thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭, ৫ ভাদ্র ১৪২৪,  ২৭ নভেম্বর ১৪৩৮

উজবেকদের সঙ্গে মিরাকল কিছু চায় বাংলাদেশ

২০১৫ অক্টোবর ০৫ ১৮:২২:০৭
উজবেকদের সঙ্গে মিরাকল কিছু চায় বাংলাদেশ

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : কাজটা খানিক সহজই ছিল। নিজেরাই সেটিকে কঠিন করেছে। ভুটানকে হারালে অনেকটা নিরুদ্বেগ থাকতে পারত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে রবিবার সহজ প্রতিপক্ষ ভুটানের বিপক্ষে ড্র করাতেই এলোমেলো হয়ে গেছে বাংলাদেশ কোচ সাইফুল বারী টিটুর সব পরিকল্পনা। এখন মিরাকল কিছুর সন্ধান করতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। সেই মিরাকল কিছু দেখানোর আশা নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উজবেকদের বিপক্ষে নামছে জনি-রাব্বি-ইব্রাহিমরা।

তেমন অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে উজবেকিস্তানকে হারাতে পারলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ। আর ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হবে উজবেকিস্তান। এর আগে বেলা ৩টায় দিনের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান পরস্পরের মুখোমুখি হবে।

এএফসির বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল সাফের ৩ দল পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। তবে পাকিস্তান শেষ অব্দি নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় টিটুর শিষ্যদের জন্য তুলনামূলক সহজ দুই প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। শুরুতে এই দুদলের বিপক্ষে ম্যাচ হওয়ায় অর্জনের খাতায় ৬ পয়েন্ট নিয়েই উজবেকদের মুখোমুখি হতে চেয়েছিল জনি-রাব্বি-ইব্রাহিমরা। সেটি সম্ভব হলে উজবেকদের বিপক্ষে ড্র করলেও সেরা গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে চূড়ান্তপর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকত বাংলাদেশের সামনে।

শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুরুটাও হয়েছিল তেমনই। কিন্তু ভুটানের বিপক্ষে খেলা দ্বিতীয় ম্যাচে পাল্টে গেছে হিসাব। কাঠমান্ডুতে গত আগস্টে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ২-০ গোলে হারানো ভুটানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। এখন উজবেকিস্তানকে হারানো ছাড়া বাংলাদেশের চূড়ান্তপর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ এই ম্যাচ ড্র করলেও বাংলাদেশের অর্জন হবে ৫ পয়েন্ট। যা দিয়ে সেরা রানার্সআপ হওয়া প্রায় অসম্ভবই।

এমতাবস্থায় দলের ‘অতি বাস্তববাদী’ কোচ সাইফুল বারী টিটুও মিলাতে পারছেন না হিসাব। বাছাইপর্বের ড্র-য়ের পর থেকেই তিনি একভাবে চিন্তা করেছেন। এখন ভিন্ন ছক কষতে হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ড্র করেও আসলে কোনো লাভ নেই। কারণ ৫ পয়েন্ট নিয়ে সেরা রানার্সআপ হিসেবে চূড়ান্তপর্বে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের সামনে এখন একটাই পথ। উজবেকদের হারাতে হবে। বাস্তব অবস্থা চিন্তা করলে এই কাজটা কঠিন। তবে আমাদের এখন মিরাকল কিছুই করতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’

ফিফার সবশেষ র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী উজবেকিস্তানের অবস্থান ৭৪ নম্বরে। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৮২তম। শক্তিতে দুদলের মধ্যে ঢের ব্যবধান রয়েছে। তাই জয়ের লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক খেলাটা বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হতে পারে। তখন বরং হারের ব্যবধানটা আরও বাড়তে পারে। অবশ্য তেমনটি হলেও বাংলাদেশ জয়ের লক্ষ্য থেকে পিছপা হবে না- এমনটিই জানিয়েছেন সাইফুল বারী টিটু।

তিনি বলেছেন, ‘জানি, জয়ের লক্ষ্যে খেলতে গিয়ে হয়তো আমরা আরও বড় ব্যবধানে হারতে পারি। তাতেও সমস্যা নেই। কারণ ড্র করেও তো লাভ নেই। তবে চেষ্টা করব শুরুতেই গোল বের করে নিতে। শুরুতে গোল আদায় করতে পারলে পরে হয়তো কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলে ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করা যাবে।’

এএফসির বয়সভিত্তিক এই বাছাইপর্বের খেলা ২ অক্টোবর শুরুর পর একদিন করে বিরতি দিয়ে তৃতীয় ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। এতে ফুটবলাররা রিকভারির সময় খুব একটা পাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে বড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলার আগে ক্লান্তিটা বাধা হতে পারে কি না? প্রশ্নের উত্তরে সাইফুল বারী টিটু বলেছেন, ‘এএফসিতে ৫ দিনের মধ্যে ৩টা ম্যাচ খেলতে হয়। ক্লান্তিটাকে আমি সমস্যা মনে করছি না। কারণ ভুটানের বিপক্ষে ছেলেরা সেভাবে ক্লান্ত ছিল না। ভুটানকে আমরা আগস্টে সাফে হারিয়েছিলাম। তাই ছেলেদের মধ্যে এই ম্যাচ নিয়ে কিছুটা গাছাড়া ভাব ছিল। এ কারণেই ভুটানের কাছে পয়েন্ট হারাতে হয়েছে।’

বাংলাদেশ যেভাবেই ফন্দি আটুক ম্যাচে ফেভারিটের তকমাটা থাকবে উজবেকিস্তানের গায়েই। শুধু শক্তিতে এগিয়ে নয়, প্রথম দুই ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট আদায়ও করে নিয়েছে তারা। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচ ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে উজবেকিস্তান। ভুটানকে ৭-০ ও শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ গোলে হারানো উজবেকরা এই ম্যাচেও জয়ের বাইরে কিছু ভাবছে না। দলটির কোচ আবদুর রহিমভ জাসোর তাদের এমন লক্ষ্যের কথাই জানিয়েছেন।

উজবেক কোচ বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষ হিসেবে আমরা সবাইকে সম্মান করি। তবে প্রত্যেকটি ম্যাচে জয়ের জন্যই আমরা এখানে এসেছি। সেই হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও জয়ের জন্যই আমরা মাঠে নামব।’

বাস্তবতা হিসাবে নিলে উজবেকদের হারানোটা অসম্ভবই বটে। তবে সব হিসাব পাল্টে দিয়েই তো মিরাকল কিছু করতে হয়। তেমন কিছু ঘটাতে পারলে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন এক দিগন্তেরই উন্মোচন হবে। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে কতদূর যেতে পারেন টিটুর শিষ্যরা, তাই এখন দেখার বিষয়।

(দ্য রিপোর্ট/কেআই/আরকে/অক্টোবর ০৫, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ফুটবল এর সর্বশেষ খবর

ফুটবল - এর সব খবর



রে