thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০১৭, ১৫ চৈত্র ১৪২৩,  0 জুলাই ১৪৩৮

৬৭-তে পদার্পণ করছেন জেনারেল ইবরাহিম

২০১৫ অক্টোবর ০৪ ০৭:৫৮:২৪
৬৭-তে পদার্পণ করছেন জেনারেল ইবরাহিম

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক রবিবার ৬৭ বছরে পদার্পণ করবেন।

১৯৪৯ সালের ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার হালদা নদীর তীরে উত্তর বুড়িশ্চর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা এস এম হাফেজ আহম্মেদ ও মাতা সামসুন্নাহার।

১৯৬২ সালে ইবরাহিম ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। তিনি ১৯৬৮ সালে এই কলেজ থেকে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের অধীনে মানবিক বিভাগে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুলে যোগ দেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে বিএ পাস করেন। দীর্ঘদিন পর ২০০৩ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে মাস্টার ইন ডিফেন্স স্টাডিজ পাস করেন। সামরিক পেশাগত লেখাপড়ার অংশ হিসেবে তিনি ১৯৮২-৮৩ সালে ক্যাম্বারলিতে অবস্থিত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশ্ববিখ্যাত দ্য রয়েল স্টাফ কলেজ এবং ১৯৮৯-৯০ সালে কারলাইল ব্যারাকসে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর বিখ্যাত ইউ এস আর্মি ওয়ার কলেজে অধ্যায়ন করেন।

সৈয়দ ইবরাহিম সেপ্টেম্বর ১৯৭০-এ পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুলের ২৪তম ওয়ার কোর্সে সর্বোত্তম ক্যাডেট বিবেচিত হয়ে তথা মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে কমিশন লাভ করেন। ঐতিহ্যবাহী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নে যোগদান করেন। একই ব্যাটালিয়নের সঙ্গে ও ৩ নম্বর সেক্টরের ভৌগোলিক এলাকায় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সাহসিকতাপূর্ণ যুদ্ধ ও নেতৃত্বের জন্য তিনি বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত হন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তিনি কোম্পানি, ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড ও পদাতিক ডিভিশন কমান্ড করেন। মিরপুর সেনানিবাসের প্রতিরক্ষা বাহিনী কমান্ড এ্যান্ড স্টাফ কলেজের প্রশিক্ষক, সেনাবাহিনীর সদর দফতরে ডিরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনস, ভাটিয়ারিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন জেনারেল ইবরাহিম।

১৯৮৭ থেকে ’৮৯ সময়কালে সংঘাত-সংকুল পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি নীতিমালার আওতায় তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি আলোচনায়ও নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে অবসরে যাওয়ার অব্যাবহিত পূর্বে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তিনি ঢাকা মহানগরে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

অবসর জীবনে মেজর জেনারেল ইবরাহিম বেসরকারি উদ্যোগাধীন একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার বছরের অধিককাল প্রথম নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী তিন বছর তিনি ইসলামিক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ এ্যান্ড প্রোপাগেশন অব দ্য টিচিংস অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) [মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের শিক্ষার, গবেষণা ও প্রচার ইনস্টিটিউট]-এর প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। চাকরি জীবনে পেশাগত কারণে এবং অবসর জীবনে বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনেক দেশ একাধিকবার করে সফর করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত অনেকবার উমরাহ্ করার জন্য ও ১৯৯২ সালে সস্ত্রীক হজ পালন করেন।

তিনি ডিওএইচএস মহাখালীতে সপরিবারে বসবাস করেন। তার স্ত্রী মিসেস ফোরকান ইবরাহিম একজন গৃহিণী। একমাত্র ছেলে সৈয়দ ফললুল করিম মুজাহিদ ও একমাত্র মেয়ে শারমিন ফাতেমা ইন্না।

দলীয় চেয়ারম্যানের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি রবিবার বিকেলে মহাখালীর ডিওএইচএসের বাসায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন পার্টির মহাসচিব এএম আমিনুর রহমান।

(দ্য রিপোর্ট/টিএস/এমএইচও/শাহ/অক্টোবর ০৪, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

এই দিনে এর সর্বশেষ খবর

এই দিনে - এর সব খবর



রে