thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্মবার্ষিকীর আয়োজন

২০১৫ আগস্ট ০৭ ১০:১৪:১০
আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্মবার্ষিকীর আয়োজন

পাভেল রহমান, দ্য রিপোর্ট : বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে নাট্যসংগঠন থিয়েটার (নাটক সরণি)। জাতীয় নাট্যশালার সেমিনারকক্ষে (সাততলা) শুক্রবার বিকেল ৪টায় থাকছে স্মারক বক্তৃতা।

বক্তৃতার বিষয় ‘আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আমাদের সময়ের নাটক।’ বক্তৃতা উপস্থাপন করবেন ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

বক্তৃতার পর সন্ধ্যায় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হবে আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত ও নির্দেশিত নাটক ‘মেরাজ ফকিরের মা’। থিয়েটার নাট্যদলের সভাপতি রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘মামুনের জন্ম ১২ জুলাই ও মৃত্যু ২১ আগস্ট। এ দুটি দিনকে স্মরণ করে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।’

আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ বলেন ১২ জুলাই আবার কেউ বলেন ১৩ জুলাই। এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল মামুনের দীর্ঘদিনের নাট্য সহচর রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আবদুল্লাহ মামুনের জন্মদিন নিয়ে একটু খটকা আছে। তবে মামুন নিজেই দুটি জন্মদিন পালন করেছেন। তার জন্ম আসলে ১২ জুলাই।’

আব্দুল্লাহ আল মামুন একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন। ‘থিয়েটার’ নাট্যদল তারই হাতে গড়া। এ দলের জন্য ১৮টি মঞ্চনাটক লেখেন তিনি, নির্দেশনা দিয়েছেন ২৩টি মঞ্চনাটক।

বর্ণাঢ্য জীবন

আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৯৪২ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলার আমড়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস এবং মাতা ফাতেমা খাতুন। তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে এমএ পাস করেন। আব্দুল্লাহ আল মামুন তার পেশাগত জীবন শুরু করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবে। পরবর্তীকালে পরিচালক, ফিল্ম ও ভিডিও ইউনিট (১৯৬৬-১৯৯১), শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক (২০০১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অসংখ্য নাটক রচনায় যেমন নিজের প্রতিভা আর শক্তির পরিচয় দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, তেমনি নিজের অপরিমেয় ক্ষমতার প্রমাণ রেখেছেন তার নির্দেশনায় ও অভিনয়ে।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- সুবচন নির্বাসনে, এখনও দুঃসময়, সেনাপতি, এখনও ক্রীতদাস, কোকিলারা, দ্যাশের মানুষ, মেরাজ ফকিরের মা, মেহেরজান আরেকবার ইত্যাদি। নাট্যসংগঠন থিয়েটারের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। নাটকের সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিয়াল।

শহীদুল্লাহ কায়সারের আকর উপন্যাস নিয়ে নির্মাণ করেন ধারাবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’। এ ধারাবাহিক নাটকের পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে তিনি পান প্রবাদপ্রতিম খ্যাতি। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- সারেং বৌ (১৯৭৮), সখী তুমি কার, এখনই সময়, জোয়ারভাটা, শেষ বিকেলের মেয়ে।

প্রকাশিত গন্থ

তার প্রথম প্রকাশিত নাটক শপথ ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত অন্যান্য নাটক হল- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪), এখনও দুঃসময় (১৯৭৫), এবার ধরা দাও (১৯৭৭), শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৭৮), চারদিকে যুদ্ধ (১৯৮৩), এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪), কোকিলারা (১৯৯০), মেরাজ ফকিরের মা (১৯৯৭)। তার লিখিত উপন্যাসগুলো হল- মানব তোমার সারা জীবন (১৯৮৮), হায় পারবতী (১৯৯১), খলনায়ক (১৯৯৭)।

পুরস্কার

অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, প্রথম জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার। শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে পেয়েছেন দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি ২০০০ সালে একুশে পদক পান।

মৃত্যু

দীর্ঘ রোগভোগের পর ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ৬৬ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

(দ্য রিপোর্ট/পিএস/এনডিএস/এজেড/আগস্ট ০৭, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর