thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট ২০১৭, ৪ ভাদ্র ১৪২৪,  ২৬ নভেম্বর ১৪৩৮

রাজনীতি করতে দেবে কিনা জানতে চায় বিএনপি

২০১৫ অক্টোবর ০৬ ১৩:১৯:৪৫ ২০১৫ অক্টোবর ০৬ ১৩:৫৫:০০
রাজনীতি করতে দেবে কিনা জানতে চায় বিএনপি

দ্য রিপোট প্রতিবেদক : সরকার বিরোধী দলকে রাজনীতি করতে দেবে কি না প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমরা জানতে চাই, এ দেশে আপনারা ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করতে দেবেন কি না। নাকি আইন করে বিরোধী দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করবেন?’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিদেশী হত্যায় বিএনপি নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। অথচ তদন্তের আগেই প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় বিএনপির ওপর দায় চাপিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে মনে হচ্ছে দেশে আইন ও বিচারের কোনো প্রয়োজন নেই। যাকে খুশি তাকে ধরে শাস্তি দিলেই হয়।’

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। দল পুনর্গঠনে যে সব নেতার প্রয়োজন তাদের অনেককেই আগে থেকেই গ্রেফতার করে জেলে রাখা হয়েছে, আবার অনেককে নতুন নতুন মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। মূলত দল পুনর্গঠন ও সুসংহত প্রক্রিয়া বাধা দিতেই নেতাদের গ্রেফতার ও নতুন করে মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ। তার হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। তার কিডনির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। হার্টের চিকিৎসার আগে তার কিডনির চিকিৎসা করতে হবে। নানা জটিলতায় চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তিনি ৪ অক্টোবর যশোর পাসপোর্ট অফিসে যান পাসপোর্ট স্বাক্ষর করতে। তরিকুল ইসলাম যাতে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে না পারেন, সে জন্য মামলাবাজ সরকার কাল্পনিক গল্প তৈরি করে তাকে এবং যশোর বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ ৩৪ জনের নামে মামলা দিয়েছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে যশোর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবুসহ ৩ জনকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে তরিকুল ইসলাম ও বিএনপি নেতাদের চিকিৎসার অভাবে অকালে মৃত্যুর মুখে ঠেলা দেওয়া।’

সরকার দেশে বিরোধীদলকে রাজনীতি করতে দেবে কি না পুনরায় প্রশ্ন রেখে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শেখ হাসিনার আগের আওয়ামী লীগ সরকার অনেক ভাল ছিল। তারা অন্তত একটি ক্ষেত্রে সৎ ছিল। তারা আইন করে দেশে সব বিরোধী দলের রাজনীতি বন্ধ করেছিল। কিন্তু বিনাভোট ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে ক্ষমতা দখল করা হাসিনা সরকার কৌশলে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করার সুযোগ চাই। কৌশলে ক্ষমতা দখল করে থাকার সরকারি প্রচেষ্টা জনগণ মানবে না।’

নজরুল বলেন, ‘সরকার বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োগ করেছে। যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও এ দলের নেতাদের নামে বিদেশী হত্যায় যোগসূত্রের অভিযোগ করছেন। তাতে মনে হয় দেশে কোনো তদন্তকারী সংস্থা ও বিচারের প্রয়োজন হবে না। যাকে ইচ্ছে ধরেই তারা শাস্তি দিয়ে দেবে। এর ফলে প্রকৃত দুষ্কৃতকারীদের পার পেয়ে যাওয়ার অবকাশ রয়েছে। আমরা চাই এ প্রক্রিয়া বন্ধ হোক।’

বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, ‘আমরা চাই দল পুনর্গঠন ও সুসংহত করে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে। সে জন্য অবিলম্বে দলের সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, রিজভী আহমেদ, রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক আলী বুলবুল, গাজীপুরের মেয়র মান্নান, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের মেয়র জিকে গউসসহ সব নেতার মুক্তি দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘রংপুরে জাপানী নাগরিক হত্যার পর রংপুর বিএনপি নেতা রাশেদুন্নবী বিপ্লব ও আনিসুর রহমান লাকুকে র‌্যাব পরিচয়ে তাদের বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা স্বীকার করেনি। আটকের পর স্বীকার না করার মধ্যে এক ধরনের অপরাধ বোধ আছে। আমরা আশঙ্কা করছি, অন্যদের মতো তারাও গুমের শিকার হন কি না? তিনি অবিলম্বে আটকদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান।

(দ্য রিপোর্ট/টিএস/এনডিএস/অক্টোবর ০৬, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর

রাজনীতি - এর সব খবর



রে