thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬,  ১৪ রবিউস সানি 1441

আড়িপাতা বন্ধে ওবামার সাহসী ঘোষণা

২০১৪ জানুয়ারি ১৯ ০০:০১:৫৭

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর নেতাদের ফোনে আড়িপাতা নিষিদ্ধ করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পাশাপাশি আমেরিকার নাগরিকদের ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন তিনি।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ওবামা দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) কার্যক্রম বিষয়ে নতুন এ সংস্কার ঘোষণা দেন। গত বছর এনএসএ’র ফোনে আড়িপাতা ও তথ্য সংগ্রহসহ বেশ কয়েকটি গোপন কার্যক্রমের তথ্য ফাঁস করে দেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা এডওয়ার্ড স্নোডেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও দেশটির মিত্র রাষ্ট্রগুলোর চোখে সংস্থাটি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। আর এ নেতিবাচক ধারণা দূর করতেই ওবামা নতুন করে এ ঘোষণা দিলেন।

এদিন এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে ওবামা বলেন, ‘ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই দেশটির নাগরিক ও বিদেশি মিত্রদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি মাথায় রাখবে।’ এ সময় ওবামা এনএসএ’র নজরদারি কার্যক্রমের বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক সংস্কার ঘোষণা করেন।

ওবামা বলেন, ‘আমি আজ যে সংস্কার ঘোষণা করছি, তা আমাদের নিরাপত্তাদানকারী গোয়েন্দাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেবে।’

ওবামার এই ঘোষণায় নিশ্চয়ই মার্কিন জনগণ এবং মার্কিন মিত্ররা আশ্বস্ত হবেন। তবে এই ঘোষণায় যে বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে তা হলো এতদিন ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তাদের মিত্রদেরও নজরদারির বাইরে রাখেনি। এমনকি যে জনগণ এই দেশটির মালিক সেই জনগণও গোয়েন্দা সংস্থার এই ভীতিকর নজরদারির মধ্যে বসবাস করে আসছে।

গোপন তথ্য ফাঁসে দুনিয়াব্যাপী সাড়া জাগানো উইকিলিকস-এর জনক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে আমেরিকাসহ তার মিত্ররা তথ্য ফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য যারপরনাই চেষ্টা করে আসছে। যে কারণে তাকে এক ধরনের পলাতক জীবনের আশ্রয় নিতে হয়েছে। ঠিক সেই সময় খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে মিত্রদের টেলিফোনে আড়িপাতার অভিযোগ ওঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রকারান্তরে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো; যা দেশটির জন্য বিব্রতকর বটে। এ সময়ের উদার চিন্তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিষয়টিকে যথার্থ গুরুত্ব দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার আড়িপাতার অধিকার রহিত করে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন বলা যায়। এটাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যক্তির অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

আমাদের বিশ্বাস, ওবামার এই ঘোষণা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বিশ্বের তাবৎ গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকদের অনুপ্রাণিত করবে এবং স্ব স্ব দেশের সরকারও তার নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হবে। আমরা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এই সাহসী ভূমিকার সাধুবাদ জানাই।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert