thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ৮ ফাল্গুন ১৪২৩,  ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮

হাতের কাছেই জীবাণুর আস্তানা

২০১৫ অক্টোবর ০১ ১৬:৪৭:৩৬
হাতের কাছেই জীবাণুর আস্তানা

আদিত্য আকবর, দ্য রিপোর্ট : কোথায় নেই জীবাণু! হাত, পা, জুতা, মোজা, লিফট, বাস— সবখানেই। তবে বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অনুজীব আমাদের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু কিছু কিছু তো ভয়াবহ! হতে পারে বিরক্তিকর এ্যালার্জি, পেটের পীড়া ও ত্বকের সমস্যার কারণ।

আপনি হয়তো ভাবেন টয়লেটের প্যান, ময়লার ঝুড়ি বা মেঝে হল ক্ষতিকারক জীবাণুর আস্তানা। এ ভাবনায় ভুল নেই। কিন্তু ভাবনাটা আরেকটু বিস্তৃত করা দরকার। এমন এমন স্থান আছে— যেগুলোর কথা আমরা ভুলেও ভাবি না, সে সব স্থান হতে পারে জীবাণুর ডিপো। তেমন কিছু স্থানের কথা জেনে নিন—

কম্পিউটার কি-বোর্ড

আপনার বেশিরভাগ সময় কাটে কম্পিউটার কি-বোর্ডের বোতম টিপে। অফিসের কাজ, লেখালেখি, সোশ্যাল মিডিয়া সার্ফিং… কত কী! ফাঁকে ফাঁকে এটা-সেটা চিবুতে থাকেন। হাত ধোয়ার বালাই নেই। অথচ ডাইনিং টেবিলে বসার আগে ধোয়াধুয়ির কত কসরত। কি-বোর্ডে দিনে দিনে জমা হতে থাকে মরা চামড়া, তেল, খাদ্যসহ নানা জিনিসের কণা আর জীবাণু। এ ছাড়া টয়লেট থেকে ফিরে ভাল করে হাত না ধোয়ার চিহ্নও লেগে থাকে কি-বোর্ডে। ফলে শত শত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে থাকে। আর কি-বোর্ড টেপাটিপির সঙ্গে খাবার খেতে খেতে সে সব চলে যায় আপনার পাকস্থলীতে!

কি-বোর্ডের এ কুফল থেকে বাঁচার সহজ সমাধান হল খাওয়ার আগে হাত ধোয়া। খাওয়ার মাঝে কম্পিউটারে কাজ করবেন না। খাওয়ার সময় খাওয়া, কাজের সময় কাজ। আর কি-বোর্ড কাভার ব্যবহার করুন, যা কি-বোর্ডকে রাখবে পরিষ্কার।

মোবাইল ফোন

মোবাইল এমন এক বস্তু, যা কখনো কখনো আপনার শরীরী হাজিরানার সমার্থক। কারণ মোবাইল ছাড়া আপনার এক মুহূর্তও চলে না। আর এ দরকারি গ্যাজেট রীতিমতো ব্যাকটেরিয়ার বড় সাইজের কলোনি। এমনকি টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে মোবাইলে। ভয়াবহ ই-কোলি ব্যাকটেরিয়া থাকার আশঙ্কা থাকে ২০ ভাগ, যা নিয়মিত পেট খারাপের কারণও হতে পারে। এ ছাড়া ফ্লুর জীবাণু বা এমআরএসএ থাকার সম্ভাবনা ১০ ভাগ। সম্ভব হলে সপ্তাহে একবার মোবাইল কাভার এন্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করুন।

বাথরুম টাওয়াল

জীবাণুর হালচাষের জন্য ভাল জায়গা হল বাথরুম টাওয়াল। অনেক বাসা বা অফিসে দেখবেন বাথরুমের ভেতর বা বাইরে স্ট্যান্ডে কী চমৎকারভাবে দুলছে টাওয়াল। আর লোকজন বাথরুম ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে মুছে যাচ্ছে। কিন্তু এমন টাওয়ালে থাকতে পারে সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া। সম্প্রতি এক গবেষণায় এ তথ্য জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব এরিজোনা।

সহজ সমাধান হল পরিবারের সব সদস্যের আলাদা আলাদা টাওয়াল থাকা। বিশেষ করে কারও চোখে বা ত্বকে সংক্রমণ থাকলে তার টাওয়াল আলাদা থাকা উচিত। সপ্তাহে কমপক্ষে একবার ৬০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা তার বেশি তাপমাত্রায় টাওয়াল সিদ্ধ করে পরিষ্কার করুন। কারণ ঠাণ্ডা পানিতে ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকতে পারে সহজেই।

বেসিন

হাত-মুখ ধোয়া, কুলির সুবিধায় ব্যবহৃত হয় বেসিন। এ ছাড়া রান্নাঘরে থাকে বাসন-কোসন ধোয়ার সিঙ্ক। এর সবকটিতে জমতে থাকে ছোট ছোট উচ্ছিষ্ট। তাই বেসিন হতে পারে জীবাণুর জন্ম ও বেড়ে ওঠার আদর্শ স্থান। তাই নিয়মিত বেসিন পরিষ্কার করুন।

জানালার পর্দা, বিছানার চাদর

দরজা-জানালার পর্দা, বালিশের কাভার, বিছানার চাদর হল ধুলো-বালির আখড়া। এতে আশ্রয় নেয় জীবাণু। আর জমে থাকা ধুলো-বালির কারণে হতে পারে কাশি ও এ্যাজমাসহ এ্যালার্জিক সমস্যা। তাই প্রতিদিন বিছানা ও জানালার পর্দা ঝেড়ে রাখুন। আর হ্যাঁ ওই সময় মুখে মাস্ক পরে নিন। প্রতি সপ্তাহে বদল করুন বিছানার চাদর। দরজা-জানালার পর্দা মাসে কমপক্ষে দু’বার ধুয়ে দিন। ভাল করে রোদে শুকান। একই কথা সোফার কাভার ও কার্পেটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ধোয়া-মোছার সরঞ্জাম

থালা-বাসন পরিষ্কারের জন্য আমরা ব্রাশ, ডিশ ক্লথসহ নানান কিছু ব্যবহার করি। এরা পরিষ্কারের সরঞ্জাম হলেও বহন করতে পারে ই-কোলি, সালমোনেল্লা, এমআরএসএ ও ফ্লু ভাইরাস। তাই বেশি তাপমাত্রায় নিয়মিত পরিষ্কার করুন ধোয়া-মোছার সরঞ্জাম।

(দ্য রিপোর্ট/ডব্লিউএস/এজেড/অক্টোবর ০১, ২০১৫)


পাঠকের মতামত:

SMS Alert

লাইফস্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফস্টাইল - এর সব খবর



রে