thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫,  ৮ মহররম ১৪৪০

‘রোগীদের শাড়ি ছিঁড়া দাফনের কাপড় বানাই’ (ভিডিওসহ)

২০১৫ আগস্ট ১৪ ২১:৫১:২৫
‘রোগীদের শাড়ি ছিঁড়া দাফনের কাপড় বানাই’ (ভিডিওসহ)

কাজী ইদ্রিস আলী। ১৯৭৫ সালে ৩০ বছর বয়সী এক যুবক। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এমএলএসএস হিসেবে কাজ করেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে এবং কাজের সুবাদে বঙ্গবন্ধুর প্রতিবেশী ছিলেন। সেই দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ গোপালগঞ্জে পৌঁছার পর সেদিন কী হয়েছিল? একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সে বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক আমানউল্লাহ আমান ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি সলিল বিশ্বাস মিঠু

কাজী ইদ্রিস আলী বলেন, ‘হেলিকপ্টার আস্তে আস্তে আইসা নামলো। আর্মিরা নাইমা সব পজিশনে গেলো। হের পর এক ধরনের হুইসেল দিল। আমগোরে ডাক দিলো, আসেন আপনাদের লাশ নিয়া যান। আমরা যাইয়া লাশ ধরলাম সবাই। লাশ ঘাড়ে করলাম। এইখানে একটা কাডের (কাঠের) পুল ছিল। ঘাড়ে কইরা কাডের পুল দিয়া যাইয়া উনার উঠানে নিয়া নামাইলাম। নামানোর পর এখন কফিন তো আমরা খুলতে পারি না। তখন ওইখানে ছিল আবদুল হালিম মিস্ত্রি। তাকে ডাইক্কা আনা হলো। এটা ভাঙ্গার পরে দেখলাম, বড় একটা সাদা কাপড়ে ঢাকা। ওইটা ফেলে দিলাম। ফেলে দেওয়ার পরে দেখি বরফের বড় বড় চাকা দেওয়া। আর রক্ত একেবারে জমে গেছে। চেকের পাঞ্জাবি পরা আছে। সেন্ডো গেঞ্জি গায়ে আছে। চশমা ভাইঙ্গা ডাইনদা পড়ে আছে। পাইপ একটা ছিলো পকেটের মাঝে তা বাইর করলাম। বাইর করার পরে কয়, তাড়াতাড়ি গোসল দেন। ওইখানে পানি আছেলে, ওই পানি দিয়া সুন্দর করে ধুইয়া ধুইয়া পরিষ্কার করলাম। এখন সাবানের প্রশ্ন। ৫৭০ সাবান নিয়া আসলাম।’

আক্ষেপ করে তিনি বললেন, ‘জাতির জনককে গোসল দিলাম সেই ৫৭০ সাবান দিয়া। সেই সাবান দিয়া গোসল দিয়া পরে দাফন-কাফন করে দিলাম। রেড ক্রিসেন্টের রোগীদের শাড়ি ছিঁড়া দাফনের কাপড় বানাই। ওই দিয়া উনারে দাফন দিলাম।’

(দ্য রিপোর্ট/এইউএ/এইচএসএম/শাহ/আগস্ট ১৪, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শোকাবহ ১৫ আগস্ট ২০১৫ এর সর্বশেষ খবর

শোকাবহ ১৫ আগস্ট ২০১৫ - এর সব খবর



রে