thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪,  ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

আমরা ভাষণে সবল, এ্যাকশনে দুর্বল : সেতুমন্ত্রী

২০১৫ জুন ২২ ১৮:৪৮:৫০
আমরা ভাষণে সবল, এ্যাকশনে দুর্বল : সেতুমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা যে কোনো কাজের চেয়ে বড় বড় কথা বলতে অভ্যস্ত। আমরা ভাষণে সবল আর এ্যাকশনে দুর্বল। কিন্তু যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমন্বিত ভাষণ নয়, সমন্বিত এ্যাকশন দরকার।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সোমবার বিকেলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। ‘সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা এবং অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘বিপদে আমরা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ট্রমালিংক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আমাদের সবকিছুতেই রাজনীতি জড়িত মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই রাজনীতির জন্য আমি রাস্তাগুলোকেও দখলমুক্ত করতে পারছি না। কখনও দখলমুক্ত করা হলে এর এক-দেড় ঘণ্টা পরেই আবার সেই আগের অবস্থা। তাই যে কোনো সিদ্ধান্ত সফল করতে আমাদের কঠিনভাবেই বাস্তবায়ন করতে হবে।’

দেশের সকল গাড়িচালকের ‘ফ্রিস্টাইল ভাব’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাই এখানে রাস্তার ৪ লেন কেন, ১৬ লেন করলেও কোনো কাজ হবে না। এ জন্য সবার আগে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।’

‘আমি একটা জায়গায় বড় বিপদে আছি। সামনে ঈদ। এখন সব পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় করবে। আর প্রতিনিয়ত আমার কাছে অভিযোগ আসবে। এমনও দেখা যাবে, বিআরটিসির বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আসছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণরা রাস্তায় আইন মানলেও ভিআইপি অসাধারণরা আইন মানে না। কেউ কাউকে পরোয়া করে না, সবাই ফ্রিস্টাইল।’

‘আমাদের সকল দিকে সমস্যা’ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা আমার, ওষুধ দিব কোন জায়গায়? একলা আমি তো জায়গায় দৌড়াব?’

যানজট এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সারাবছরই বিভিন্ন সংগঠনের সভা সমাবেশ হয়। গত ২৩ বছর ধরে আমি কারো না কারো সাথে বসে আলোচনা করছি কিন্তু লাভটা কী?’

তিনি বলেন, ‘এভাবে বিক্ষিপ্তভাবে আলাদা মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে কোনো লাভ হবে না। এ বিষয়টির সাথে একটি নয় সড়ক সেতু, এলজিআরডি, আইন, স্বরাষ্ট্র, শ্রম মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় জড়িত। সকল মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করার জন্য আমি অনেকদিন ধরে বললেও কোনো লাভ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবাই বলতে চায়, নেতৃত্ব দিতে চায়। সবাই নেতৃত্ব দিলে কেউ মানবে না। তাই নেতৃত্বের দায়িত্বটা সরকারের পক্ষ থেকেই নিতে হবে। বিক্ষিপ্তভাবে কেউ দায়িত্ব নিলে হবে না, সরকার দায়িত্ব নিলে আমরা সবাই যার যার কাজ করতে পারবো।’

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ট্রমালিংকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. জন মুসালেহ, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ট্রমালিংকের সহ-সভাপতি মৃদুল চৌধুরী প্রমুখ।

(দ্য রিপোর্ট/পিএম/এপি/সা/জুন ২২, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর

রাজনীতি - এর সব খবর



রে