারস্টার’-এর। একই ভাবে ২ বছর আগে তকলিস আহমেদও সাড়া জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ২ বছরের মধ্যে অনেকটাই নিষ্প্রভ তারা। এমনকি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে দলে জায়গাই হয়নি তাদের।

ব্যতিক্রমও আছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে নজর কেড়েছিলেন হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস। জাতীয় দলে আক্রমণভাগে এখন অন্যতম ভরসা এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচটিতে খেলেছেন অসাধারণ। ইনজুরির খরা কাটিয়ে স্বরূপে ফিরেছেন তিনি।

এক ঝলক দিয়েই আড়ালে চলে যেতে চান না জুয়েল রানা। দলের সিনিয়র খেলোয়াড় ও কোচ সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এগিয়ে যেতে চান জুয়েল। বলেছেন, ‘মামুনুল ভাই আমাকে বলেছেন জিম করে ফিটনেস বাড়াতে। শরীর গঠনের জন্য খাওয়া-দাওয়াসহ সবকিছুর ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন। ক্লাবের কোচ আছেন। সবার পরামর্শ নিয়ে এগোতে চাই। অনেক দিন দেশের জন্য খেলতে চাই। দেশের গৌরবে অবদান রাখতে চাই।’

এখনও লাজুক প্রকৃতির ভাবটা কাটেনি। কাটেনি গ্রাম ছেড়ে আসার মায়া। গাঁও-গেরামের হিজল-তমালের ঘ্রাণ চোখ বুজলে এখনো অনুভব করেন। পেশাদার লিগ শেষ করে সতীর্থরা ছুটিতে গেলেও জাতীয় দলে খেলতে গিয়ে ছুটি পাননি জুয়েল। তাই স্বল্প সময়ের জন্য ফিরে গেছেন গ্রামে।

বাড়িতে পৌঁছেই স্বজনদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন জুয়েল। বাড়ি যাওয়ার পর ছেলেকে ধরে চুমু খেয়েছেন নিরেট গৃহিণী মা জুলেখা খাতুন। উৎফুল্ল কৃষক বাবা হাফিজুর রহমানও। বাড়ি যাওয়ার পথেই বাবা-মাসহ সবার জন্য কিনে নিয়ে গেছেন মিষ্টি। নিজ হাতে খাইয়েছেন। প্রতিবেশী স্বজন সবাই যার ফুটবল নৈপুণ্য টেলিভিশনে দেখেছেন, তাকে কাছে পেয়ে দারুণ প্রাণিত-উজ্জীবিত। জাতীয় দলে খেলার পর প্রথম বাড়ি গেছেন জুয়েল। তাই বন্ধুদের কাছেও বেড়ে গেছে কদর। বন্ধুবান্ধব ও এলাকার ছেলেদের নিয়ে তাই চলে গেছেন মাঠে। সেখানে এলাকার ছেলেদের খেলা দেখবেন তিনি। বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাঠ পর্যন্ত যাওয়ার এই পথটুকু যেতে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময়ও হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে জুয়েল রানা নিজেই যেন নিজেকে নতুনভাবে ফিরে পেয়েছেন।

জুয়েল রানা বলেছেন, ‘এবার বাড়ি এসে খুব ভাল লাগছে। প্রতিবেশী-স্বজন-বন্ধুরা দেখা করতে আসছেন। অনেকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। অনেকে মাঠে আসবে, সেখানে সব বন্ধুর সঙ্গে দেখা হবে। আড্ডা হবে। সবাই খেলা দেখেছে। প্রশংসা করেছে। সব মিলিয়ে এবার বাড়ি আসার অনুভূতিটা সত্যি অন্যবারের থেকে ভিন্ন।’

স্বজনদের এই বরণোৎসব শুধু আবেগের নয়। আছে বাস্তব কারণও। যার প্রমাণ মেলে সহকারী কোচ সাইফুল বারী টিটুর কথায়ও, ‘ম্যাচে জুয়েল রানা পুরোটাই দিয়েছে। সত্যি ওর খেলায় আমি মুগ্ধ।’

জুয়েল রানার গড়ে ওঠার দায়িত্বটা এখন যার হাতে বেশি তিনি মোহামেডানের কোচ জসিম উদ্দিন জোসি। দলবদলের পরই বলেছিলেন, ‘আমাদের দলে তারকা নেই। বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় আছে। আমরা এদের গড়ে তুলে তারকা সাপ্লাই দিতে পারব।’

জসিম উদ্দিন জোসির সেই কথা এবার প্রমাণিত হয়েছে মাঠে। জুয়েল রানা প্রমাণ করে দিয়েছেন, জহুরীর হাতে পড়লে কাদামাটি থেকেও তারকা ফুটবলারের জন্ম হতে পারে। ব্রাদার্স থেকে সম্ভাবনা দেখেই আনা হয়েছিল মোহামেডানে।

সামনে কীভাবে ‍জুয়েল রানাকে নিয়ে কাজ করতে চান জসিম উদ্দিন জোসি। বলেছেন, ‘আমার মতে সেই পরিণত ফুটবলার, যে মাঠে নিজের দায়িত্ব ভালভাবে পালন করতে পারে। আমাদের দেশে অনেক ফুটবলারই এসেছে, কিন্তু স্থায়ী হয়নি। সেদিক থেকে মামুনুল-এমিলিকে বলা যায় পরিণত, যারা দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলেছে। জুয়েলকে সেভাবে তৈরি করতে আমরা কাজ করছি, যাতে অনেক দিন জাতীয় দলে খেলতে পারে। নিজের লাইফ স্টাইল ঠিক রাখতে পারলে সে বাংলাদেশের একজন তারকা হয়ে উঠতে পারবে।’

ফুটবলে তরুণ স্বপ্রতিভ আগমন আশাব্যঞ্জক। সঙ্গে নিজেদের স্থায়িত্ব ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। চমক জাগানো জুয়েল রানা জাতীয় দলে অনেক দিন টিকে থাকুক এমন প্রত্যাশাই সবার।

(দ্য রিপোর্ট/কেআই/এএস/সিজি/এজেড/জুন ১৭, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

M

M

SMS Alert

ফুটবল এর সর্বশেষ খবর

ফুটবল - এর সব খবর



রে