thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৩ মহররম ১৪৪০

আই এ্যাম হ্যাপি উইথ মাই সান

২০১৫ জুন ২১ ০০:০২:১৪
আই এ্যাম হ্যাপি উইথ মাই সান

প্রথমেই একটা কথা বলে নিতে চাই। বাবা দিবস, মা দিবস, ভালোবাসা দিবস— এগুলোর কোনোটাই আমার কাছে পছন্দ নয়। আমাদের সমাজে যে মূল্যবোধ ছিল সেগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলোকে সারাবছরের মধ্য থেকে এক দিনের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এগুলো আমি পছন্দ করি না। প্রত্যেক বাবা মা-ই চান তাদের ছেলেমেয়েরা শুধু বাবা দিবস, মা দিবস বা বিশেষ দিবসে সম্মান না করে ভালোবাসুক, সম্মান করুক প্রতিটি মুহূর্ত।

তথাকথিত বাবা দিবসে ছেলেকে নিয়ে যদি বলতেই হয় তাহলে বলব, আমি আমার ছেলে ইয়ুল রাইয়ানকে একজন ভালো মানুষ বানাতে চেয়েছি। আমি চেয়েছি সে হবে শিক্ষিত, মার্জিত ও রুচিসম্মত। অনেক বাবাই চান সন্তান বড়লোক হোক, সমাজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হোক, নামকরা টাকা-পয়সাওয়ালা লোক হোক। কিন্তু আমি সব সময়ই চেয়েছি ছেলেটা একজন ভালো মানুষ হোক।

আমি একজন বাবা হিসেবে মনে করি ছেলেমেয়েরা যে বিষয়ের ওপর নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া উচিৎ। হতে পারে একটা ছেলে একাডেমিক পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী কম, তাকে জোর করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানানোর দরকার নেই। তাহলে তার সারাটা জীবন কষ্টে কাটবে। চাপিয়ে দেওয়া বিষয়কে কখনো ভালোবাসতে পারবে না। ধরা যাক, কোনো ছেলেমেয়ে চিত্রশিল্পী হতে চায়। সে হয়ত ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকি পছন্দ করে। তাকে সেটাই করতে দেওয়া উচিৎ। এ বিষয়টি বেছে নিলে হয়ত তার গাড়ি-বাড়ি হবে না। কিন্তু সেটা করেই যদি মনের আনন্দে জীবন কাটাতে পারে— সেটাই অনেক বড় ব্যাপার হবে।

আমার কথা যদি বলি, আমি কখনই কোনো বিষয়ে আমার সন্তানকে চাপ দিইনি। শুধু তাকে বলেছি, বেসিক লেখাপড়াটা কর। সে এনএসইউ (নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি) থেকে বিবিএ শেষ করেছে। এরপর গত দুই বছর থেকে লক্ষ্য করছি ফিল্মের প্রতি তার আগ্রহ অনেক বেশি। কেউ যদি মনে করে রাইয়ান তার বাবার জন্য কিংবা বাবার মতো হওয়ার জন্য ফিল্মে এসেছে— এটা সত্য না। কারণ আমার যতগুলো চলচ্চিত্র হয়েছে সেগুলো ব্যবসাসফল। আমি মানুষের কথা ভেবে চলচ্চিত্র বানিয়েছি। যেখানে দর্শক আমার চলচ্চিত্রের মুখ্য বিষয় ছিল। সেখানে আমার ছেলের চিন্তা-ভাবনা তার পুরো উল্টো। ও বলে, ‘মানুষ আমার চলচ্চিত্র ভালো বলুক, খারাপ বলুক— সেটা মুখ্য বিষয় না। আমি এমন চলচ্চিত্র বানাতে চাই যেন সারা পৃথিবীর মানুষ আমাকে মনে রাখে।’

এর মানে আমি ভালো ছবি বানাতে চাইনি সেটা না। আমি যেটা করেছি সেটা হল ভালো ব্যবসাসফল ছবি বানাতে চেয়েছি। কিন্তু ওর কাছে ব্যবসাটা হচ্ছে গৌণ। অর্থাৎ ওর কাছে চলচ্চিত্র ভালো হওয়াটায় মূল বিষয়।

তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘অদৃশ্য শত্রু’ মানুষের কাছে মোটামুটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ও চলচ্চিত্রটিতে বলতে চেয়েছে, একজন ডাকাত সবার কাছে খারাপ হলেও সে হয়ত বাবা হিসেবে ছেলের কাছে ভালো বাবা হতে পারে। দেখা যাচ্ছে বাবা হিসেবে সব দায়িত্ব পালনের কারণে ছেলের কাছে বাবা হিসেবে প্রিয়। স্ত্রীর কাছেও স্বামী হিসেবে ভালো।

চলচ্চিত্রটির মেসেজ ছিল অন্যরকম। একজন ডাকাত নিঃসন্দেহে খারাপ মানুষ। অন্যদিকে একজন স্ত্রীর কাছে সে ভালো স্বামী, ছেলের কাছে একজন ভালো বাবা। এই লেভেলে চিন্তা করার ব্যপারটা আমাদের দেশে এখনও আসেনি। একজন খারাপ হলে ধরে নেওয়া হয় তার চৌদ্দগোষ্ঠী খারাপ। চিন্তা-চেতনার দিক থেকে রাইয়ানকে অনেক উন্নত মনে হয়েছে।

আর ব্যবসার দিকে থেকে আমাদের দেশে চলচ্চিত্রের অবস্থা আসলেই ভালো না। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন কোমায় আছে। এর পরেও আমি তাকে বাধা দিচ্ছি না। ওর যেটা ইচ্ছে হচ্ছে করুক। সকল বাবা-মাকে একটা কথা বলতে চাই, ছেলেমেয়ে যেটা করতে চায় তাকে যেন সেটাই করতে দেওয়া হয়। সে তো আর মানুষ খুন করতে চাইবে না। সে হয় তো ছবি আঁকতে চাইবে, গান গেয়ে আনন্দ পাবে। খেলতে আনন্দ পাবে সে যে খেলায় হোক। তাকে খেলতে দাও— সে হয়ত নামকরা কোনো প্লেয়ার হবে।

সবমিলিয়ে রাইয়ানের কথাই যদি বলি, ছেলেকে নিয়ে আমি সুখী। আমি তাকে কখনই খারাপ ছেলে বলতে পারব না। সে সন্তান হিসেবেও অনেক ভালো। কারণ সে এখন পর্যন্ত সিগারেট খায় না। তার কোনো রকম বাজে অভ্যাস নেই। সে কোনো আজেবাজে অভ্যাসের ছেলেদের সঙ্গে মেশে না। নিজের মতো প্রায় সব সময় বাড়িতেই থাকে। ইন্টারনেট নিয়ে থাকে, ফিল্ম নিয়ে থাকে। লেখাপড়াও শেষ করেছে সে। শো আই এ্যাম হ্যাপি উইথ মাই সান।

অনুলিখন : মাসুম আওয়াল

(দ্য রিপোর্ট/এএ/ডব্লিউএস/সা/জুন ২১, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর



রে