thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জুন ২০১৭, ১০ আষাঢ় ১৪২৪,  ২৭ রমজান ১৪৩৮

সাত কবির কবিতা

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২৪ ১১:৫৩:০৪
সাত কবির কবিতা

দ্বিত্ব শুভ্রা

হিমগান বয়ে যায়

হিমালয় হতে নেমে আসে হিম বায়ু, উড়ে যায়, ভেসে যায়, পাহাড়ের চূড়া
ছুঁয়ে যায়। পরিখায়, সাত ফুঁটোওয়ালা গুহা গহ্বরে ঢুকে পড়ে হিমবায়ু,
বাজে হিমসুর উপত্যকা-উপত্যকায়।

ঢালে ছেড়ে দেই গা, সরসর ছরছর করে নেমে যাই।
কত দূর দেখা যায় অতীত ?
তবে ওই খানে হিমঘর ?

আঙুলে ভর দিয়ে উপরে তাকাই, ভবিষ্যত কতটুকুবা দেখা যায় !
হিমবায়ু আসে তবে কি ঐখান হতে ?

আর্দ্রতায় ভরে ওঠে কালোমাটি, আরো বরফে শঙ্খচূড়া বেড়ে আরো বড় হয় ।

কামরুন নাহার কুহেলী

ক্ষুধিত শকুন

এক মন্বন্তরের ক্ষুধিত শকুন-
নগ্ন কাস্তে সজ্জিত অঘ্রাণি জমিনে
ক্ষুধার শয্যা পাতে রমণীয় বিছানায়
প্রেম, বোধ, সুস্থতার মাংস খুঁড়ে খুঁড়ে খায়
করোটিতে ধুলোর আবরণে জমা করে রক্ত-পুঁজ!

নক্ষত্র বিশ্বাস ঝরে পড়ে সেই রাতে
সেই রাত-
জ্যোৎস্নাহীন নক্ষত্রহীন সেই রাত
বৃষ্টির সফেদ ফেনায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়
প্রতিজ্ঞা-প্রতিশ্রুতির মনন মুখোশ।

কবরের হলুদ কাফনে মোড়া স্মৃতির বালিশ
পড়ে থাকে পাশে।

শম্পা প্রদীপ্তি

তুই যে আমার আলোর দীয়া

ছোট্ট পাখি ছোট্ট ডানায় আসলি উড়ে তুই
আসলি বলে ফুলবাগিচায় ফুটল গোলাপ জুঁই
গাইলো গানের বুলবুলিরা, বইলো হাওয়া বেশ...
উঠোনজুড়ে ছড়িয়ে গেল রঙিন আলোর রেশ।

ছোট্ট পাখি... পক্ষী না তুই, তুই যে বুকের ধন...
তুই যে আমার শেষ বিকেলের উদাস করা মন...
তুই যে আমার মেঘের পরী, ছিলি অচিনপুর...
তুই এসে এই নিথর মনে বাজিয়ে দিলি সুর।

গানের পরী, প্রাণের পরী, আলোর পরী তুই...
কখন কোলে নিচ্ছি কখন আলতো করে ছুঁই।
কান্না-হাসির দুষ্টুমিতে যাচ্ছে বেলা তোর...
তোর পরশে রাত্রি শেষে আসছে নতুন ভোর।
তুই এলি যেই রিমঝিমানো বৃষ্টি এলো খুব
মিষ্টি হেসে চাঁদটি দিলো মেঘের কোলে ডুব
তুই হলি সেই মেঘলা রাতের চাঁদের পরী ঠিক...
আনন্দতে ভরিয়ে দিলি বিষণ্ণ চৌদিক।

তুই তো আমার মিষ্টি মেয়ে জড়িয়ে তোকে শুই...
দেয়ার দিনে আলোর দীয়া জ্বালিয়ে এলি তুই।

...
মাশুক শাহী

সৃষ্টিসূত্র

এই কূলে আমি ওই কূলে তুই

আমি যদি লাঙল হই তুই হবি ভূঁই

ভূমির গভীরে শুয়ে থাকে মুক্ত

মুক্তর মুক্তিতে হতে হয় যুক্ত

মুক্তর শূন্যতে গভীর আনন্দ

দোঁহে দেহে নাচে অপরূপ ছন্দ

শূন্যের ওঙ্কারে ঝরে পড়ে বৃষ্টি

বৃষ্টির বিন্দুতে জীবনের সৃষ্টি

প্রেমজ দীনতায় তৃষ্ণার ক্ষয় হয়

তৃষ্ণার তুলিতে জীবনের হয় জয়।

শামস আরেফিন

তারার খালা

হৃদয় নদীর ঢেউয়ের স্রোতে নৌকা ভাসে,
স্রোতের টানে সিন্দাবাদের সাহস আসে।
সেই সাহসে হাসনাহেনার ঘ্রাণ ছড়ানো,
শিশির ভেজা শিউলি ফুলের দুল পরানো।

আকাশ রাতে জোছনা হ্রদে তারার মালা,
স্নেহের জাগে মেঘ তারাদের আপন খালা।
খালার মায়ায় মেঘ তারাদের ঘুম পাড়িয়ে,
এই শরতে নামল পথে রোদ মাড়িয়ে।


রাবেয়া সুলতানা

নেশাকাব্য

এমন দিনে তোমার নেশায় বিভোর হয়ে রই
বুকের মাঝে আসন পাতি চোখাচোখি হই
স্বপ্ন ভাসে আকাশেতে নিত্য প্রহর গুনি
নক্সীকাঁথার ফোঁড়ে ফোঁড়ে কাব্যকথা বুনি।

এই করে যে ফুরিয়ে যায় বয়স খাতার মাঠ
সময় গেলে সাধন হবে মনে’তে বিভ্রাট
কাজের মাঝে চিন্তা এসে শঙ্খসুরে দেয় হানা
তোমায় ছাড়া উড়বে কি এই পাখির ডানা?

তোমার ছায়ায়, তোমার পথে লেপ্টে দিয়ে হাত
যাদুর ছোঁয়ায় হঠাৎ করে রাঙ্গা সুপ্রভাত
তোমার ঘোরে, তোমার মোহে জানান দিয়ে মাতি
ভাটার টানে জোয়ার আনে জাগায় রাতারাতি।


এনাম রেজা

ছায়াসঙ্গী

না পাওয়াটা কোনো দোষের নয়
অতি চাওয়টাই দোষের।
চাওয়া নিয়ে আমার কোনো বাড়াবাড়ি নেই
সখ্য নেই বহুদিন ধরে পাওয়ার সাথে।
না পাওয়ার সাথে আমার সম্পর্কটা বেশ পুরনো।
তাতে কী, আমি তো বেঁচে আছি
টিকে আছি পুরনো সম্পর্কটা আঁকড়ে ধরে।
চোরাবালিতে টিকে থাকার কৌশলটা বেশ মজার
রপ্ত করেছি ঠিক যখন থেকে হাঁটতে শিখেছি।
জীবনের বেশির ভাগ সময়টা হেঁটেছি পায়ে পা মিলিয়ে
আমার ছায়ার সাথে।
ছায়া হারিয়ে গেলেও আবার ফিরে আসে
হাঁটে আমার পায়ে পা মিলিয়ে।
কিন্তু এভাবে আর কেউ ফিরে আসেনি
যারা আমার একান্তভাবে হাঁটার সঙ্গী ছিল।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সাহিত্য এর সর্বশেষ খবর

সাহিত্য - এর সব খবর



রে