thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুন ২০১৭, ১২ আষাঢ় ১৪২৪,  ২৯ রমজান ১৪৩৮

বেসিক ব্যাংকের ২২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

দুদকের কাছে ‘উল্লেখযোগ্য মামলা’ নয়

২০১৫ অক্টোবর ০৬ ১৫:০৪:২৫
দুদকের কাছে ‘উল্লেখযোগ্য মামলা’ নয়

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : বেসিক ব্যাংকের প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা ৫৬ মামলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে ‘উল্লেখযোগ্য’ হিসেবে স্থান পায়নি।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে মঙ্গলবার কমিশনের মাসিক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিংয়ে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের সব মামলার পরিসংখ্যান এবং উল্লেখযোগ্য মামলার তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

ব্রিফিংয়ে সেপ্টেম্বর মাসে ১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের মামলা উল্লেখযোগ্য হিসেবে স্থান পেলেও স্থান হয়নি দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার বেসিক ব্যাংকের ৫৬টি মামলার তথ্য ও পরিসংখ্যান।

সেপ্টেম্বর মাসের মামলার পরিসংখ্যানে বেসিক ব্যাংকের ৫৬ মামলার কোনো তথ্য নেই কেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিব্রত হন কমিশনের মহাপরিচালক ড. মো. শামসুল আরেফিন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের সবগুলো মামলার তথ্য আজই আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

এর আগে ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বেসিক ব্যাংকের প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৫৬টি মামলা করে দুদক। সেপ্টেম্বর মাসের গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য মামলার মধ্যে এ মামলাগুলোর কোনো ধরনের তথ্যই উপস্থাপন করা হয়নি।

ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে দায়ের করা ৫৬ মামলায় আসামি হিসেবে নেই ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই ওরফে বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।
এ বিষয়ে ড. মো. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যে অনুসন্ধান করেছি তাতে বাচ্চুর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এখন মামলাগুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে বাচ্চুসহ যে কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে অভিযুক্ত হিসেবে আনা হবে।’

২০১০ সালে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে কমিশন। পাঁচ বছরে পাঁচবার অনুসন্ধানকারী টিম পুনর্গঠন করা হয়।
সর্বশেষ দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি টিম এ সব অভিযোগ অনুসন্ধান করে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগস্ট মাসে ৭৫২টি অভিযোগ পেয়েছে কমিশন। এর মধ্যে ৪২টি অভিযোগ কমিশন যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া আগস্টে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ১৯টি দুর্নীতি সংক্রান্ত বিবেচ্য প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিবেদন অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, আগস্ট মাসে ৬১টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দেয় দুদক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ২৫৩টি মামলা দায়েরের অনুমোদন, ৩৭২টি চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন এবং ৩৮০টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে ৮৮২টি দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে কমিশন। এর মধ্যে ৫৬টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে কমিশন।

দুদকের মাসিক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ছয় হাজার ৫৩৪টি দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪৯৩টি অভিযোগ কমিশন যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩৫টি মামলা দায়েরের অনুমোদন, ৪২৬টি চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন এবং ৪২১টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১৩৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি মামলায় সাজা এবং ৯৩টি মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন।

মাসিক ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদকের পরিচালক মো. নূর আহম্মদ, পরিচালক মো. বেলাল ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টচার্য্য।

(দ্য রিপোর্ট/এইচবিএস/একেএস/এমএআর/আরকে/অক্টোবর ০৬, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

অপরাধ ও আইন এর সর্বশেষ খবর

অপরাধ ও আইন - এর সব খবর



রে