thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

সালমান-শাবনূর রসায়ন

২০১৫ সেপ্টেম্বর ১৯ ০০:১৭:০০
সালমান-শাবনূর রসায়ন

আদিত্য আকবর, দ্য রিপোর্ট : ‘তুমি আমার’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’। সবকটি সিনেমার নাম বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের জানা। কারণ আর কিছুই নয়। এ ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন সালমান শাহ, পাশে ছিলেন শাবনূর।

বাংলা সিনেমায় জুটি প্রথার কথা এলে সালমান-শাবনূরের কথা বলতে হয়। সালমানের পাশে আরেকটি নাম আসে— মৌসুমী। এ দু’জনের মধ্যে প্রায় সমদর্শী গ্ল্যামার ও আভিজাত্যের ছটা ছিল। অন্যদিকে সালমান-শাবনূর যেন বিপরীত দুই ধারা। আচানক এসে এ ধারায় মিশে যান। তাই কোনো সিনেমায় তাদের পুরনো মনে হয়নি। বরং নতুন নতুন ভাব ও বেশে তারা হাজির হয়েছেন। অভিনয়, গান আর নাচে। দর্শক খুশি মনে ফিরেছেন বাড়ি। সালমানের জন্মদিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সে জুটির ৫টি সিনেমার কথা জেনে নিন—


তুমি আমার :
সালমান শাহ-শাবনূর জুটির প্রথম সিনেমা ‘তুমি আমার’। পরিচালনা করেন জহিরুল হক। মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালের ২২ মে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি হয় না সালমানের। ঘটনাক্রমে বড়লোক সেজে শাবনূরের সঙ্গে প্রেম করে। ধোঁকাবাজি ফাঁস হয়ে গেলে জেলে যায় সালমান। জামিন পেয়ে শাবনূরকে বিয়ের আসর থেকে তুলে নিয়ে যায়। সাদামাটা কাহিনী কিন্তু সালমানের লুক ছিল অনবদ্য। বিশেষ করে হাতে গিটার, পরনে ছেঁড়া জিন্স অনেককে চমকে দেয়। আর সালমানের সঙ্গে জটিল রসায়নে ঢালিউডে শাবনূর শক্ত ভিত্তি পান। এতে আরও অভিনয় করেন- ডন, কে এস ফিরোজ ও প্রবীর মিত্র।

এ সিনেমার গানগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়। মনিরুজ্জামান মনির ও গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা গানে সুর ও সঙ্গীত করেছেন আবু তাহের। কণ্ঠ দিয়েছেন কনকচাঁপা, রুনা লায়লা, শেখ ইশতিয়াক ও কুমার বিশ্বজিৎ। তেমন কয়েকটি গান— ‘তুমি আমার ভালবাসার গান’, ‘জ্বালাইয়া প্রেমের বাত্তি’, ‘দেখা না হলে একদিন’ ও ‘আমার জন্ম তোমার জন্য’।

বিক্ষোভ : মহম্মদ হান্নান পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। ছাত্র রাজনীতি নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘বিক্ষোভ’, যা সমসাময়িক রাজনীতির ভাল-মন্দ তুলে ধরে। সালমান একজন উঠতি ছাত্রনেতা। সৎ থাকার কারণে পদে পদে আসে বাধা। এখানে শাবনূর থাকেন সালমানের সহপাঠী।

এ সিনেমার গানের কথা, সুর ও সঙ্গীত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের। কণ্ঠ দিয়েছেন আগুন ও রুনা লায়লা। এর মধ্যে ‘একাত্তরের মা জননী’ তো এখনো শ্রোতাদের পছন্দের গান। উল্লেখযোগ্য আরও দুটি গান হল— ‘ও আমার জীবন সাথী’ ও ‘বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয়’।

স্বপ্নের ঠিকানা : এম এ খালেক পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালের ১১ মে। ধনী পরিবারের ছেলে ও সাধারণ ঘরের মেয়ের প্রেমকাহিনী এটি। ত্রিভুজ প্রেমের ‘স্বপ্নের ঠিকানা’য় আরও অভিনয় করেন সোনিয়া। বরাবরের মতো ফ্যাশন সচেতন আউটফিট সালমানের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়।

‘স্বপ্নের ঠিকানা’ নিয়ে প্রথম দিকে প্রযোজক আশাবাদী ছিলেন না। তাই প্রথম সপ্তাহে ঢাকার বাইরে কয়েকটি হলে মুক্তি দেন। ভাল রেসপন্স পাওয়ার পর ‍মুক্তি দেন ঢাকায়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল সিনেমা এটি। আয় করে ১৯ কোটি টাকার মতো। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেন- রাজীব, আবুল হায়াত ও ডলি জহুর। ‘স্বপ্নের ঠিকানা’র বেশকটি গান জনপ্রিয় হয়। এর মধ্যে আছে- ‘ও সাথীরে’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ ও ‘নীল সাগর পাড়ি দিয়ে’। মনিরুজ্জামান মনিরের লেখা গানগুলোতে সুর ও সঙ্গীত করেন আলম খান। কণ্ঠ দেন- রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন ও এ্যান্ড্রু কিশোর।

স্বপ্নের পৃথিবী : বাদল খন্দকার পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই। জমিদারের ছেলে সালমান, পাহাড়ী অঞ্চলের সাধারণ মেয়ে শাবনূর। বাবার অত্যাচারী স্বভাবের কারণে বিদেশ ফেরত সালমানকে কেউ বিশ্বাস করে না। তখন সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে তাদের সঙ্গে মিশে যান। এ সিনেমায় পাওয়া যায় অদ্ভুত কিছু পোশাক পরা সালমানকে, যা পরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে যায়। আরও অভিনয় করেছেন- ববিতা, দিলদার, অমল বোস ও রাজীব।

‘স্বপ্নের পৃথিবী’র জনপ্রিয় দুটি গান হল ‘বৃষ্টি রে বৃষ্টি আয় না জোরে’ ও ‘তুমি আমার মনের মানুষ’। মনিরুজ্জামান মনির ও গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা গানে সুর ও সঙ্গীত করেন আলাউদ্দিন আলী। কণ্ঠ দেন- রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন, এ্যান্ড্রু কিশোর ও আগুন।

আনন্দ অশ্রু : শিবলী সাদিক পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পায় সালমানের মৃত্যুর পরের বছর, ১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট। শহরের গীতিকবি-গায়ক সালমান বেড়াতে যায় গ্রামে। সেখানে পরিচয় হয় স্কুল পড়ুয়া শাবনূরের সঙ্গে। এ পর্যায়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী চাচা হুমায়ূন ফরীদির সঙ্গে বিবাদ তৈরি হয় সালমানের। ফলশ্রুতিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে তাকে পাগল বানিয়ে দেওয়া হয়। ট্র্যাজেডির মাধ্যমে শেষ হয় ‘আনন্দ অশ্রু’। আরও অভিনয় করেন- কাঞ্চি, ডলি জহুর, খালেদা আক্তার কল্পনা, সাদেক বাচ্চু ও দিলদার।

এ সিনেমার বেশিরভাগ গানই হিট। উল্লেখযোগ্য হল— ‘তুমি আমার এমনই একজন’ ও ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা, সুর ও সঙ্গীতে কণ্ঠ দেন কনকচাঁপা, সালমা জাহান ও এ্যান্ড্রু কিশোর।

বাংলা মুভি ডেটাবেজ অবলম্বনে।

(দ্য রিপোর্ট/ডব্লিউএস/এইচএসএম/এজেড/সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর