thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

জন্মদিনে ‘ড্রেসিং টেবিল’ নিয়ে আবু সাইয়ীদ

২০১৫ আগস্ট ০১ ১২:৪৫:১৩
জন্মদিনে ‘ড্রেসিং টেবিল’ নিয়ে আবু সাইয়ীদ

মাসুম আওয়াল, দ্য রিপোর্ট : ‘কিত্তনখোলা’, ‘শঙ্খনাদ’, ‘নিরন্তর’, ‘বাঁশি’, ‘রূপান্তর’, ‘অপেক্ষা’সহ বেশকিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করে প্রশংসিত হয়েছেন আবু সাইয়ীদ। ১ আগস্ট তার ৫৩তম জন্মদিন। ১৯৬২ সালের এই দিনে সাতক্ষীরা জেলায় জন্ম নেন এই গুণী নির্মাতা। তবে পৈত্রিক নিবাস বগুড়া জেলার ধুনট থানার ভাণ্ডারবাড়ী গ্রামে।

আবু সাইয়ীদের নতুন চলচ্চিত্র ‘ড্রেসিং টেবিল’। জন্মদিনের এই দিনটিতেও তার ব্যস্ততা ‘ড্রেসিং টেবিল’ চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে। ঢাকার গাজীপুর পুবাইলের একটি বাড়িতে গত ২৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এই চলচ্চিত্রটির শুটিং, চলবে ২ আগস্ট পর্যন্ত। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ে অংশ নিচ্ছেন, তারিন রহমান, এ কে আজাদ, নাদিয়া খানম, কে এস ফিরোজ, ইফফাত তৃষা, পরেশ আচার্য, মোহাম্মাদ বারি, খলিলুর রহমান কাদেরী প্রমুখ।

আবু সাইয়ীদ চলচ্চিত্র ও জন্মদিন প্রসঙ্গে দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর শুরু করলাম আমার সপ্তম ছবি ড্রেসিং টেবিল। এটি প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। শনিবার সারাদিন শুটিংয়ের ব্যস্ততায় কাটবে। সন্ধ্যার পরে শুটিং ইউনিটের সবাইকে নিয়ে জন্মদিনের ছোট্ট একটা আয়োজন হচ্ছে পুবাইলেই। চলচ্চিত্রটি এ বছরের মধ্যেই শেষ করতে চাই। তাই টানা শুটিং করতে হচ্ছে।’

ডেসিং টেবিল চলচ্চিত্রের গল্পে দেখা যাবে দুটো প্রধান চরিত্র শিলা ও রুহুলকে। শিলা ও রুহুল বছর খানিক হলো বিয়ে করেছে। দুজনেই এতিমখানায় বড় হয়েছে। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার, অভাব অনটনের কারণে এখনো সংসারটা গুছিয়ে নিতে পারেনি। বাসায় কোনো ড্রেসিং টেবিল নেই। একদিন পুরাতন একটি ড্রেসিং টেবিল কিনে আনে রুহুল। হোক পুরাতন, তাতেই খুশি শিলা। পরদিন সকালে ড্রেসিং টেবিলটি পরিষ্কার করতে গিয়ে একটি ড্রয়ারের ভেতর একটি পুরাতন ডায়েরি পায় শিলা। অন্যের ডায়েরি পড়া উচিৎ নয় এই ভেবে প্রথমে ডায়েরিটা না পড়লেও ঠিকানাবিহীন এই ডায়েরিটা এক রাতে পড়া শুরু করে। ২/৩ পৃষ্ঠার মধ্যে এমন কিছু পায় যে, সে সারারাত জেগে ডায়েরিটা পড়ে শেষ করে। পড়া শেষে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজেকে আবিষ্কার করে নতুন রুপে। তারপরের অংশ জানা যাবে চলচ্চিত্র মুক্তির পরে।

চলচ্চিত্রের খবর জানার পরে তার শৈশব-কৈশোর প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে শোনান তার ছেলেবেলার গল্প।

ছেলেবেলার স্মৃতি শেয়ার করতে গিয়ে আবু সাইয়ীদ বলেন, ‘১৯৭১ সাল, ছোট ছিলাম, তবে কিছু কিছু ঘটনা অনেকটাই মনে আছে। আনুমানিক মে মাসের দিকে যখন বাবা-মার সাথে নিজ গ্রামে পৌঁছলাম তখন কান্নার রোল পড়ে গেল। আমাদের জড়িয়ে ধরে সবাই কাঁদছেন। আমাদের গ্রামের নাম ভাণ্ডারবাড়ী, বগুড়া জেলার ধুনট থানায়। ১৯৭০ সালের কোনো একসময় থেকে ৭১-এর ২৬ মার্চ পর্যন্ত আমরা সৈয়দপুর শহরে ছিলাম। ২৫ মার্চ রাতের কালো রাতের পর আমরা এবং আরও ৩/৪টি বাঙালী পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রামের দিকে যাত্রা করি। এরপর শুধুই পথ চলা। এ গ্রামে ২ দিন তো অন্য গ্রামে ৩ দিন। আনুমানিক মাস দুয়েকের মত বিভিন্ন গ্রাম-শহর ঘুরে নিজ গ্রামে পৌঁছাতে সক্ষম হই আমরা। সৈয়দপুর বিহারী অধ্যুষিত এলাকা, তাই দাদা-দাদীসহ গ্রামের কেউ ভাবেনি আমাদের আর ফেরত পাবেন; এটাই তখন তাদের কাছে সত্য ছিল যে, আমরা সবাই মারা গেছি। তাই আমাদের জীবিত ফিরে পাবার আনন্দের প্রকাশ ছিল শুধুই কান্না আর কান্না’।

বাবার সরকারি চাকরির কারণে আবু সাইয়ীদের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জেলায়। নীলফামারী, সৈয়দপুর, নওগাঁ এমন বিভিন্ন স্থানে কেটেছে ঘুড়ি ওড়ানো শৈশব। মূলত চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসার কারণেই ৮৭ সাল থেকে ঢাকায় যাতায়াত শুরু হয়। ১৯৯০-এর পর স্থায়ী হয়েছেন ঢাকায়। এখন পর্যন্ত তার ধ্যানজ্ঞান শুধুমাত্র চলচ্চিত্রকে ঘিরেই। দ্য রিপোর্টের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুভ জন্মদিন আবু সাইয়ীদ।

(দ্য রিপোর্ট/এএ/এইচএসএম/এনআই/আগস্ট ০১, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর