thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩,  ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮

দেশে ২০০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাসলাইন : বিদ্যুৎমন্ত্রী

২০১৫ অক্টোবর ০৫ ১৮:০৮:২০
দেশে ২০০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাসলাইন : বিদ্যুৎমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ গ্যাসলাইন। অন্তত ২০০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাসলাইন রয়েছে। আর বিদ্যুতের লাইন মাকড়শার জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। আবাসিক ও ব্যবসায়িক বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া হচ্ছে একই লাইন থেকে।’

রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে সোমবার বিকেলে ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনে ব্যবহৃত গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।

বিটিএমএ’র নেতাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পিত জোনে আপনারা মিল-ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করেন। আমরা পাওয়ার ও গ্যাস ইনসিওর করব। আমাদের আর দুই থেকে তিন বছর লাগবে এ সমস্যা সমাধানে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্যাসের ক্ষেত্রেও বিশাল অঙ্ক ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। আর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সাত হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে আসছি। পৃথিবীর সবচেয়ে কম দামে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। তারপরও যদি টেক্সটাইল টিকে থাকতে না পারে তাহলে কিছু করার নেই। গ্যাসের মূল্য কত হবে তা নির্ধারণ করবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। তবে আমরা প্রস্তাব করতে পারি। আপনাদের (বিটিএমএ নেতাদের) বক্তব্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব।’

ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনে ব্যবহৃত গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির হার ১০০% থেকে হ্রাস করে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের লক্ষ্যে এ বৈঠকের আয়োজন করে বিটিএমএ।

বিটিএমএ নেতারা জানান, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনে ব্যবহৃত গ্যাসের ট্যারিফ ১০০% বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের ট্যারিফ ৪ দশমিক ১৮ টাকা থেকে ৮ দশমিক ৩৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্যাসের এ ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণে ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের মাধ্যমে উৎপাদিত বিটিএমএ’র টেক্সটাইল মিলসসমূহ মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। কী কারণ ও যুক্তিতে গ্যাসের এ ট্যারিফ এত অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের ব্যবহৃত গ্যাস সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহৃত হয় না। ব্যবহৃত গ্যাস দিয়ে সরকার আরও অধিক পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করতে সক্ষম— এমন যুক্তিতে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঢালাও অভিযোগ মোটেই তথ্যনির্ভর নয় এবং তা বাস্তবতা বিবর্জিত।

বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবগুলো করা হয়েছে তা হল— প্রতি দুই বছর অন্তর গ্যাস ট্যারিফ ২৫% হারে বৃদ্ধি করা; যে সব প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংযোগের লক্ষ্যে ডিমান্ড নোট ইস্যু করেছে ও ইস্যুকৃত ডিমান্ড নোটের বিপরীতে টাকা জমা দিয়েছে, সে সব প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া; গ্যাসের প্রকৃত ব্যবহারের ওপর বিল নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইভিসি (EVC- Electronic Volume Controlling Metre) স্থাপন করা; বরাদ্দকৃত গ্যাসের পুনর্বিন্যাসের অনুমতি দেওয়া; স্থানান্তরিত শিল্প প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দকৃত গ্যাস অব্যাহত রাখা; কোম্পানি বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তিন হলে, পরিবর্তিত নামে গ্যাস সংযোগের অনুমতি প্রদান; গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত রাখা ইত্যাদি।

বৈঠকে বিটিএমএ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি তপন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আল আমিন, সহ-সভাপতি ফজলুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বিটিএমএ’র পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন, মনির হোসেন, মোবারক হোসেন, রাজিব হায়দার, আজিজুল আর চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম সরকার, হোসেন মেহমুদ প্রমুখ।

(দ্য রিপোর্ট/এইচবিএস/এপি/সা/অক্টোবর ০৫, ২০১৫)


পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে