thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৮ মে ২০১৭, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪,  ২ সেপ্টেম্বর ১৪৩৮

মেঘনাদ সাহা

২০১৫ অক্টোবর ০৬ ০০:২১:০৬
মেঘনাদ সাহা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : থার্মাল আয়নাইজেশন তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন মেঘনাদ সাহা। তার আবিষ্কৃত সাহা আয়োনাইজেশন সমীকরণ নক্ষত্রের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মাবলী ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হয়। এ বাঙালী জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ১৮৯৩ সালের এ দিনে (৬ অক্টোবর) ঢাকার বংশাই নদীর তীরে শ্যাওড়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

মেঘনাদ সাহার বাবার নাম জগন্নাথ সাহা, পেশায় ছিলেন মুদি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে মেঘনাদ ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল ও ঢাকা কলেজে পড়ালেখা চালিয়ে যান। পরে গণিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১৩ সালে বিএসসি ও প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯১৫ সালে এমএসসি সম্পন্ন করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি জগদীশ চন্দ্র বসু ও প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ছাত্র ছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও প্রশান্ত চন্দ্র মহালনবিশ ছিলেন তার সহপাঠী।

পেশাগত জীবনে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ অব লন্ডন ও ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্সে কাজ করেন মেঘনাদ।

১৯১৭ সালে তার প্রথম প্রবন্ধ ‘On Maxwell’s stresses’ প্রকাশিত হয় ফিলজফিক্যাল ম্যাগাজিনে। ১৯২০ সালেই ওই ম্যাগাজিনে ‘On ionization in the Solar Chromosphere’ শিরোনামে আরেকটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এতে তাপ আয়নকরণতত্ত্ব প্রকাশিত হয়, যা জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত সূচনা করে। কারণ এ তত্ত্ব দিয়েই প্রথম তাপবলবিদ্যা ও কোয়ান্টামতত্ত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণীর তারকার বর্ণালী ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। কেন সূর্যের বর্ণালীতে সিজিয়াম বা রুবিডিয়াম থাকবে না— এর উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, যদি সূর্যের দেহের অপেক্ষাকৃত কম তাপবিশিষ্ট অংশের বর্ণালী নেওয়া যায় তবে সেখানে কম ভারি মৌলগুলোর উপস্থিতি দেখা যাবে। তার এই তত্ত্বটি পরে সাহার সমীকরণ নামে পরিচিতি লাভ করে।

এ আবিষ্কারটি এমন এক সময়কার আবিষ্কার যখন কেবলমাত্র তথ্য সংগ্রহ করা ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি ছিল না জ্যোতির্বিজ্ঞানের। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে যত গবেষণা হয়েছে তার প্রায় সবই সাহার সমীকরণ দ্বারা প্রভাবিত।

আয়নকরণতত্ত্ব ছাড়াও মেঘনাদ সাহা তারকার বর্ণালী, বর্ণালীতত্ত্ব, নিবাচিত বিকিরণ তাপ, বিটা তেজস্ত্রিয়তা, আয়নিক বিশ্লেষণ, আয়নস্ফিয়ারে বেতারতরঙ্গের পরিচলন, সূর্যের করোনা, সূর্যের বেতারবিকিরণ ও শিলার বয়স প্রভৃতি বিষয়ে গবেষণা করেন। পদার্থবিদ্যা, জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা, পরমাণুবিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ে বাংলায় ২৮টি ও ইংরেজীতে ১২০টির মতো প্রবন্ধ লিখেন। তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে- The Principle of Relativity, Treatise on Heat, Treatise on Modern Physics ও Junior Textbook of Heat with Metereology.

ভারতে নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান পড়ানো শুরু হয় মেঘনাদ সাহার হাতে। তিনি গড়ে তুলেন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স। এ ছাড়া ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স, ইন্ডিয়ান ফিজিক্যাল সোসাইটি, ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসোসিয়েশান প্রতিষ্ঠিত হয় মেঘনাদ সাহার নেতৃত্বে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

মেঘনাদ সাহা ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে মারা যান।

উইকিপিডিয়া অবলম্বনে।

(দ্য রিপোর্ট/ডব্লিউএস/এসবি/এনআই/অক্টোবর ০৬, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

এই দিনে এর সর্বশেষ খবর

এই দিনে - এর সব খবর



রে