thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১ ফাল্গুন ১৪২৩,  ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮
নাজমুল সাঈদ

দ্য রিপোর্ট

গুমের ঘটনায় ‘নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’ তদন্ত দাবি

২০১৫ আগস্ট ২৯ ১৯:৪৫:২৭
গুমের ঘটনায় ‘নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’ তদন্ত দাবি

গুম ও অপহরণের ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাবেক বিচারপতি ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি, ‘গুমের ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন হবে।’

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল কবির চৌধুরী দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্লা রক্ষাকারী বাহিনীর গুমের কথিত ঘটনা সম্পর্কে বিপরীতমুখী বক্তব্য আসার কারণে গুমের ঘটনায় বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে ও সুবিচারের স্বার্থে এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করে তদন্ত হওয়া দরকার। এক্ষেত্রে কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে একজন উপ-সচিব, সদস্য হিসেবে পুলিশ সুপার (এসপি) পর্যায়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য হিসেবে ভুক্তভোগী পরিবারের পছন্দমতো একজন ব্যক্তিকে রাখা যেতে পারে।’

সাবেক এই বিচারপতি বলেন, ‘গঠিত কমিটির মাধ্যমে গুমের ঘটনা তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুমের ঘটনার বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী নূর খান দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। আর দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে কিছু দুর্বৃত্ত। এ সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।’

গত ২০ আগস্ট ভোরে কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান লাবু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ নিখোঁজ হন।

পরিবারের অভিযোগ, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট থেকে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-১) সদস্যরা তাদের তুলে নিয়ে গেছেন। কিন্তু এখন তারা স্বীকার করছেন না।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, ঘটনার পরদিন রিসোর্টের মালিক ও পাঁচ দিন পর লাবুকে ছেড়ে দিলেও সাজ্জাদ হোসেনের হদিস এখনো মেলেনি।

সাজ্জাদের মা শাহিদা বেগম অভিযোগ করে শনিবার দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু তারা এখন স্বীকার করছে না।’

সাজ্জাদের মায়ের দাবি, একই দিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান লাবু ও রিসোর্টের মালিককেও আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের ছেড়ে দিলেও সাজ্জাদের বিষয়ে কিছু জানে না বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

শাহিদা বেগম বলেন, ‘লাবু ছাড়া পেয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চলে গেছে। সে আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি।’

তবে সাজ্জাদের মায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি- তাদের কাউকেই র‍্যাব আটক করেনি। যেহেতু তাদের নামে কোনো মামলা নেই তাই তাদের কেন আটক করব?’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুসারে ২০১৪ সালে ৮৮ জন এবং চলতি বছর ৩৬ জনকে গুম ও অপহরণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ তথ্য দেয় আসক।

২০১৪ সালে অপহরণ হওয়াদের মধ্যে পরে লাশ পাওয়া গেছে ২৩ জনের। ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ১২ জনকে। ডিবি কার্যালয়ে পাওয়া গেছে একজনকে। কারাগারে পাঠানো হয়েছে দু’জনকে এবং গ্রেফতার দেখানো হয়েছে একজনকে। বাকিদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

আসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রদলের পাঁচজন করে অপহরণ ও গুম হয়েছেন। এ ছাড়া একজন করে কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র, আইনজীবী, ইমাম, ইউপি মেম্বার, জামায়াত, যুবদলকর্মী, টোল আদায়কারী ও অটোরিকশাচালকের হদিস মেলেনি।

একই বছর গুম হয়েছেন ১৪ জন ব্যবসায়ী ও বিএনপির ১২ জন কর্মী। এ ছাড়া দু’জন করে ছাত্রশিবির ও আওয়ামী লীগ এবং শিক্ষক ও কৃষকও গুম হয়েছেন। গুম হয়েছেন ৯ জন চাকরিজীবী ও চারজন ছাত্র। এ ছাড়া গুম হওয়া ১৯ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৬ জন গুম হয়েছেন। পরবর্তীতে এদের মধ্যে লাশ পাওয়া গেছে দু’জনের এবং গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তিনজনকে। গুম হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন— ব্যবসায়ী ৭, ছাত্র ১০, মুদি দোকানি ১, নারী ২, জামায়াতকর্মী ৪, চাকরিজীবী ২, যুবদলের ২, বিএনপির ১, পোশাকশ্রমিক ১ ও যুবলীগের ১ জন। এ ছাড়া পরিচয় জানা যায়নি পাঁচজনের।

(দ্য রিপোর্ট/এনএস/এএসটি/এইচএসএম/এজেড/আগস্ট ২৯, ২০১৫)


পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে