thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩,  ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮
তারেক সালমান

দ্য রিপোর্ট

খালেদার লন্ডন সফরের হিসাব করছেন নেতাকর্মীরা

২০১৫ অক্টোবর ০৪ ২১:৪৮:৫৭
খালেদার লন্ডন সফরের হিসাব করছেন নেতাকর্মীরা

দলীয় প্রধানের লন্ডন সফরে জেগে উঠা প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বার বার তারিখ পরিবর্তন, সিদ্ধান্তহীনতার পাশাপাশি বিভিন্ন আশঙ্কা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রতীক্ষিত যুক্তরাজ্য সফর করছেন। সেখানে গত ৮ বছর ধরে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে রয়েছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেককে দলের পরবর্তী কাণ্ডারী ভাবেন দলটির নেতাকর্মী।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলীয় প্রধানের লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে দলের হাজারও নেতাকর্মীর মধ্যে একটি অন্যরকম প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে। তারা ভাবছেন, দলের দুই শীর্ষ নেতা (চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান) দীর্ঘদিন পর একান্তই পারিবারিক পরিবেশে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তারা বাইরের সব চাপকে ঝেড়ে ফেলে দলের নানাবিধ সমস্যা ও তার সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন। যার ফলাফল বর্তমান সাংগঠনিক দুর্দশায় পড়া বিএনপির জন্য অবশ্যই ইতিবাচক হবে।

সূত্র মতে, দেশে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কোনো সাংগঠনিক ও আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিতে পরামর্শ এবং সহযোগিতা করতে দলের সিনিয়র নেতারা রয়েছেন। রয়েছে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। আছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম-মহাসচিব। এ সত্ত্বেও চেয়ারপারসন অনেক সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে থাকেন। কিন্তু সরকার ও দলের নানা রকম প্রতিবন্ধকতার কারণে এবং কিছু নেতার ‘অবিশ্বস্ততা’য় তিনি অনেক সিদ্ধান্তই নিতে ধীরে চলো নীতি নিয়ে থাকেন। যা দলের জন্য অনেক সময় ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। কিন্তু লন্ডনে চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের পারিবারিক পরিবেশে সময় পাওয়া দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। সেখানে ‘সন্দেহ ও হুঁশিয়ারী’র বিষয়ে কাউকে মানসিক চাপেও থাকতে হবে না। যে কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশেষ করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এই লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই নানান প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির মুখপাত্র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন দ্য রিপোর্টকে রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন আমাদের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান একত্রিত হতে পারেননি। নানান বাধা সত্ত্বেও বর্তমানে তারা লন্ডনে মিলিত হয়েছেন। যা একান্তই পারিবারিক পরিবেশ। সেখানে অবশ্যই ওনারা বাইরের চাপ মুক্ত হয়েই পারিবারিকভাবে সময় কাটাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাডাম মূলত চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন। চিকিৎসার ফাঁকে ফাঁকে তারা যেমন পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন, তেমনি তাদের আলোচনার মধ্যে অবশ্য অবশ্যই দলীয় বিভিন্ন বিষয় চলে আসবে। আর ওনাদের আলোচনার মধ্যদিয়ে অবশ্যই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বের হয়ে আসবে। দলের একজন হিসেবে আমার মধ্যেও এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে। ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে আমাদের দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীদের মধ্যেও। আশা করি ম্যাডাম দেশে প্রত্যাবর্তনের পর বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে আমাদের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ হবে।’

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার প্রতীক্ষিত লন্ডন সফরের মধ্য দিয়ে দুই শীর্ষ নেতার আলোচনার ভিত্তিতে দলের বিভিন্ন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বের হয়ে আসবে। এর মধ্যে দলের গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন পরিবর্তন, দলের পুনর্গঠন, অঙ্গ-সংগঠনগুলোর পুনর্বিন্যাস, দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে বিভিন্ন সেক্টরের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন, বিএনপি ও দেশ-বিদেশের রাজনীতি, রাজনৈতিক দল এবং দেশ সম্পর্কে একটি শক্তিশালী রিসার্চ সেল গঠন, তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবহারে তরুণদের সমন্বয়ে টিম গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত আসবে। এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের ফলাফল হিসেবে একজন নেতার একাধিক পদে না থাকার বিষয়েও কঠোরতা আসতে পারে। দলের বর্তমান গঠনতন্ত্রে আছে, একজন নেতার একাধিক পদে থাকাকে দল নিরুৎসাহিত করে।

দলীয় প্রধানের লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্যরকম একটি প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে স্বীকার করে দলের যুব বিষয়ক সম্পাদক ও যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘প্রথম কথা হল ম্যাডাম চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন। দীর্ঘদিন পর তিনি পরিবারের সঙ্গে আছেন। ছোট ছেলের দুঃখজনক মৃত্যুর পর বড় ছেলে ও ছোট ছেলের পরিবারের সঙ্গে থেকে তিনি অবশ্যই মানসিক প্রশান্তি লাভ করবেন।’

আলাল আরও বলেন, ‘পারিবারিক আবহের মধ্যে অন্যান্য বিষয়ের মাঝে তারা দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে অবশ্যই দল, রাজনীতি ও দেশ নিয়ে আলোচনা করবেন। তাদের এ আলোচনার মধ্যদিয়ে আমাদের দলের বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বের হয়ে আসবে বলে আমরা মনে করি।’

যুবদল সভাপতি আরও বলেন, ‘চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের এ আলোচনায় বিএনপি দেশে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছে, সেই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ও ফলপ্রসূ করতে অবশ্যই ভূমিকা রাখবে বলেও আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করছি, অতীতে যদি সেই আন্দোলন আমাদের ভুলক্রটি থেকে থাকে; তা থেকে শিক্ষা নিয়েও আমরা নবোদ্যমে আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয়ী হব বলে প্রত্যাশা করি।’

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে ফেরার পর প্রথমে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এরপর দু’টি আন্দোলনে হতোদ্যম হয়ে পড়া নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে তিনি বেশ কিছু জেলা সফরও করতে পারেন। এরপর বছরের শেষের দিকে দলের জাতীয় কাউন্সিলের দিকে মনোযোগ দেবেন তিনি।

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরে প্রত্যাশার কথা দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আমাদের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান মিলিত হয়েছেন। ম্যাডাম মূলত চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেও মা-ছেলে নিয়মিত আলোচনায় দলের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

আব্দুস সালাম আজাদ আরও বলেন, ‘তাদের দু’জনের মিলনে সাংগঠনিক অনেক কিছুই সেখানে ঘটবে, এটা আমাদের আকাঙ্ক্ষা। সে লক্ষ্যে সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। তিনি দেশে ফেরার পর মূল দলসহ প্রতিটি অঙ্গ-সংগঠন যোগ্য ও দক্ষ নেতাকর্মীদের দিয়ে তিনি পুনর্গঠন করবেন। এর মাধ্যমে বিএনপি বর্তমান স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করছে তাতে সফল হবে, ইনশা আল্লাহ।’

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের মতো দলের মধ্যেও একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। যে সব নেতারা বয়সে প্রবীণ তাদের অবমূল্যায়ন না করে সম্মানের সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদে স্থান দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সেক্টরে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তিনি নিয়োগ করতে পারেন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন কিন্তু নিজেদের পেশাগত জীবনে বিভিন্ন সেক্টরের দক্ষ লোকদের কাজে লাগানোরও উদ্যোগ গ্রহণ করবে বিএনপি। এর সঙ্গে দলের একটি আধুনিক পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট নির্মাণ করবে দলটি। এক্ষেত্রে জাপানের ডেমোক্রেটিক পার্টির ওয়েবসাইটকে আদর্শ ধরতে পারে দলটি।

দলীয় প্রধানের লন্ডন সফরকে কেন্দ্র ছাত্রদলও বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ করছে বলে দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট। তিনি বলেন, ‘১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির ১ বছর পূর্তি হবে। এক বছরের মধ্যে আমরা আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরসহ (সুপার ইউনিট) বর্তমান কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটিকেও পূর্ণাঙ্গ করতে পারিনি। পারিনি গত প্রায় এক বছরে রাজপথের রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য পারফর্মেন্স দেখাতে (যদিও বিগত তিন মাসের আন্দোলনে অন্য অঙ্গ-সংগঠনগুলোর চেয়ে ছাত্রদলের ভূমিকা কিছুটা হলেও সক্রিয় ছিল)। তাই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের পুনর্গঠনের মতো ছাত্রদলকে নিয়েও ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত আসবে বলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করে।’

বিএনপির আরেক অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে তাদের হিসাব-নিকাশের কথা জানালেন। তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনেক বছর পর দেখা হয়েছে। সে কারণে তাদের সঙ্গে সঙ্গে আমরা নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত। একই সঙ্গে ম্যাডামের এ সফরকে কেন্দ্র করে আমরা অনেক কিছুই প্রত্যাশা করছি।’

বাচ্চু আরও বলেন, ‘বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যে সব নেতাকর্মী ত্যাগ স্বীকার করেছেন, রাজপথে ভূমিকা রেখেছেন ম্যাডাম সফর থেকে ফিরে এসে তাদের মূল্যায়ন করবেন। একই সঙ্গে দলের সঙ্গে, দলীয় কর্মসূচির সঙ্গে যারা বেঈমানী করেছে তাদের জন্য তিরস্কার ও দলীয় পদ থেকে বের করে দেবেন—স্বেচ্ছাসেবক দলের হাজারও নেতাকর্মীরা তা প্রত্যাশা করে।’

(দ্য রিপোর্ট/টিএস/সা/এইচএসএম/অক্টোবর ০৪, ২০১৫)


পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে