thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭, ১২ চৈত্র ১৪২৩,  ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৮
শামীম রিজভী

দ্য রিপোর্ট

অজ্ঞান ও মলমপার্টির টার্গেট ঘরমুখো গরু ব্যাপারী

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ ২১:১৮:৫২
অজ্ঞান ও মলমপার্টির টার্গেট ঘরমুখো গরু ব্যাপারী

নানা আয়োজনে ঈদ জাঁকজমকভাবে পালনে যখন মুসল্লিরা ব্যস্ত তখনই রাজধানীসহ সারাদেশে অজ্ঞান ও মলমপার্টির চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণত ঈদের সময় কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কারণে আর্থিক লেনদেন বেড়ে যায়, আর এ সুযোগকেই কাজে লাগাতে চায় এ চক্রগুলো।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানীর পশু কেনাবেচা নিয়ে রাজধানীজুড়ে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হচ্ছে ক্রেতাবিক্রেতাদের মধ্যে। এ সময়টিকে কাজে লাগিয়ে অজ্ঞান ও মলমপার্টির চক্র সক্রিয় হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দাবি করছেন অজ্ঞানপার্টিকে রুখতে তারা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। ইতোমধ্যে অজ্ঞান ও মলমপার্টির চক্রের বেশকিছু সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু রাজধানী খালি হওয়ার পর ঈদের ছুটির দিনগুলোতে যখন রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা থাকবে তখন বাড়ির পথে রওনা দেওয়া গরুর ব্যাপারী এবং রাতে গরু কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের টার্গেটে রেখেছে অজ্ঞান ও মলমপার্টি চক্রের সদস্যরা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তৎপর রয়েছেন, যাদের মূল টার্গেট এখন গরু ব্যবসায়ীরা। গরু বিক্রির টাকা হাতিয়ে নিতে তারা বিশেষ মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এ জন্য তারা গরুর ব্যাপারী সেজেও হাটগুলোতে অবস্থান নিয়েছে, যাতে সাধারণ গরুর ব্যাপারীদের সঙ্গে তারা দ্রুত মিশে যেতে পারেন। এছাড়াও গরুর ব্যাপারীরা যখন বাস, ট্রেন বা লঞ্চে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তখন তাদের পিছু নেবে এ চক্রের সদস্যরা। কৌশলে ব্যাপারীদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অথবা তাদের অজান্তে সর্বস্ব লুট করে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অজ্ঞান ও মলমপার্টি চক্রের সদস্যদের। এছাড়া সাধারণ যাত্রীদের দিকেও তাদের নজর রয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার (ডিসি, উত্তর) শেখ নাজমুল আলম দ্য রিপোর্টকে জানান, অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা বিভিন্ন টার্মিনালে মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো খাবার খাইয়ে অজ্ঞান করে সব লুটে নেয়। এরা যাত্রী বেশেও অবস্থান নিয়ে থাকেন। তবে ঈদুল আজহার গরু ব্যবসায়ীরা তাদের বিশেষ টার্গেট।

ঈদের আগে বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু অজ্ঞান ও মলমপার্টি চক্রের সদস্যদের আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঈদ নিয়ে তাদের পরিকল্পনার অনেক তথ্য জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা। চক্রের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে ওই চক্রের সদস্যরা কাজ করতে পারছে না। এ জন্য তারা অপেক্ষায় আছে কোনো ব্যাপারী হাট থেকে বের হয়ে বাড়ির পথে রওনা দেবে তখন কাজ সারবে। মাঝারি থেকে বড় গরু ব্যাপারীদের মূলত তারা টার্গেটে রেখেছে। টার্মিনালগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি থাকায় সেখানেও তারা সাবধানে পদক্ষেপ নেবে।

চক্রগুলোর পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও জানা যায়, অজ্ঞান ও মলমপার্টির সদস্যরা ব্যাপারী সেজে সাধারণ ব্যাপারীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তুলবে। পরে কৌশলে চোখে মলম মাখিয়ে বা ট্যাবলেট খাইয়ে তারা টাকাপয়সা নিয়ে চম্পট দেবে। এ জন্য তারা অজ্ঞান করার মলম, মরিচের গুঁড়া, চেতনানাশক ওষুধ, ডিপ হিট স্প্রে ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমাদের তৎপরতা যত বাড়বে, অপরাধীদের তৎপরতা তত কমবে। এরই মধ্যে অজ্ঞান ও মলমপার্টির দুই শতাধিক সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে। গরুর হাটগুলোতে অজ্ঞান ও মলমপার্টি যাতে কোন ধরনের অপতৎপরতা দেখাতে না পারে, সে জন্য ডিএমপির বিশেষ নজরদারি রয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/এমএসআর/এপি/এইচএসএম/সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে