thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭, ৩ মাঘ ১৪২৩,  ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮

সাদা সোনার বাজার দখল করছে কাঁকড়া

২০১৫ সেপ্টেম্বর ৩০ ০০:১৩:১১

দেশের রফতানির তালিকায় ধীরে ধীরে উপরে উঠে যাচ্ছে প্রায় অবহেলিত এক জলজ প্রাণী কাঁকড়া। সুন্দরবনের আশপাশ এলাকার কয়েক লাখ মানুষের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে এই কাঁকড়া।

বর্তমানে যেখানে বড় সাইজের চিংড়ির সর্বোচ্চ মূল্য কেজিপ্রতি ৫০০-৮০০ টাকা, সেখানে একই সাইজের কাঁকড়া বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। ধর্মীয় কারণে দেশের বাজারে তেমন চাহিদা না থাকলেও বিদেশে কাঁকড়ার চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া। ফলে কাঁকড়া এখন দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমনটিই বলেছে দ্য রিপোর্ট।

প্রতিবেদক লিখেছেন, সুন্দরবন ঘেঁষা খুলনার উপকূলীয় এলাকা দাকোপ উপজেলায় লবণ পানির চিংড়ি ঘের এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। লবণ পানির চিংড়ি ঘেরের পরিবর্তে গত কয়েক বছর থেকে সেখানে তৈরি হয়েছে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণের ঘের। এই ঘেরে নদীর লবণ পানির সঙ্গেই উঠে আসে কাঁকড়ার পোনা। ফলে চিংড়ির মতো বেশি দামে পোনা কিনতে হয় না। সুন্দরবনের বিশাল এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বড় কাঁকড়া সরাসরি রফতানি করা হয়। আর ছোট কাঁকড়াগুলোকে ঘেরে ছেড়ে দিয়ে ১৫-১৬ দিনেই মোটাতাজা করে রফতানিযোগ্য করে তোলা হয়। বিদেশে জীবিত কাঁকড়াই রফতানি করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে প্রথম ১৯৭৭ সালে মাত্র দুই হাজার ডলারের কাঁকড়া রফতানি হয়েছিল। তার পর ধীরে ধীরে বেড়ে সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাড়ে ১০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

কাঁকড়া রফতানির বড় অংশ যায় চীনে, তার পর রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, জাপান, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মিয়ানমার এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ মিলিয়ে মোট ১৮টি দেশে এই কাঁকড়া রফতানি হচ্ছে।

যেহেতু কাঁকড়া একটি অপ্রচলিত পণ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কাঁকড়ার তেমন কোনো চাহিদা নেই, সেহেতু কাঁকড়া যদি লাভজনক রফতানি পণ্যে পরিণত হয় তা রফতানিকারক, সংগ্রাহক এমনকি সরকারের জন্যও সুখবর। প্রতিবেদন অনুযায়ী কাঁকড়া যদি চিংড়ির স্থান দখল করতে থাকে এবং আমরা তা উৎসাহিত করতে চাই তা হলে রফতানির আগে আমাদের নিশ্চিত হওয়া দরকার কাঁকড়ার সঙ্গে আমাদের সুন্দরবন বা উপকূলীয় পরিবেশের সম্পর্ক কী। প্রকৃতি থেকে ব্যাপক হারে কাঁকড়া সংগ্রহের কারণে আমাদের পরিবেশের ওপর যদি বিরূপ প্রভাব ফেলে তাহলে আমাদের ভেবে দেখতে হবে আদৌ কাঁকড়া রফতানি করা যাবে কিনা, বা গেলেও তার মাত্রা কতটুকু হবে। তবে হ্যাঁ, কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে যদি কাঁকড়ার উৎপাদন বাড়ানো যায় তা হলে নিশ্চয়ই সে ব্যাপারে সরকারের পৃষ্টপোষকতা দেয়া উচিত।


পাঠকের মতামত:

SMS Alert


রে