thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫,  ৯ মহররম ১৪৪০
রবিউল ইসলাম

দ্য রিপোর্ট

বিপিএলের বকেয়া পাননি ম্যাচ অফিসিয়ালরা

২০১৫ আগস্ট ২৭ ২১:১৭:০২
বিপিএলের বকেয়া পাননি ম্যাচ অফিসিয়ালরা

প্রথম কিংবা দ্বিতীয়; বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এই দুই আসরেই ঝুট-ঝামেলা লেগেই রয়েছে। দ্বিতীয় আসরে খেলা ক্রিকেটাররা এখনো তাদের পুরো পাওনা বুঝে পাননি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিশ্চিত করেছে, দ্বিতীয় আসরের দলগুলোর মালিকপক্ষরা এখনো বকেয়া পরিশোধ করেনি। তাই জটিলতা। ঈদের আগে এই জটিলতা সমাধানের কথাও শুনিয়েছেন দায়িত্বশীলরা। তবে পাওনাদার ম্যাচ অফিসিয়ালরা কিন্তু জানেন না আদৌ কবে তারা টাকা বুঝে পাবেন। ফলে ক্রমেই অসন্তোষ বাড়ছে স্থানীয় আম্পায়ার, স্কোরার এবং রিজার্ভ আম্পায়ারদের মধ্যে। তারা সংক্ষুব্ধ হয়ে জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর পার হয়ে গেলেও পাওনা অর্থ বুঝে পাননি তারা।

তবে বিসিবির আশা, শীঘ্রই সব ধরনের বকেয়া পরিশোধ করা হবে। টাকা পরিশোধ করেই বিপিএলের তৃতীয় আসর হবে। বিসিবির বকেয়া পরিশোধের ডেটলাইন আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা। সবকিছু ঠিক থাকলে লেনদেনের বৈরী বাতাবরণ সরিয়ে আগামী ২৫ নভেম্বর জম্পেশ উদ্বোধন-আয়োজনে পর্দা উঠবে বিপিএলের তৃতীয় আসরের।

চলতি মাসের মধ্যেই স্থানীয় ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিপিএল গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা দ্য রিপোর্টকে যা বললেন তাতে করে ঈদুল আজহার আগে ক্রিকেটাররা তাদের বকেয়া পাচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কাকে কত টাকা দিয়েছে তার তালিকাটা জমা দিলেই আমরা ঈদুল আজহার মধ্যে দেড় কোটি টাকা পরিশোধ করে দেব। বাকি যা থাকবে এটা বিপিএল তৃতীয় আসর শুরুর আগে পরিশোধ করে দেব।’ ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ দেওয়া হলেও ম্যাচ অফিসিয়ালরা কেউই জানে না তাদের বকেয়া টাকা তারা কবে পাবেন।

বিপিএল শুরু হতে বাকি এখনো তিন মাস। বিপিএলে ম্যাচ পরিচালনা করা আম্পায়ারদের মধ্যে অনেকে আছেন যাদের বকেয়া টাকার পরিমাণ দুই লাখ পর্যন্ত। বিষয়টি আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী মিশু দ্য রিপোর্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিপিএল থেকে অনেক আম্পায়ার দেড়-দুই লাখ টাকা করে পাবেন। এত টাকা পাবে ধরে নিয়ে কেউ কেউ ধার-দেনা করেছেন। আমিও ব্যক্তিগতভাবে দু-একজনকে টাকা ধার দিয়েছি। কথা ছিল, বোর্ড থেকে টাকা পেলেই পরিশোধ করে দেওয়া হবে। আমি এই বিষয়টি বোর্ড সভাপতিকেও জানিয়েছি। কিন্তু তারা কবে টাকা পাচ্ছেন তা এখনো অনিশ্চিত।’

বিপিএলের দ্বিতীয় আসর শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর। ওই আসরের আম্পায়ার-স্কোরার-রিজার্ভ আম্পায়ারদের মিলিয়ে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এ ব্যাপারে বিসিবি এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

অনেক ভুক্তভোগী বকেয়া অর্থ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বার বার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের বিপিএল দ্বিতীয় আসরের কোনো ম্যাচ ফি প্রদান করা হয়নি। শুধু টিএ এবং ডিএ নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক ম্যাচ অফিসিয়াল (স্কোরার) দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছেন, ‘আমরা জেনেছি বিপিএল শুরুর আগে আমাদের বকেয়া পরিশোধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু কবে দেওয়া হবে তা আমরা জানি না। অনেকবার তাগাদা দিয়েও টাকা পাইনি। টাকা চাইতে গেলেই তারা বলে এটা তো আমরা আয়োজন করিনি, করেছে গেম অন। তারা টাকা দেয়নি, তাই এখনো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

