thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
ড. ইনামুল হক

নাট্যব্যক্তিত্ব

আমার মেয়েরা ভীষণ মানবিক

২০১৫ জুন ২১ ০০:১৪:২১
আমার মেয়েরা ভীষণ মানবিক

আমার মতো বয়সী যারা তাদের অধিকাংশের ছেলেমেয়েরা দেশের বাইরে থাকে। অনেকে সেটা নিয়ে গর্ববোধও করে। কিন্তু তাদের শেষ সংলাপ ‘আমি বড় একা’। আমার সেই রকম না। সেই চিন্তা থেকেই আমি ও লাকি আমার দুই মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই তৈরি করেছি। তারা অনেক ভালো মানুষ হয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই তারা শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গেই বেড়ে উঠেছে। আমরা সব সময়ই শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গেই থেকেছি। সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে রাখার প্রধান কারণ হল— শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে থাকলে মানুষের মনটা অনেক বড় হয়। বিশেষ করে মানবিক চেতনা ডেভেলপ করে। আমি নিজের থেকেই এর ফল পেয়েছি। আমার মেয়েরা ভীষণ মানবিক হয়েছে। বিশেষ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে তারা বড় হয়েছে।

তাদের সমসাময়িক অনেক ছেলেমেয়েদের সাথে কথা বলেই দেখেছি— তাদের বেড়ে ওঠা অন্যরকম। তাদের মধ্যে এখনো কুসংস্কার আছে, কুপমুণ্ডুকতা আছে। বিশেষ করে মানবিক হতে পারেনি। এটা আমার অবজারভেশন ও রিয়ালাইজেশন।

ছোটবেলা থেকেই ওরা বেশ হাসি-খুশি ছিল। আমাদের তেমন একটা কষ্ট দেয়নি। বিশেষ করে আমি মেয়েদের নিয়ে চলতে পছন্দ করতাম। যখন আমাদের গাড়ি ছিল না রিকশাতে করেই ওদের স্কুলে নিয়ে যেতাম, নিয়ে আসতাম। এতে আমি খুব আনন্দবোধ করতাম। আমার ও লাকি ইনামের চালচলন তারা ভীষণভাবে ফলো করেছে। এক্ষেত্রে আমি বলি ছেলেমেয়ের আসল গাইড, ফিলোসফার ও ফ্রেন্ড হতে পারে বাবা-মা।

আমার মেয়েরা তাদের পছন্দ মতো জীবন সঙ্গী খুঁজে নিয়েছে। তাদের পছন্দটাও হয়েছে আমাদের মন-মানসিকতার সঙ্গে মিলিয়ে। তারা সবাই একই চিন্তা-চেতনার। কেবলমাত্র সাংস্কৃতিকভাবে না, রাজনৈতিক পয়েন্ট অব ভিউতেও আমরা অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে ভীষণভাবে বিশ্বাসী। বড় মেয়ে হৃদি হক ‘১৯৭১’, ‘সেই সব দিনগুলো’ নামের সিরিয়াল বানিয়েছে। দেখলেই বোঝা যায় কতটা গভীরভাবে চিন্তা করে তৈরি করেছে। ওদের নিয়ে সত্যিই আমি ভীষণ গর্বিত। হৃদির মঞ্চ অভিনয় নিয়ে এত বেশি প্রশংসা শুনতে হয়— এটা নিয়ে বাবা হিসেবে আমি ভীষণ গর্বিত। হৃদির লেখার হাতও অনেক ভালো।

অন্যদিকে প্রৈতী হকও নাটক লিখছে। নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ‘পুসি বিড়াল ও একজন প্রকৃত মানুষ’ ওর লেখা। নাটকটির নির্দেশক লাকী ইনাম। সে এখন নাটক অনুবাদ করছে। এর মধ্যে ওর এটা বইও বের হয়েছে। বইটার নাম ‘থ্রি সিস্টার’। চেখভের নাটক।

আমার দুই মেয়েই ছিল কমার্সের ছাত্রী। হৃদি এমবিএ করেছে। প্রৈতী মার্কেটিং এমএ করেছে। মার্কেটিং পড়েছে কারণ সে সময় কমার্সের জোয়ার এসেছিল। মার্কেটিংয়ে পড়লেও ওরা সাহিত্য চর্চা করেছে। কোনো অসুবিধা হয়নি। আমরা ওদের মতের বিরুদ্ধে কোনো কিছু চাপিয়ে দিইনি কখনই। তবে আমরা চেয়েছি ওরা শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে থাকুক। ওরা বাংলা বা ইংরেজি লিটারেচার পড়লে হয়ত আরও ভালো করত।

ওরা সবাই অনেক ভালো থাকুক এই কামনা করি সব সময়। হৃদির এক ছেলে এক মেয়ে। আর প্রৈতীর একটা ছেলে। মেয়ে, মেয়ে জামাই, নাতী-নাতনীদের নিয়ে বেশ কেটে যাচ্ছে সময়।

অনুলিখন : মাসুম আওয়াল

(দ্য রিপোর্ট/এএ/ডব্লিউএস/সা/জুন ২১, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর