thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫,  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

আজ আরাফার দিন

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২৩ ০০:৪৭:৪৯
আজ আরাফার দিন

ফখরুল ইসলাম, সৌদি আরব : আজ পবিত্র হজ। হাজীদের আরাফাত ময়দানে অবস্থানের দিন। টানা পাঁচ দিনের হজ পালনের লক্ষ্যে মিনার অদূরে আরাফাত ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। লাখ লাখ হাজির কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা-শারিকালাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হবে সেখানকার আকাশ বাতাস।

দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও স্বীয় গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ জানাবেন সমবেত মুসলমানেরা। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্যেরও অবতারণা হবে আজ আরাফাতের ময়দানে।

সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ। বুধবার সূর্যোদয়ের পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে যাওয়া ৩০ লাখেরও বেশি মুসলমান সমবেত হবেন মক্কা থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে। প্রায় সাড়ে ১৪ শত বছর আগে এ ময়দানেই রাসূল (সা.) লক্ষাধিক সাহাবিকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এ ময়দানেই ইসলামের পরিপূর্ণতার ঘোষণা দিয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়েছিল।

হাজিরা আজ আরাফাতের বিশাল প্রান্তরে অবস্থান করে মসজিদে নামিরাহ থেকে প্রদত্ত খুতবা শুনবেন এবং একসাথে জোহর ও আসরের নামাজ এক আযানে একই ইমামের পেছনে জোহরের ওয়াক্তে আদায় করবেন। সূর্যাস্তের সাথে সাথে আরাফাত ময়দান ত্যাগ করবেন।

হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন শুরু হয়েছে মঙ্গলবারমিনার তাঁবুতে হাজীদের অবস্থানের মধ্য দিয়ে। ভিড় এড়াতে হাজীরা রাতেই মিনায় যাওয়া শুরু করেন। গতকাল বেশির ভাগ হাজীই মিনায় অবস্থান করেন। মিনায় গিয়ে তালবিয়া, জিকির, নফল নামাজ, হজের মাসলা-মাসায়েল আলোচনার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন তারা।

আজ (বুধবার) ফজরের নামাজের পরই আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে হাজিদের রওনা হওয়ার নিয়ম। সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। কেউ এই সময়ের মধ্যে এই ময়দানে অবস্থান করতে না পারলে হজ আদায় হবে না। এই ময়দানে জোহরের সময় পরপর জোহর ও আসরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করবেন হাজীরা। মুসাফির হওয়ার কারণে নামাজ কসর করবেন (চার রাকাতের স্থলে দুই রাকাত)। নামাজের আগেই সৌদি গ্রান্ড মুফতি মসজিদে নামিরাহ থেকে খুতবা দেবেন। এর আগে পরে হজযাত্রীদের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে পুরো ময়দান। আমির-ফকির, ধনী-গরিব, সাদা-কালোর ভেদাভেদ থাকবে না সেখানে। সবার পরনে একই ধরনের সেলাইবিহীন কাপড়, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ এবং তারই কাছে গুনাহ মাফ ও রহমতপ্রাপ্তির আকুতি জানাবেন। সূর্যাস্তের সাথে সাথেই আবার মিনায় ফেরার পথে মুজদালিফা এলাকায় অবস্থান নেবেন হাজীরা। ওই স্থানে রাতে অবস্থান করবেন খোলা আকাশের নিচে। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ এক সাথে আদায় করবেন। মিনায় জামারাতে শয়তানের প্রতিকৃতিতে নিক্ষেপের জন্য এখান থেকেই কঙ্কর সংগ্রহ করবেন। রাতে সেখানে অবস্থানের পর কাল ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ শেষে মিনার দিকে রওনা হবেন। কাল সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। মিনায় গিয়ে জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করে এসেই কোরবানি করবেন হাজীরা।

(দ্য রিপোর্ট/একেএস/শাহ/সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

প্রবাস কথা এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস কথা - এর সব খবর