thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫,  ১১ মহররম ১৪৪০

 

শোকে-স্মরণে বঙ্গবন্ধু

২০১৫ আগস্ট ১৪ ২২:১১:৫৫
শোকে-স্মরণে বঙ্গবন্ধু

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

ক্রান্তদর্শী পুরুষ যে আপন ব্রতে নিবেদতি কর্মবীর থেকে মহানায়ক, একটি স্বপ্ন নিয়েই যাঁর যাত্রারম্ভ, যাত্রাশেষও সে স্বপ্নের রুপায়নে তিনি আর কেউ নন, মহাপুরুষ শেখ মুজিবুর রহমান। তাই-তো তিনি বারে বারে বাংলাদেশের বিশেষ দিনের মতই ফিরে আসেন, ১৫ই আগস্টের ঘোর আমাবস্যার অন্ধকার ছিঁড়ে এক অসামান্য ইতিহাস স্রষ্টা বিজয়ী বীরের বেশে। বিন্দু থেকে বিন্দুর অস্তিত্বের মধ্যে মানুষের যে জীবন, সেই অস্তিত্বের মধ্যে বঙ্গবন্ধু একটি স্ফুলিংগের মতো জন্মেছিলেন, সেই স্ফুলিংগ নিভিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুরা। তারপরও এদেশের মানুষের হৃদয়ে যত দিন উত্তাপ থাকবে ততদিন একটি নাম চির জাগরুক থাকবে— শেখ মুজিবুর রহমান।

মার্কিন সাংবাদিক সিরিল ডান লিখেছিলেন, বাংলার এক হাজার বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান একমাত্র নেতা, যিনি রক্তে, বর্ণে, ভাষায়, সংস্কৃতিতে ও জন্মসূত্রে পুরোদস্তুর বাঙালি। কন্ঠ তাঁর বজ্র নির্ঘোষ। তাঁর মন্ত্রমুগ্ধ ক্যারিশমায় জনগণ মোহবিষ্ট হয়ে এক সাগর রক্ত দিয়ে অর্জন করেছে স্বাধীন বাংলাদেশ। বিশ্ব বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী “নিউজ উইক” তাইতো শেখ মুজিবকে অভিষিক্ত করেছে “পোয়েট অব পলিট্রিকস” অভিধায়। তিনি তেজদীপ্তি অসীম সাহস ও দেশপ্রেমের অন্তর্গত প্রবল অনুভুতি দিয়ে ধারাক্রমে যখন একটি রাষ্ট্রের স্রষ্টা হয়ে ওঠেন, তখনই বিশ্বাসঘাতকরা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অসাধ্য সাধনের রাজনৈতিক ব্রতে নিয়োজিত এক কন্টকাকীর্ণ পথে বেড়ে উঠা বিস্তৃত জীবনের ওখানেই রাশ টেনে ধরা হয়। খুনী মোশতাক ও জিয়া চক্র হত্যা করে স্বাধীনতার মূল্যবোধকে। বিকৃত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চার সাংবিধানিক মূলনীতি। রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয় স্বাধীনতার বিরোধীদের। রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করা হয় তাদের। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে কুটনৈতিক মিশনে চাকুরী দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। ইনডেমনিটি নামক আইন করে হত্যাকারীদের জায়েজ করে ইতিহাসে কলংক লেপন করেন জিয়া। তিনি হত্যা, ক্যূ ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দিয়ে টিকে থাকার জন্য হাজার হাজার সামরিক বাহিনী অফিসার জোয়নদের হত্যা করেন। জিয়া তারই মিত্র কর্নেল তাহরেকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার মহান নায়কের বেঁচে যাওয়া দুই সন্তান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে আসতে না দিলেও স্বাধীনতার শত্রু মূল ঘাতক গোলাম আযমকে দেশে ফিরে আনা হয়। এমন কি তিনি আরেক নরঘাতক শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের যে স্বাধীনতা তাকে এভাবেই পর্যদস্ত করা হয়েছিল। মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুরে দিয়ে ছাত্র রাজনীতিকে তিনি কুলশিত করেছিলেন। দম্ভো করে বলেছিলেন “মানি ইজ নো প্রোবলেম”। তিনি রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের কঠিন করে তুলেছিলেন। বলেছিলেন “আই উইল মেইক পলিট্রিক্স ডিফিকাল্ট ফর পলিটিশিয়ান”। হ্যাঁ এবং না ভোটের মাধ্যমে জাতির সাথে চরম তামাশা করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতায় ষড়যন্ত্র করছেন দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে। দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের ফাঁসি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের ও ফাঁসি হচ্ছে।

অপরাধীদের কোন ক্ষমা নেই, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সেই শিক্ষা দেয়। জাতীয় শোক দিবসে আসুন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হই। ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক : খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।



পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর



রে