স্কোরার ছাড়াও ৬ জন স্থানীয় আম্পায়ার বিপিএলে দায়িত্ব পালন করেছেন। যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার এনামুল হক মনি (১৩)। এ ছাড়া মাসুদুর রহমান (১০), আনিসুর রহমান (১০), গাজী সোহেল (৯), তানভির আহমেদ (৮), মাহফুজুর রহমানের (৮) সঙ্গে বেশ কয়েকজন রিজার্ভ আম্পায়ার এবং ১৮ জন স্কোরার দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের বেশিরভাগই অর্ধেক টাকাও পাননি।

এক সিনিয়র আম্পায়ারও নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘বিদেশী আম্পায়ারদের বকেয়া যথাযথভাবে পরিশোধ করা হলেও আমাদেরটা করা হয়নি। ক্রিকেটারদের আয়ের অনেক উপায় থাকলেও আমাদের কিন্তু নেই। আশা করব, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিসিবি ভাল কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিইউ-এসএ) সভাপতি কাজী মিশু দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘বকেয়া ৪৭ লাখ টাকা আদায়ের জন্য বোর্ডে অনেকবার চিঠি দিয়েছি। সর্বশেষ আমাদের জানানো হয়েছিল মোট বকেয়ার ৬০ ভাগ আমাদের দেওয়া হবে। বোর্ড বলেছিল কিছুটা ছাড় দিতে। কেননা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছ থেকে পুরো টাকা পায়নি বোর্ড।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘বোর্ড এরই মধ্যে রংপুর ও সিলেটের কাছ টাকা পেয়েছে। তাই আমরা ৭৫ ভাগ টাকার দাবি জানাব। বোর্ড যেহেতু পুরো টাকা পায়নি, আমরা তাই পুরোটা দাবি করব না। বোর্ড আমাদের সব সময় বলেছে, বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হবে।’

বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল করিম টিংকু বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ‘আম্পায়ারদের কিছু টাকা বকেয়া রয়েছে। এটা এরই মধ্যে বোর্ডকে জানানো হয়েছে। আশা করি, পরবর্তীতে বোর্ড মিটিংয়ে এ ব্যাপারে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।’

আম্পায়াররা কী পরিমাণ টাকা পেয়েছেন- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘আম্পায়াররা যে পরিমাণ টাকা পেয়েছেন, তা না পাওয়ার মতোই। খেলোয়াড়দের চেয়ে আনুপাতিক হারে তারা অনেক কম অর্থ পেয়েছেন।’

বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিপিএলে খেলোয়াড়দের বকেয়া টাকা পরিশোধের। তবে ম্যাচ অফিসিয়ালদের বকেয়া টাকা পরিশোধের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়নি। অবশ্য বিসিবির এই পরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই সকল বকেয়া পরিশোধ করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘আম্পায়ার-স্কোরারদের বকেয়া পরিশোধের বিষয়টা আমার দায়িত্বে দেওয়া হয়নি। এটা ছিল গেম অনের দায়িত্বে। এ বিষয়টা এখন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল দেখবে। সর্বশেষ বোর্ড মিটিংয়ে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।’

বিপিএল প্রথম আসরেও জটিলতা কম হয়নি। দেশী-বিদেশীদের অর্থ পরিশোধের নানা ছল-চাতুরির অভিযোগসহ স্পট ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তা এখনো সামলে উঠতে পারেনি বিপিএল গভর্নিং বডি। দ্বিতীয় আসরের নানা জটিলতা মাথায় উপর। বিপিএল গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা সব সমস্যা সমাধানে আশাবাদী। দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছেন, ‘আম্পায়ার ও স্কোয়ারদের পেমেন্টের দায়িত্ব ছিল গেম অনের। কিন্তু তারা সমস্যা মিটমাট করেনি। তার পরও আমরা দায়িত্ব নিয়েই তাদের একটা অ্যামাউন্ট দেব। এ ব্যাপারে গত বোর্ড মিটিংয়ে কথা হয়েছে। সামনের বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘বিপিএল বোর্ডের অংশ; যে কোনো কিছু বোর্ডের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই হয়। আম্পায়ারদের কাছ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাইনি। তবে অনেকেই বকেয়া দাবি করেছেন বলে শুনেছি।’

(দ্য রিপোর্ট/আরআই/এএস/জেডটি/এজেড/আগস্ট ২৭, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে