thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭, ৫ মাঘ ১৪২৩,  ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮

ভুলের মাসুল কি

২০১৫ অক্টোবর ০৫ ০০:০৪:৩৪

চাপের মুখে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কুন্দুসের হাসপাতালে বিমান হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সেনাবাহিনীর জন্য যারা বিপজ্জনক সেই তালেবানরাই তাদের লক্ষ্য ছিল,কিন্তু ভুলবশত বিমান হামলার সময় কাছের হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফে এই ভুল স্বীকারের ঘটনাটি ঘটেছে জাতি সংঘের মহাসচিব বান কি মুন আফগান হাসপাতালে হামলার জন্য নিন্দা জানানোর পর। আফগানিস্তানের কুন্দুসের ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার’ হাসপাতালে মার্কিন বিমান হামলায় হাসপাতালটির কর্মী, রোগীসহ ১৯ জন মারা যায়, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর জখম হয় ৩৭ জন।

তালেবানদের হাত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান দখলের পর দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম তালেবানরা কুন্দুসের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক রাজধানী শহরের দখল নিয়েছে। এই শহরটি পুনরায় দখল নিতে আফগান সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের সমর্থনে সেখানে চলছে মার্কিন বিমান হামলা।

কুন্দুসের হাসতাপালে হামলার পর অবস্থার বন্ধু আমেরিকা বড় ধরনের কূটনৈতিক অস্বস্তিতে পড়তে পারে আঁচ করতে পেরেই আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির দফতর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানে মার্কিন কমান্ডার জন এফ ক্যাম্ববেল হাসপাতালে বিমান হামলার জন্য মাফ চেয়েছেন। কিন্তু তখনও মার্কিন প্রশাসন ঐ পথে হাঁটেনি। হেঁটেছে যখন জাতিসংঘের মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতি সংঘের মহাসচিব বান কি মুন ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন।

দুই দশক হলো দেশটি মার্কিন অধিকারে গেছে। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হলেও তালেবানরা মার্কিনী এবং আফগানিস্তানে তাদের বসানো সরকারকে একদিনের জন্যও স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার ওয়াদা মোতাবেক আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে আনছেন। তবে সেখানে থেকে যাচ্ছে মার্কিন ঘাঁটি ও মার্কিন উপস্থিতি। তারা তাদের সমর্থিত আফগান সরকারকে সামরিক সাহায্য দিয়ে যাবে। কিন্তু কুন্দুসে তালেবান দখল প্রমাণ করছে কাজটি খুব সহজ হবে না। তাছাড়া ভুল নিশানায় বিমান হামলা চালিয়ে খোদ মার্কিনীদেরই যদি মাফ চাইতে হয় তাহলে সেখানে মার্কিন সমর্থিত সরকারকে আফগান জনগণের কাছে কত না অস্বস্তিতে পড়তে হবে। তবে সব কিছু মিলিয়ে বলা যায় অচিরেই আফগানিস্তানের যুদ্ধ শেষ হচ্ছে না। আর যুদ্ধ শেষ না হলে সাধারণ মানুষের অপঘাতে মৃত্যুও ঠেকানো যাবে না।


পাঠকের মতামত:

SMS Alert


রে