thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬,  ১৮ জিলহজ ১৪৪০

কৃষককে বাদ দিয়ে খাদ্য সংগ্রহ!

২০১৪ জানুয়ারি ১৬ ০০:০৬:২৪

চলতি আমন মৌসুমে সরকার আরও এক লাখ টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা আগের দুই লাখ টন কেনার অতিরিক্ত। এই সমস্ত চাল-ই সরকার কিনবে চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বুধবার দ্য রিপোর্টে প্রকাশ পায়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমপরিমাণ জায়গায় ধানের চেয়ে চাল যেহেতু বেশি মজুদ করা যায় সে কারণেই তারা ধান সংগ্রহ না করে চাল সংগ্রহ করছেন। ওই কর্মকর্তার যুক্তি, পাঁচশত টন ধারণ ক্ষমতার একটি গোডাউনে সাড়ে চারশত টন ধান মজুদ করা যায় সেখানে চাল মজুদ করা যায় সাড়ে সাত শত টন। ধান ক্রয়ের স্থলে চাল ক্রয়ের এই যুক্তিটি স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

শুধুমাত্র মজুদের জন্যই সরকারিভাবে খাদ্য সংগ্রহ করা হয় না। এর সঙ্গে কৃষকের স্বার্থের বিষয়টিও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন থেকেই দেশে খাদ্য সংগ্রহে মিলাররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। এটা অনেকটা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও পাচ্ছে। এর ফলে যে কৃষকদের স্বার্থে বাজার থেকে খাদ্য সংগ্রহ করা হয় সেই কৃষকরা অনেকটাই এই প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়ছে। চলতি আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ সম্পূর্ণ বন্ধ করায় এটা বলাই যায় যে, এই প্রক্রিয়ার ফলে কৃষক তার প্রাপ্ত সুবিধা থেকে এই মৌসুমে পুরোপুরি বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। এটা কার্যকর হলে নিরুপায় কৃষককে জিম্মি করে সুবিধার সবটুকুই ঘরে তুলবে মিলাররা ।

সরকারের খাদ্য সংগ্রহ অভিযানের বর্তমান নীতিমালা যদি আগামীতেও অব্যাহত থাকে তাহলে বলা যায়, এক শ্রেণীর মিলার নামধারী পুঁজিপতিরাই দেশের খাদ্য বাজারের নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়াতে যাচ্ছে। সে কারণে আমরা মনে করি, চাল সংগ্রহের পাশাপাশি ধান সংগ্রহের কার্যক্রমটি বহাল রাখা উচিত। এক্ষেত্রে ধান এবং চাল সংগ্রহে আনুপাতিক হার নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে কৃষক ও মিলার উভয়ের স্বার্থই সংরক্ষণ করা যাবে। গোডাউনের স্থান সংকুলানের যে সুবিধার কথা খাদ্য কর্মকর্তা বলেছেন তা কোনো ক্রমেই যুক্তিগ্রাহ্য নয়। যদি স্থান সংকুলানের প্রশ্ন থেকেই থাকে, তাহলে দেশে আরও অতিরিক্ত গোডাউন নির্মাণে খাদ্য বিভাগের জরুরিভাবে হাত দেওয়া উচিত।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert