thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪,  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার কারসাজি

সিরাজদৌল্লাহসহ ৩ জনের মামলার স্থগিতাদেশ দাখিলের নির্দেশ

২০১৫ অক্টোবর ০৪ ১৫:১৯:০১
সিরাজদৌল্লাহসহ ৩ জনের মামলার স্থগিতাদেশ দাখিলের নির্দেশ

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ২০১০ সালে কৃত্রিমভাবে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারের দর বাড়ানোর অভিযোগে সিরাজদৌল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে পুঁজিবাজার বিষয়ক ট্রাইবুন্যালে। এরই মধ্যে আসামিদের রিটের প্রেক্ষিতে ২ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত এ আদেশে ট্রাইবুনালে মামলা পরিচালনায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আর সেই স্থগিতাদেশের কপি আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইবুনাল।

রবিবার ট্রাইবুনালের বিচারক হুমায়ুন কবীর এ আদেশ দেন।

আসামি সিরাজউদ্দৌল্লা ও মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোড়ল ট্রাইবুনালে উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামি সিরাজউদ্দৌল্লার স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া উপস্থিত ছিলেন না। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আইনজীবী মাসুদ রানা খান এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ আগস্ট পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এ মামলার চার্জ গঠনের আদেশ দেন। ওই চার্জ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন সিরাজউদ্দৌলাসহ ৩ জন। ওই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি এক মাসের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর অভিযোগে সিরাজউদ্দৌল্লা, তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া ও মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোড়লের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২১ আগস্ট মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। ওই বছর ১৭ অক্টোবর আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বর্তমানে অভিযুক্ত তিনজনই জামিনে রয়েছেন।

গত ১০ আগস্ট পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এ মামলাটির বিচার শুরু হয়। ওই দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করলে আদালত ১৮ আগস্ট মামলার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার ফের সময়ের আবেদন করে আসামিপক্ষের আইনজীবী।

আদালতে দাখিল করা এসইসির (বিএসইসি) অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ২০১০ সালের ৩০ জুন থেকে ৪ নবেম্বরের মধ্যে সংঘবদ্ধ ও কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কার্যদিবসে সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা পিপলস লিজিংয়ের ২ লাখ ২২ হাজার ৭০০ শেয়ার বিভিন্ন মূল্যে ক্রয় করেন। ওই সময়ে শেয়ারটির দর ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। পরবর্তীতে শেয়ারটির অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় রূপান্তরের পর ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩০০ শেয়ার বিক্রি করেন। আবার ৪ আগস্ট থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত পিপলস লিজিংয়ের ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ শেয়ার ক্রয় করেন। একই সময়ে ৯ লাখ ১৭ হাজার ২০০ শেয়ার বিক্রি করেন।

অভিযোগনামায় আরও বলা হয়, সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া ১০ আগস্ট থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পিপলস লিজিংয়ের ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ শেয়ার ক্রয় করেন। একই সময়ে তিনি ৩ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ শেয়ার বিক্রি করেন। অপর অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান একই সময়কালে পিপলস লিজিংয়ের ৭৫ হাজার শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি তদন্তে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্য ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ আবদুল বারী। তদন্ত কমিটি ২০১১ সালের ৩১ মার্চ সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে এই তিনজনের বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজির অভিযোগ করা হয়।

(দ্য রিপোর্ট/আরএ/এমকে/আরকে/অক্টোবর ০৪, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে