thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০১৭, ১৫ চৈত্র ১৪২৩,  0 জুলাই ১৪৩৮
সাদ্দাম হোসেন ইমরান

দ্য রিপোর্ট

বৈধপথে আনা আইফোনেও শুল্ক ফাঁকি

২০১৫ অক্টোবর ০৫ ২১:২৬:৪৯
বৈধপথে আনা আইফোনেও শুল্ক ফাঁকি

শুল্ক ফাঁকি দিতে কেবল অবৈধপথে দেশের বাজারে প্রবেশ করছে আইফোন, এইচটিসি, স্যামসাংসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামীদামী মোবাইল সেট তা নয়। বৈধপথে আনা মোবাইল সেটেও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আইফোন আমদানিতে।

দাম বেশী হওয়ায় কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নির্ধারিত মূল্যের চাইতে কম মূল্য ঘোষণা দিয়ে আইফোন আনা হচ্ছে। এতে বছরে কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

২৭ আগস্ট দ্য রিপোর্টে অবৈধপথে আসছে আইফোন, শুল্ক হারাচ্ছে সরকার শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর দ্য রিপোর্টের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে কারা আইফোন আমদানি করছেন, কীভাবে আনছেন, বিদেশ থেকে কারা রফতানি করছেন— দীর্ঘ এক মাসের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউনিয়ন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কম্পুস্টার প্রাইভেট লিমিটেড (সিপিএল) দেশে একমাত্র বৈধভাবে আইফোন আমদানি করছে। এর বাইরে দু’-একটি আইফোন আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আনা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি আইফোনের স্বীকৃত আমদানিকারক না হলেও সিঙ্গাপুর থেকে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে আইফোন আমদানি করে থাকে। এ ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটি মাইক্রোম্যাক্স ও গ্রুপের অপর প্রতিষ্ঠান সেলুলার মোবাইল প্রাইভেট লিমিটেড (সিএমপিএল) মাইক্রোসফট (সাবেক নকিয়া) মোবাইল আমদানি করে থাকে।

ঢাকা কাস্টমস থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার পিস মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৫ হাজারের কাছাকাছি আইফোন রয়েছে। দু’-একটি ছাড়া বাকী সব আইফোন এনেছে সিপিএল।

সাম্প্রতিক সময়ে সিপিএলের আইফোন আমদানির কয়েকটি বিল অফ এন্ট্রি দ্য রিপোর্টের হাতে এসেছে। এগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আইফোন আমদানিতে আন্ডার ইনভয়েসিং করছে। আমদানি পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম ঘোষণা দেওয়াকে আন্ডার ইনভয়েসিং বলে। মূলত শুল্ক ফাঁকি দিতে এই পন্থা অবলম্বন করে থাকেন অসাধু আমদানিকারকরা।

আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে একই দিনে, একই মডেলের আইফোনের আমদানি মূল্যে বিশাল পার্থক্য দেখা গেছে। যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।

গত ৭ জুলাইয়ে ১৫২৪ মডেলের আইফোন সিক্স প্লাস মডেলের ৭০ পিস মোবাইল সেট আমদানি করে সিপিএল। আইফোনের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয় ২২ লাখ ২২ হাজার টাকা। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি সেটের মূল্য দাঁড়ায় ৪০৭ ডলার (এক ডলারে ৭৮ টাকা ধরে)। একই দিন একই মডেলের ১৪০ পিস আইফোন আমদানি করা হয় ৫০ লাখ ৩৮ হাজার টাকায়। এর গড় মূল্য দাঁড়ায় ৪৬১ ডলার। ওই দিনই একই মডেলের ৪০ পিস আইফোন আনা হয় ১৬ লাখ ৯ হাজার টাকায়। এর গড় মূল্য দাঁড়ায় ৫১৫ ডলার। এ সব চালানের বিল অফ এন্ট্রি নম্বর : ১৮৪৬১৮। অর্থাৎ তিন দফায় একই নম্বরে আলাদা দাম দেখানো হয় আইফোনগুলোর।

আবার গত বছরের ২ ডিসেম্বর একই মডেলের ১০ পিস ১৬ জিবির আইফোন সেটের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয় ৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এর গড় মূল্য দাঁড়ায় ৬০৭ ডলার। একই চালানে একই মডেলের ৬০ পিস সেটের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয় ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর গড় মূল্য দাঁড়ায় ৮০৯ ডলার।

এতেই বোঝা যায়, সিপিএল বৈধভাবে মোবাইল আমদানি করলেও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। আর আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাদের এই কাজে সহযোগিতা করছে কাস্টমসে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক জি-নেক্সট নামের একটি কোম্পানির কাছ থেকে আইফোন আমদানি করে সিপিএল। এই জি-নেক্সেটের মালিকানায় রয়েছে ভারতীয় নাগরিক রাজেশ ভিমছরিয়া, অস্ট্রেলীয় নাগরিক প্রেম চাঁদ, নেপালের নাগরিক কৈলাশ এবং বাংলাদেশী নাগরিক রাকিবুল কবির। এই রাকিবুল কবির আবার ইউনিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত। অর্থাৎ ইউনিয়ন গ্রুপ নিজেরাই সিঙ্গাপুর থেকে জি-নেক্সট নামে আইফোন রফতানি করে এবং বাংলাদেশ থেকে সিপিএল নামে আমদানি করে। মূলত এই কারণে আন্ডার ইনভয়েসিং সহজে করতে পারছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিপিএল’র চিফ অপারেটিং অফিসার সঞ্জয় মুখার্জী আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘লটে আইফোন কেনার কারণ মাঝেমধ্যে দাম কম পড়ে। সে অনুযায়ী কাস্টমসে মূল্য ঘোষণা দেওয়া হয়।’

(দ্য রিপোর্ট/এসএইচ/এএসটি/সা/এইচএসএম/অক্টোবর ০৫, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে