thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪,  ২৬ শাবান ১৪৩৮

পর্যটকদের বরণে সেজেছে বান্দরবান

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৫:৫৯:৪৯
পর্যটকদের বরণে সেজেছে বান্দরবান

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান : ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। দর্শনীয় স্থানগুলো ছাড়াও জেলা শহর ও উপজেলাগুলোতে পর্যটকদের আবাসনের সুবিধার্থে গড়ে তোলা হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টহাউজ, গেস্টহাউজগুলোও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এবার ঈদের ছুটিতে বান্দরবান ভ্রমণে পর্যটকদের অগ্রিম রুম বুকিং তেমনটা সাড়া ফেলেনি। শুধুমাত্র ঈদের পরের তিনদিন ২৬, ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর মোটামুটি বুকিং হয়েছে আবাসিকগুলোতে। বিষয়টি স্বীকার করে বান্দরবান রেসিডেন্সিয়াল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, অন্যান্যবার ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এবার পুরোটায় ব্যতিক্রম চিত্র। সরকারী বন্ধের সময় ঈদের ছুটি পড়ে যাওয়ায় পর্যটকদের অগ্রিম রুম বুকিং কমে গেছে।

তবে অগ্রিম বুকিং কম হলেও পর্যটকের আগমন ঘটবে আশানুরূপ এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।

প্রতিবছর ঈদকে সামনে রেখে বান্দরবানে পর্যটকদের আগমন ঘটে। বান্দরবানে প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে ছুটে আসেন পর্যটকরা। পাহাড় থেকে ঝড়ে পড়া ঝর্ণা, প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গসহ অসংখ্য পাহাড়। কি নেই এখানে। পর্যটকের বিনোদনের সমস্ত আয়োজন রয়েছে বান্দরবানে। জেলা সদরের মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সে লেকের উপর নির্মিত আকর্ষণীয় দুটি ঝুলন্ত সেতু, মিনি সাফারি পার্ক ও চিড়িয়াখানা ঘুরে বেড়াচ্ছে পর্যটকরা। পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রের টাওয়ারে উঠলে দেখা মেলে সমুদ্রের। এখানে যেন পাহাড়ের সঙ্গে আকাশ মিতালি গড়েছে নীলাচলে।

বাংলার দার্জিলিংখ্যাত চিম্বুক পাহাড় এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত স্বপ্নীল নীলগিরি পর্যটন স্পটে গিয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। অসংখ্য পাহাড়ের মাঝখানে নির্মিত নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্র যেন মেঘে ভাসছে। মুহূর্তে মেঘ এসে এখানে ছুঁয়ে যাচ্ছে কটেজগুলো। জেলা শহরের অদূরে অবস্থিত শৈলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানি পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ঝর্ণার স্রোতধারা বয়ে চলেছে অবিরামধারায়। পাশে বসেই পাহাড়ি তরুণীরা তাঁতের তৈরি কাপড় ও স্থানীয় বাগানে উৎপাদিত দেশীয় ফল বিক্রি করছে। এছাড়াও জেলা সদরের বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত বৌদ্ধধাতু স্বর্ণমন্দির জেলায় পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুনমাত্রা। এছাড়াও রুমা উপজেলায় অবস্থিত রিজুক ঝর্ণা, চিংড়ি ঝর্ণা, রহস্যময় কিংবদন্তি বগালেক এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং, তাজিংডং বিজয়সহ দর্শনীয় বহু স্থান। অপরদিকে থানছি উপজেলার রেমাক্রি জলপ্রপাত, নাফাকুম ঝর্ণা, তীন্দু বড়পাথর, বাঁদুর গুহাসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। আর পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা সাঙ্গু নদীতে নৌ-ভ্রমণতো সত্যিই রোমাঞ্চকর।

অপরদিকে বান্দরবানের পাহাড়ে বসবাসরত মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাসের বৈচিত্র্যময় জীবনচিত্র পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওয়া।

জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী জানান, ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামলাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপদ ভ্রমণের স্বার্থে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। পরিবহন ও আবাসিক হোটেলগুলোতে কোনো ধরনের বাড়তি ভাড়া এবং পর্যটকদের হয়রানির খবর পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

(দ্য রিপোর্ট/এপি/সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে