thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ৮ ফাল্গুন ১৪২৩,  ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অধ্যাদেশ হচ্ছে

২০১৫ অক্টোবর ০৫ ১৫:৪৭:২৩
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অধ্যাদেশ হচ্ছে

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : প্রস্তাবিত ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন, ২০১৫’ অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হচ্ছে। এ জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

১১ ও ১২ অক্টোবর এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অব মানিলন্ডারিং বাংলাদেশে মিশনে আসছে। তাই মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি জানাতেই সংসদ অধিবেশন না থাকায় আইনটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হচ্ছে বলে জানান মোশাররাফ হোসাইন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘চলতি বছরের ১৭ আগস্ট সংশোধিত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে আইনটি প্রণয়নের আগেই সংসদ অধিবেশন শেষ হয়ে যাওয়ায় তা আইনে পরিণত করা যাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে সংসদ অধিবেশন চালু হলে তা আইনে রূপান্তর করা হবে।’

আইনটি কেবল অধ্যাদেশ আকারে জারি হচ্ছে, এর উপাদানগত কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, অর্থদণ্ড বৃদ্ধি, যৌথ তদন্তের বিধান রেখে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্ট ইউনিটকে (বিএফআইইউ) শক্তিশালী এবং ঘুষ ও দুর্নীতি ছাড়া আগের আইনের অন্যান্য অপরাধের তদন্ত সরাসরি সংশ্লিষ্ট সংস্থার হাতে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে সংশোধিত আইনে।

অর্থদণ্ড দ্বিগুণ হচ্ছে

বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিংয়ের জন্য চার থেকে ১২ বছরের জেল রয়েছে, সংশোধিত আইনেও এটা বহাল আছে। অর্থদণ্ড এখন আছে মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্যের কমপক্ষে দ্বিগুণ বা ১০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি সেটি রাখা হয়েছে। সংশোধিত আইনে অর্থদণ্ড মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্যের কমপক্ষে দ্বিগুণ বা ২০ লাখ টাকার যেটি বেশি সেটি রাখা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট

সংশোধিত আইনে মানিলন্ডারিং মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে ঘুষ ও দুর্নীতির তদন্ত করবে দুদক। এ ছাড়া মানিলন্ডারিং সম্পৃক্ত অন্যান্য অপরাধ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত করবে।

থাকবে যৌথ তদন্ত দল

আগের আইনে যৌথ তদন্ত দল ছিল না, নতুন আইনে তা যুক্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়টি খুব জটিল, দেখা যাবে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যৌথ তদন্ত দলের প্রয়োজন থাকতে পারে। যার মধ্যে পুলিশ, এনবিআর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোক থাকবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী যেখানে দরকার সেখানে যৌথ তদন্ত দল করা যাবে।

শক্তিশালী হচ্ছে ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্ট ইউনিট

ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্ট ইউনিট এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক উপ-পরিচালক ইউনিটের প্রধান হিসেবে কাজ করেন। অন্য যারা আছেন তারাও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। অনেক দেশেই এ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্ট ইউনিটকে স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে গঠন করা হয়েছে। ভারতে এমন হয়েছে।

সংশোধিত আইনে এ ইউনিটকে মাঝামাঝি একটা অবস্থায় স্থির করা হয়েছে। একেবারে স্বতন্ত্র করা হলে বিষয়টি ভাল হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতার মধ্যেই এর একটা অপারেশনাল অটোনমি (স্বায়ত্তশাসন) থাকবে, কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে তারা অনেকটাই স্বাধীনতা ভোগ করবে। নতুন বিধান অনুযায়ী ইউনিট গঠন করতে সরকার ডেপুটি গভর্নর পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে ইউনিটের প্রধান নিযুক্ত করবে। এটা হবে সার্চ কমিটির মাধ্যমে, সে কমিটিতে গভর্নরও থাকবেন। ইউনিটের প্রধান চার বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন।

ইউনিটের প্রধান যথেষ্ট অটোনমি নিয়ে এটা পরিচালনা করবেন কিন্তু প্রশাসনিকভাবে তিনি বাংলাদেশে ব্যাংকের আওতাধীন থাকবেন। অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গভর্নর নিয়োগ দেবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বাইরে থেকেও কিছু লোক সেখানে থাকবে। সেখানে স্কিল এক্সপার্টিজ দরকার। এখানে পলিসির লোক, অন্য ব্যাংকের লোক, এনবিআর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোক দরকার হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বাইরের লোক নিয়োগ দিতে ইউনিটের প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মাধ্যমে সরকারকে অনুরোধ করবে। সরকার তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেবে।

ইউনিটের প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন এ কমিটির প্রধান।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/এমএআর/আরকে/অক্টোবর ০৫, ২০১৫)


পাঠকের মতামত:

SMS Alert

অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর

অর্থ ও বাণিজ্য - এর সব খবর



রে