thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪,  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

‘মানবপাচারে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জড়িত’

২০১৫ অক্টোবর ০৫ ১৮:২৭:৩১
‘মানবপাচারে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জড়িত’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রাজধানীর র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানান।

এর আগে রাজধানীর কমলাপুর ও নয়াপল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের ৮ সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। রবিবার থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- মো. মতিন মিয়া (৪৭), মো. জাহাঙ্গীর আলম বাবু (৪৫), আবুল হোসেন (৮১), নুরুল ইসলাম (৩০), রেজাউল করিম সোহেল (৩১), মো. তৈয়ব আলী (৪৮), বেল্লাল হোসেন (৩৬) ও আবুল হোসেন (৩৬)।

মুফতি মাহমুদ বলেন, আটকদের কাছ থেকে ৬৩৫টি পাসপোর্ট, ১৮ দেশের ২২৬৫টি বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা, ৯২৯টি জাল ভিসার স্টিকার ও হলোগ্রাম, ৫১টি লিবিয়ার ভিসা হলোগ্রাম, ৪১১টি বাংলাদেশী পাসপোর্টের ভিসার পাতা, ১২টি ভিসা এনডোর্সমেন্ট, ৮৭টি এনডোর্সমেন্ট ব্লাংক, ৪টি নেপালের ট্যুরিস্ট জাল ভিসা, ৫২টি বিভিন্ন দেশে ভিসার ট্রেস্ট পেপার, ২৫ বান্ডেল ভিসা তৈরির পেপার, দুই পাতা মোজাম্বিকের ভিসার হলোগ্রাম, লেমিনেটিং মেশিন, ল্যাপটপ, স্ক্যানার, সিপিইউ, প্রিন্টারসহ ভিসা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, নগদ এক লাখ ২৮ হাজার টাকা ও একটি লাল রংয়ের প্রাইভেটকার (চট্ট-মেট্রো-ঘ-১১-১৮৮০) উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

তিনি বলেন, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জাল ভিসা তৈরি করে অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে অভিবাসী প্রেরণ করে আসছিল। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দালালদের মাধ্যমে প্রবাসে উন্নত জীবন-যাপনের আশ্বাস দিয়ে ভিকটিম সংগ্রহ করত। তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে চক্রটি জাল ভিসা তৈরি করত এবং মোটা টাকার বিনিময়ে দেশের বাইরে পাঠাত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও লিবিয়াতে লোক পাঠাত।

মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, বিমানবন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশে আকাশপথে, স্থলপথে ভারত ও নেপাল হয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চক্রটি মানবপাচার করত। পায়েল কম্পিউটার এন্ড গ্রাফিক্স এ কর্মরত আটক সোহেল বিভিন্ন দেশের আসল ভিসা সংগ্রহ করে মালয়েশিয়া, লিবিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ভিসা জাল করে দালালের মাধ্যমে বিক্রি করত। এক থেকে দেড় হাজার টাকায় একটি জাল ভিসা তৈরি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় তা বিক্রি করত।

এ ধরনের প্রতারণার জন্য রেজাউল করিম সোহেলকে ২০১০ সালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে এবং পরে তিনি জামিনে বের হয়ে একই কাজ অব্যাহত রাখেন বলে জানান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ।

(দ্য রিপোর্ট/এমএসআর/এপি/আরকে/অক্টোবর ০৫, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে