thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩,  ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা লোকসানে

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৮:৫৮:১২
মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা লোকসানে

বাহরাম খান, দ্য রিপোর্ট : ঢাকায় মৌসুমী চামড়ার ব্যবসায়ীরা এবার সুবিধা করতে পারছেন না। নিজেরা প্রতিযোগিতায় নেমে তুলনামূলক বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। এখন বিক্রি করতে গিয়ে অনেকটা কেনা দামেই ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা শনিবার সরেজমিনে ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। ব্যবসায়ীদের কেউ বলছেন, তারা বেশি দামে চামড়া কিনে এখন লোকসানও গুনছেন।

ট্যানার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেনও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের এই অবস্থার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। শনিবার দুপুরে তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, যারা প্রকৃত মধ্যসত্বভোগী চামড়া ব্যবসায়ী তারা ঠিক দামেই চামড়া কিনে পরে লাভ করছেন। কিন্তু মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তাড়াহুড়া করে নিজেদের ক্ষতির মুখে ফেলেছেন।

ঈদের আগে চামড়ার ব্যবসায়ীরা প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয় সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা। ঈদুল আজহাকেন্দ্রিক মৌসুমী চামড়ার ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রতিযোগিতার কারণে অনেকে প্রায় মূল ব্যবসায়ীদের ঘোষিত দামেই চামড়া কিনেছেন, এখন ট্যানারি মালিকরাও নির্ধারিত দামের বেশি টাকা দিয়ে চামড়া নিচ্ছেন না।

গত কোরবানির ঈদে প্রথমবারের মতো চামড়ার ব্যবসায় নামেন জিগাতলার মাসুম। সেই ঈদে দুই দিনের ব্যবসায় ভালো লাভ হয়েছিল। এবার আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে বড় আকারে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু, অন্যদের টেক্কা দিয়ে বেশি দামে চামড়া কিনে ‘ধরা’ খেয়েছেন।

বিশ বছরের বেশি সময় ধরে চামড়া কিনে ট্যানারিতে দেন আলী আকবর হোসেন। কিন্তু এবার তিনি একটি চামড়াও কিনেন নি। তার সঙ্গে কথা হয় হাজারীবাগের ট্যানারি মোড়ের অফিসে।

এই ব্যবসায়ী চামড়া না কেনার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, বিদেশে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। ট্যানারি মালিকদের গুদামে চামড়ার স্তূপ। খুব বেশি চামড়ার চাহিদা তাদের নেই, তাই আমি চামড়া কিনে তেমন লাভ করতে পারব না, এই হিসেব আগেই করে রেখেছি।

তবে আলী আকবরের এই হিসেবে সন্তুষ্ট ছিলেন না তার বড় ছেলে মোহসীন আলী। বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ঈদের দিন ১০ হাজার পিসের মতো চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যায় প্রতি চামড়া দুইশ টাকা লোকশানে বিক্রি করেছেন।

শনিবার দুপুরে বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্যানারি মোড়ে আসা চামড়া কিনছিলেন কারখানার মালিক মফিজুল্লাহ নসু। তার মতে, আগে থেকেই দাম ঘোষণা করা আছে। আমি তো সেই দামেই চামড়া কিনব। বেশি দাম কেন দেব, আমার গোডাউনে যথেষ্ট মাল আছে।

তার পাশে থাকা আরেক ব্যবসায়ী সাদিক হোসেন বলেন, গতবার ঈদে এইসব মৌসুমী ব্যবসায়ীরা হাজার-বারশো টাকা দিয়ে চামড়া কিনে আমাদের কাছে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছে। তখন আমাদের গোডাউন খালি ছিল, চামড়া কেনারও প্রতিযোগিতা ছিল। এবার এক্সপোর্ট কম, এজন্য মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ধরা খেয়েছে। হ্যাঁ, ব্যবসা এত সোজা না।

(দ্য রিপোর্ট/বিকে/এইচএসএম/সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৫)


পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে