thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২৪ জুন ২০১৭, ১০ আষাঢ় ১৪২৪,  ২৮ রমজান ১৪৩৮

লাউয়াছড়ায় একাকার প্রকৃতি আর উৎসব

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২৮ ১০:৩৭:৫৪
লাউয়াছড়ায় একাকার প্রকৃতি আর উৎসব

তমাল ফেরদৌস, লাউয়াছড়া থেকে ফিরে : প্রকৃতি আর ঈদ উৎসব। দুটোই যেন মিলেমিশে একাকার। নগরায়নের একঘেয়ে জীবনযাপন ঝেড়ে ফেলতে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে এবং ঈদের ছুটিকে আনন্দ উৎসবে ভরে দিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর এখন মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।

বন বিভাগ জানিয়েছে, এবার ঈদে গতবারের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। তাই এবার ঈদের তিন দিনেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। পর্যটকদের এ আনাগোনা সপ্তাহজুড়ে বহাল থাকবে। তাই উদ্যানের প্রবেশ মুখে রাস্তার দুই পাশে পার্কিং ছাড়াও রয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত জাতীয় উদ্যান এই লাউয়াছড়া। মৌলভীবাজার ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন এই ন্যাশনাল পার্ক ১৯২০ সালে ১২৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে প্লান্টেশন তৈরি করে। সেই বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনে পরিণত হয়েছে।

এই পার্কে বিরল প্রজাতির পশু-পাখির দেখা মেলাসহ এখন পার্কটি শিক্ষা, গবেষণা, ইকো-ট্যুরিজমসহ ভ্রমণবিলাসীদের চিত্তবিনোদনের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পট হয়ে উঠছে।

উদ্যানের বনের ভেতরে রয়েছে তিনটি প্রাকৃতিক ফুট ট্রেইল বা পায়ে হাঁটা পথ। এর মধ্যে একটি তিন ঘণ্টার, একটি এক ঘণ্টার ও অপরটি ৩০ মিনিটের পথ।

আগত পর্যটক এস এ কাঁকন দ্য রিপোর্টকে জানান, নগর জীবনের বিষন্নতা ভুলতে এই লাউয়াছড়ায় আসা। পরিবারের সদস্যসহ স্বজনদের নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সকাল-সন্ধ্যা কাটাতে পেরে খুব খুশি সবাই। তেমন পশু-পাখি না দেখলেও শান্ত পরিবেশ, হিমেল বাতাস ও একটু বৃষ্টির দেখাতেই পরম আনন্দ পেয়েছেন।

এদিকে জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে রয়েছে শ্রীমঙ্গল-সিলেট অরক্ষিত গেটবিহীন রেললাইন। এই লাইন দিয়ে আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ মালবাহী ট্রেনগুলো অহরহ চলাচল করছে। কিন্তু গাছে ঝুলানো সতর্ক সাইনবোর্ড ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় আর কোনো ব্যবস্থা নেই। পর্যটকদের অনেকেই রেললাইনের ওপর বসে ছবি তোলাসহ গল্প-গুজবে সময় কাটান। অসচেনভাবে বা বেখেয়ালের কারণে যেকোন সময় প্রাণহাণির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এখানে পর্যটক পুলিশ থাকলেও তাদের পক্ষ থেকে তেমন দায়িত্ব নিয়েও কাজ করতে দেখা যায় না। পর্যটক পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও সাংবাদিক পরিচয় জেনে তারা এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সৈয়দ মহসীন পারভেজ ও আলী হোসেন রাজন দ্য রিপোর্টকে জানান, অরক্ষিত ও গেটবিহীন এই রেললাইনের ওপর বেড়াতে আসা শিশু, মধ্যবয়সী ও টিনএজরা বসে গল্প-গুজবে মেতে ওঠতে দেখা যায় প্রায়ই। কিন্তু বন বিভাগ বা পর্যটন পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে বা সতর্ক করতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। তাই সরকারের কাছে এখানে একটি গেট নির্মাণের দাবি জানান গণমাধ্যম কর্মী ও পর্যটকরা।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনবিট কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম দ্য রিপোর্টকে বলেন, জাতীয় উদ্যানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে এবার ঈদে গতবারের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। তাই গত দুই দিনে প্রায় তিন হাজার পর্যটক এখানে এসেছেন। ঈদের তিন দিনেই ৫০ হাজারেরও বেশি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/এইচএইচ/শাহ/সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে