thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

সবার ভালবাসায় সিক্ত মুস্তাফিজ

২০১৫ জুন ১৯ ২০:৫৯:৪৪
সবার ভালবাসায় সিক্ত মুস্তাফিজ

রবিউল ইসলাম, দ্য রিপোর্ট : অভূতপূর্ব ভালবাসায় সিক্ত হচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আসলে এমনটাইতো হওয়ার কথা। বৃহস্পতিবার মিরপুরের মাঠে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের যেভাবে নাকানি-চুবানি খাইয়েছেন বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার; তাতে করে এমন ভালবাসায় সিক্ত হওয়ারই তো কথা সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের ছেলে ‍মুস্তাফিজের।

ভারত বধের বাংলাদেশী নায়ককে নিয়ে ভারতীয় সবগুলো গনমাধ্যমই ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। সবগুলো পত্রিকা মুস্তাফিজকে নিয়ে বড় আকারের স্টোরি করেছে। শুক্রবারও বাংলাদেশে আসা ভারতীয় সাংবাদিকরা ব্যস্ত রেখেছেন মুস্তাফিজকে।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট শেষ করে জাতীয় দলের নেটে মাঝে মধ্যেই বোলিং করতেন মুস্তাফিজুর রহমান। সেখানেই নির্বাচকদের নজরে আসেন তিনি। অথচ এক মাস আগেও কেউ এই নামটা জানতো না। এখন পুরো বাংলাদেশের মানুষ মুস্তাফিজুর রহমানকে চেনে। এটাই মুস্তাফিজের প্রাপ্তি অভিষেক ম্যাচে।

৯.২ ওভার বল করে নিজের অভিষেক ম্যাচে ৫০ রান খরচায় নিয়েছেন ৫টি উইকেট। বৃহস্পতিবার পাওয়া তার এমন সাফল্যের রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে আর মাত্র একজনের। তিনিও তরুণ পেসার; তাসকিন আহমেদ। তবে তাসকিন যে ম্যাচে (গত বছর) এমন কীর্তি করে দেখিয়েছিলেন, ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু মুস্তাফিজুরের কীর্তির ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেয়েছে ৭৯ রানের দুরন্ত এক জয়। মুস্তাফিজুর রহমান তাই এখন জাতীয় হিরো; ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের ভালবাসার মানুষ।

শুক্রবার রোজা রেখেছিলেন; ইফতার করেছেন মিরপুরে মামার বাসায়। অভিষেক ম্যাচের পারফরম্যান্সসহ আরও নানান বিষয় নিয়ে এদিন তিনি কথা বলেছেন দ্য রিপোর্টের সঙ্গে।

প্রশ্ন : রাতটুকু কেমন কেটেছে?

মুস্তাফিজ : হোটেলে ফেরার পর প্রথমে ঘুম আসছিল না; অনেক পরে ঘুম এসেছে। ম্যাচের পর ঘোরের মধ্যে আছি। একটা স্বপ্ন ছিল সেটাতো পূরণ হয়েছে।

প্রশ্ন : স্বপ্নটা কি ছিল?

মুস্তাফিজ : নিজেকে চেনাতে চাই। মুস্তাফিজ রহমান নামে একজন পেসার আছে, ক্রিকেট বিশ্ব এটা জানবে মনে প্রাণে এটা চেয়েছিলাম। আল্লাহ আমার ইচ্ছা পূরণ করেছে। খুব ভাল লাগছে।

প্রশ্ন : দলে সুযোগ পাওয়ার পর বলেছিলেন, কোহলির উইকেটটা আপনার বিশেষ পছন্দ। কিন্তু উইকেটটি আপনি নিতে পারেননি, নিয়েছেন তাসকিন; কোনো আক্ষেপ কাজ করছে কিনা?

মুস্তাফিজ : না, আক্ষেপ কেন কাজ করবে? ইচ্ছা ছিল, হয়নি; সমস্যা নেই। ৫টি উইকেট তো পেয়েছি, এটাই কম কি।

প্রশ্ন : ভারতীয় সকল গণমাধ্যমে আপনার ছবিসহ নিউজ ছাপা হয়েছে। কেমন লাগছে?

মুস্তাফিজ : খুব ভাল। এমন সাফল্য আসলে সবার ভাগ্যে থাকে না। আজকে (শুক্রবার) ওদের (ভারতীয়) অনেক সাংবাদিক আমাকে ফোন করেছে।

প্রশ্ন : টোয়েন্টি২০ পর বৃহস্পতিবার ওয়ানডে ম্যাচে নিজের কারিশমা দেখালেন। কতটা পরিবর্তন খুঁজে পেয়েছেন?

মুস্তাফিজ : খুব ভাল লাগছে। একটুও সময় পাচ্ছি না। আপনারা ফোন দিচ্ছেন। আত্মীয় স্বজন ফোন দিচ্ছে। সবার সঙ্গে কথা বলতে হচ্ছে। তবে খুব ভাল লাগছে। আমি খুব এনজয় করছি।

প্রশ্ন : এই ২ দিনের ব্যবধানে কতটা পরিবর্তন অনুভব করছেন নিজের মধ্যে?

মুস্তাফিজ : না, তেমন পরিবর্তন নেই। আমি আগেও মুস্তাফিজ ছিলাম, এখনও আছি। তবে কয়েকদিন আগেও আমাকে কেউ চিনতো না। এখন সবাই কম বেশি চিনে। আসলে আমি এটাই চেয়েছিলাম।

প্রশ্ন : ওয়ানডেতে স্বপ্নের মতো অভিষেক হলো। আসলে কেমন লাগছে?

মুস্তাফিজ : খুব ভাল লাগছে। সব ক্রিকেটারেরেই স্বপ্ন থাকে এমন অভিষেকের। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তাই বেশি ভাল লাগছে। তবে অভিষেকেই এমন সাফল্য পাব তা কখনোই ভাবিনি। আমার একমাত্র ভাবনা ছিল দলের জন্য শতভাগ উজাড় করে দেওয়া। সে জন্য চেষ্টা করেছি, তাই হয়তো সাফল্য এসেছে।

প্রশ্ন : অধিনায়ক যখন বল তুলে দিয়েছে তখন কোনো ভয় লাগেনি?

মুস্তাফিজ : না, কেন ভয় লাগবে; বরং আমি খুশিই হয়েছি। মাশরাফি ভাই আমার উপর আস্থা রেখেছেন।

প্রশ্ন : মাশরাফির নেতৃত্বে ২টি ম্যাচ খেলেছেন। কেমন অনুভূতি?

মুস্তাফিজ : মাশরাফি ভাই তো সবার প্রিয়। তিনি সবাইকে খুব উৎসাহ দেন। আমাকে খুব উৎসাহ দিয়েছেন। আসলে মাশরাফি ভাইয়ের আমার উপর খুব আস্থা ছিল। আমি খুব ভাগ্যবান মাশরাফি ভাইয়ের আস্থার প্রতিদান দিতে পেরেছি।

প্রশ্ন : ম্যাচ শেষে মাশরাফি কপালে চুমো খেল; মনে হয় লজ্জা পাচ্ছিলেন?

মুস্তাফিজ : সবার সামনে চুমো দিয়েছিল তাই তো একটু …। মাশরাফি ভাই আসলে সবার সঙ্গেই এমন করে। ছোট ভাইয়ের মতো সবাইকে আগলে রাখেন তিনি।

প্রশ্ন : ভারতের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল করতে নার্ভাস লেগেছে কিনা?

মুস্তাফিজ : মোটেও নার্ভাস লাগেনি। অন্যসব ম্যাচের মতোই স্বাভাবিক লেগেছে।

প্রশ্ন : বিশেষ কোনো পরিকল্পনা করে কি বোলিং করেছেন?

মুস্তাফিজ : আমার পরিকল্পনা ছিল ডট বল বেশি করে করা। আর বার বার কাটার মারা। সেই সঙ্গে মাথাটা ঠান্ডা রাখা।

প্রশ্ন : কোহলির উইকেট নিতে পারেননি; এই ৫ উইকেটের মধ্যে কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?

মুস্তাফিজুর : আমার কাছে সবগুলো উইকেটই মূলবান। সবগুলোই সেরা।

প্রশ্ন : আপনার কোন অস্ত্রটাকে ভারত বধে ভূমিকা রেখেছে?

মুস্তাফিজ : আমার মূল অস্ত্র অফ কাটার। এই অস্ত্র দিয়েই মূলত চেষ্টা করেছি। হয়তো এই কারণেই সফলতা পেয়েছি।

প্রশ্ন : কাকে আইডল মানেন?

মুস্তাফিজ : পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমির আমার আদর্শ বোলার। তাঁকেই অনুকরণ করার চেষ্টা করি।

প্রশ্ন : ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে আপনার ধাক্কা লাগা নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা। এ সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি।

মুস্তাফিজ: আসলে আমারই ভুল ছিল। এ জন্য ধোনিকে দায়ী করা ঠিক হবে না। বল করতে গিয়ে ব্যাটসম্যানের লাইনে চলে গিয়েছিলাম বলেই ধাক্কাটা লেগেছে। পরে ধোনির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা ব্যাপারটা মিটমাট করে নিয়েছি।

প্রশ্ন : কিন্তু আপনাকে তো ব্যথা পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছিল?

মুস্তাফিজ : হ্যাঁ, ব্যথা পেয়ে কিছুক্ষণের জন্য মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিলাম। অবশ্য কিছুক্ষণ পরই আবার মাঠে ফিরেছি।

প্রশ্ন : আপনার সেরা অস্ত্র অফ কাটার রপ্ত করেছেন কীভাবে?

মুস্তাফিজ : বিজয় ভাইয়ের কাছ থেকে অফ কাটারটা শিখেছি। উনি আমাকে বুদ্ধি দিয়েছিলেন এটা অনুশীলন করতে।

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/কেআই/জেডটি/জুন ১৯, ২০১৫

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর