thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

 

বাবা দিবসে শোক ছাড়া আর কিছু কি আসবে?

২০১৫ জুন ২১ ১৫:২০:১৬
বাবা দিবসে শোক ছাড়া আর কিছু কি আসবে?

অধ্যাপক ড. অজয় রায়

বাবা কেমন হন, সে তো আমি অনেকবারই টের পেয়েছি। আমার বাবা সার্বক্ষণিক আমাদের কাছে ছায়ার মতো থাকতেন। ভাল রেজাল্ট করলে বলতেন– ‘আমরা খুশি হয়েছি’। বলতেন না- ‘আমি খুশি হয়েছি’। পরিবারের সবার দায়িত্ব নিয়ে তিনি কথাগুলো বলতেন। মনে আছে আমি যখন বিএসসি, এমএসসি ও পিএইচডি শেষ করি- বাবা যে কী খুশি হয়েছিলেন তা বোঝাবার উপায় নেই। সেই বাবা এখন বেঁচে নেই। অনেক ভাল-মন্দ আমার মধ্যে আসা-যাওয়া করে কিন্তু সেই রেসপন্স আর পাই না। বড় ভালবাসায় বাবা বলেন না ‘আমরা খুশি হয়েছি কিংবা দুঃখ পেয়েছি’। মাথা থেকে ছাদ সরে গেলে মানুষ যেমন খোলা আকাশে বসবাস করে সেরকম অনেক পিতৃহীন মানুষের মতো আমিও সেভাবেই বাস করছি। আর সময়ে-অসময়ে বাবাকে মনে করে লিখছি। বিশেষ করে বাবা দিবসে তো প্রতিবারই লিখি। প্রতিটা লেখায় এক একটা দিক তুলে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু বাবার কথা কী ফুরায়? আমিও তো বাবা। আমার তো দুটি সন্তান ছিল। একটি চিরতরে হারিয়ে গেল। আরেকটি বেঁচে আছে। আমি কি পারছি আমার বাবার মতো করে মানুষ করতে? বাবার মতো করে কি সন্তান পারে? হয়তো পারে- তবে যে যার মতো করে। ভিন্নভিন্নভাবে অনুভূতি প্রকাশ করে। শুধু অভিন্ন থাকে পিতৃত্ব। সন্তান হিসেবে আমি যেভাবে পিতাকে হারিয়ে একা হয়ে গেছিলাম ঠিক সেসময় আমার সন্তানেরা জীবনের ভিন্ন স্বাদ নিয়ে হাজির হয়েছিল আমার মধ্যে। কিন্তু কী হল অবশেষে! আমার সবচেয়ে প্রতিভাবান ছেলেটাকে (অভিজিৎ রায়কে) সন্ত্রাসীরা হত্যা করল।পিতা হয়ে আমি সন্তানের বিভৎস লাশ দেখলাম, নিজে বহন করলাম সন্তানের লাশ। এই হলো এবারের বাবা দিবসে আমার অনুভূতি।

অভিজিৎ ছিল সন্ত্রাসীদের চোখে মোস্ট ওয়ান্টেড। তাই আমি ওকে বলেছিলাম ‘বাবারে তুই দেশে আসিস না’। ও বলল বাবা তোমাকে-মাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। আমি আর না করতে পারলাম না। ও আসল। আমি বললাম- বাবারে নিরাপত্তার মধ্যে তোর বাসা থেকে বের হওয়া উচিৎ। ও বলল, ‘বাবা দেখ কিছু হবে না’। ও বের হল। আমি বললাম- তবে রাত হবার আগেই কিন্তু বাসায় ফিরবি। ও বলল ঠিক আছে বাবা। ও রাতে ঠিক মত ফিরল না। ওর বউটাও ওর মত। কিসে যে কী হয় কিছুই খেয়াল করল না। সেদিনও (২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে) আমি ফোন করে বললাম সকাল-সকাল বাসায় চলে আসিস। সে বলল ঠিক আছে। ও আসেনি। বারবার ফোন দিচ্ছি কল ধরছে না। একটু পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমাকে কল দিয়ে বলল–‘অভিজিৎ নামে একজনকে সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলেছে ওকে চিনেন?’ আমি বললাম ও আমার সন্তান। আর কোনো কথা আমার মুখ দিয়ে বের হয়নি। আমি সন্তানহারা হলাম। ভেরি স্যাড! ভেরি স্যাড!! বাবা দিবসে আমার শোক ছাড়া আর কিছু কি আসবে? আসবে না।

অনুলিখন : মুহম্মদ আকবর

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর