thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭, ৩ মাঘ ১৪২৩,  ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮

তরিকুলসহ বিএনপির ৩৪ নেতার বিরুদ্ধে ফের নাশকতা মামলা

২০১৫ অক্টোবর ০৫ ২১:১৬:৩০
তরিকুলসহ বিএনপির ৩৪ নেতার বিরুদ্ধে ফের নাশকতা মামলা

যশোর অফিস : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের নামে যশোরে নাশকতার আরেকটি মামলা হয়েছে। এই মামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুকে আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলায় নগর সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মারুফুল ইসলাম ছাড়াও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ৩৪ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। আটক জেলা সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে পাঁচটি বোমা উদ্ধার দেখানো হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে একজন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর তরিকুল ইসলাম, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন ঢাকায়।

রবিবার রাত দেড়টার দিকে আটটি গাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল বহর ঘিরে ফেলে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর উপশহরের বাসভবন। তারা ওই বাড়ি থেকে সাবুকে আটক করে নিয়ে আসে বলে রাতেই মিডিয়া কর্মীদের জানান তার স্ত্রী হেলেন আফরোজা। রাত সোয়া দুইটার সময় কোতয়ালী থানার ওসি শিকদার আককাছ আলী এ্যাডভোকেট সাবুকে আটকের কথা স্বীকার করেন।

ওই রাত এবং সোমবার দিনভর এ্যাডভোকেট সাবুকে কোতয়ালী থানা হেফাজতে রাখা হয়। উপশহর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইউছুফ হোসেন বিকেল তিনটার দিকে কোতয়ালী থানায় এ্যাডভোকেট সাবুসহ বিএনপির ৩৪ জন নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাত আরও কিছু ব্যক্তির নামে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। ১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার্স এ্যাক্টের ১৫(৩)/২৫-ডিসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের ৪/৬ ধারায় রুজু করা মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, ‘আসামিরা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের গণমুখী কার্যক্রমের বিরোধিতা করিয়া অগণতান্ত্রিক পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পাঁয়তারা করে আসছে। বিভিন্ন সময় তারা আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ, বোমাবাজি, দোকানপাট, পেট্রোলপাম্প, বৈদ্যুতিক স্থাপনাসহ সরকারি-বেসরকারি বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ মানুষের জীবন এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে আসছে। আসামিরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার উদ্দেশ্যে উপশহর পার্কের প্রধান গেটের সামনে পাকা রাস্তার পাশে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র, হাতবোমা, পেট্রোলবোমা, লাঠিসোটা ইত্যাদিতে সজ্জিত দেখিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ ধাওয়া করি।’

এজাহারে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, আবদুল জলিল ও মাসুদ রানাকে আটক করা হয়। উদ্ধার হয় পাঁচটি বোমা ও বাঁশের লাঠি।

বিকেলে এ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবুসহ তিনজনকে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুঞ্জয় মিস্ত্রির আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের জামিনের আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, নগর বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মারুফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুর রহমান তোতন, এ্যাডভোকেট জাফর সাদিক, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক ও পৌরসভার কাউন্সিলর হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, তরিকুল ইসলামের ছেলে ও জেলা কমিটির সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নূরুন্নবী, প্রয়াত সভাপতি চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়নের ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে মুল্লুক চান, তার ভাই রিপন চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা সভাপতি কলেজশিক্ষক ফিরোজা বুলবুল কলি, জেলা যুবদল সভাপতি এহসানুল হক মুন্না, সহ-সভাপতি ও নগর সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান ধনী, পৌরসভার কাউন্সিলর আজিজুল কামাল সুইট, নগর বিএনপির সাত নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ।

মামলার আসামিদের মধ্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম গত ১ তারিখ বিমানে ঢাকা যান। রবিবার তিনি ঢাকা পাসপোর্ট অফিসে হাজির হয়ে ছবি তোলেন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য। এ তথ্য জানান দলের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যার বাড়িতেও রবিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল।

দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘আমি নিজেও ঢাকায় রয়েছি, অথচ আমার নামেও যশোরে নাশকতার মামলা হচ্ছে।’ ‘পুলিশ দলীয় কর্মীদের চেয়েও দলবাজ আচরণ করছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, সদ্য কারামুক্ত যশোর পৌরসভার মেয়র মারুফুল ইসলাম পুলিশের রুজু করা মামলায় আসামি হওয়ার পর যোগাযোগ করা হলে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাকে আসামি করে যশোরছাড়া করা বা কারাগারে আটকে রাখার উদ্দেশ্য হলো যশোরকে উন্নয়নবঞ্চিত করা। দীর্ঘ আট মাস আমি আত্মগোপনে বা কারাগারে থাকার কারণে যশোর পৌরসভার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

মেয়র মারুফ বলেন, ‘আগামী ৭ তারিখে এডিবির একটি প্রজেক্টের ডিরেক্টরের যশোর পৌরসভায় আসার কথা রয়েছে। বিদেশী এই কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি ইতিমধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছি। আর আমাকে এখন নাশকতার মামলায় আসামি করা হচ্ছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? পুলিশের এই কার্যকলাপের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই।’

এদিকে, আসামিদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন খোকন ছাড়াও অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বেশ কয়েকজন ঢাকায় রয়েছেন বলে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া ২৪ নম্বর আসামি জাকির হোসেন প্রায় এক মাস ধরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পৌরসভার মেয়র মারুফুল ইসলাম।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর জেলগেটে পুলিশ ফের আটক করে জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সালকে। ওই দিন তাকে একটি পেন্ডিং মামলায় আদালতে হাজির করে ফের কারাগারে পাঠায় পুলিশ। নাশকতার যে মামলাটিতে ফয়সালকে আটক দেখানো হয়, সেই ঘটনাটি যখন ঘটেছিল, ফয়সাল তখন কারাগারে ছিলেন।

পুলিশের এ সব কাজকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু।

তিনি বলেন, ‘রবিবার দায়ের করা মামলায় আসামিদের মধ্যে রফিকুর রহমান তোতনের বয়স প্রায় ৮০ বছর। তরিকুল ইসলাম ও এ্যাডভোকেট জাফর সাদিকের বয়সও ৭০-এর কাছাকাছি। এরা গভীর রাতে বোমা-লাঠিসোটা নিয়ে নাশকতা সৃষ্টির জন্য জড়ো হয়েছিলেন- এমন গল্প পাগলেও বিশ্বাস করবে না।’

(দ্য রিপোর্ট/এমডি/অক্টোবর ০৫, ২০১৫)


পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে