thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ৬ মাঘ ১৪২৩,  ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ ১২ দেশের মধ্যে টিপিপি চুক্তি স্বাক্ষর

২০১৫ অক্টোবর ০৬ ১৫:১১:১৪
যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ ১২ দেশের মধ্যে টিপিপি চুক্তি স্বাক্ষর

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ ১২টি দেশের মধ্যে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপের (টিপিপি) আওতায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ৫ বছরে নানা তিক্ততা ও উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা শেষে সোমাবর যুক্তরাজ্যের আটলানায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের অনুমোদন সাপেক্ষে চুক্তিটি কার্যকর হবে। সূত্র বিবিসি।

চুক্তির মাধ্যমে দেশগুলো নিজেদের মধ্যে শুল্ক বাধা কমানোর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নীতি অনুসরণ করবে। এরফলে এ সব দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ এ চুক্তি স্বাক্ষর করা অপর দেশগুলো হল- ব্রুনাই, চিলি, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পেরু ও ভিয়েতনাম। চুক্তিসাক্ষরিত এ সব দেশসমূহ বিশ্বের ৪০ শতাংশ অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এ সব দেশের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ৮০ কোটি।

এক দশক আগে ব্রুনাই, চিলি, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে প্রথম এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল।

বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য এ চুক্তি করা হয়েছে বলে বড় ধরনের সমালোচনা রয়েছে।

এ চুক্তির ফলে জাপান সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি বড় ধরনের কৌশলী পদক্ষেপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষরকে একটি বড় ধরনের অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, এর ফলে চুক্তিবদ্ধ দেশের কৃষক, খামারী ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে। চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোর পণ্যের ওপর প্রায় ১৮ হাজার ধরেনর শুল্ক আরোপিত রয়েছে। চুক্তির ফলে এ সংখ্যা কমে যাবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবে চুক্তির বিষয়ে বলেন, শুধু জাপানের নয়, এটি এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশসমূহের জন্য একটি বড় ধরনের অর্জন।

তবে চুক্তির সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এবং ডেমক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বারনাই সেন্ডার্স বলেছেন, এর ফলে পুঁজিবাদী ও অন্যান্য বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আবারও জয় হয়েছে। তিনি বলেন, এ চুক্তির ফলে আমেরিকার কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে এবং ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কংগ্রেসে এ চুক্তি যাতে অনুমোদন না পায় সে জন্য সব ধরনের চেষ্টা তিনি করবেন বলেও জানান তিনি।

বায়োটেক বিতর্ক : ওষুধ কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত পণ্যের একক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে চুক্তির শেষ দিকে এসে বড় ধরনের বিতর্ক দেখা দেয়। আমেরিকা ১২ বছর পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত পণ্যের ওপর একক নিয়ন্ত্রেণের পক্ষে মত দিয়ে বলেছে, এরফলে কোম্পানিগুলো গবেষণার ক্ষেত্রে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে।

তবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কয়েকটি দেশের গণস্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা ৫ বছরের জন্য উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দিয়ে বলেছে, এর ফলে উৎপাদিত ওষুধের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধ গরীব রোগীদের পৌঁছানো সম্ভব হবে।

অবশেষে ওষুধ পণ্যের ওপর কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ ছাড়াই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক বায়োটেকনলজি ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মেয়াদ নির্ধারিত না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

উদ্বেগের নানা ইস্যু : টিপিপি চুক্তিবদ্ধ দেশসমূহের মধ্যে গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুল্ক মুক্তের আওতায় গাড়ি উৎপাদনের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষিও একটি বড় ইস্যু। জাপান, কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মার্কেটে নিউজিল্যান্ড আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়েছে। অপরদিকে কানাডা তাদের তাদের ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্পের সুরক্ষায় অন্য দেশের প্রবেশাধিকার সংকোচিত করার পক্ষে লড়াই করছে।

এদিকে এ চুক্তির ফলে চাকরি হারানোর আশংকা করছেন অনেকেই। এ বিষয়ে কানাডার বাণিজ্য মন্ত্রী ইডি ফাস্ট বলেন, আমরা এ ধরনের কোনো আশংকার বিষয়টি অনুমান করছি না। তবে অবশ্যই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। তিনি এ চুক্তির ফলে কানাডার জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিহিত করে বলেন, কানাডা এর মাধ্যমে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হবে।

(দ্য রিপোর্ট/এমকে/আরকে/অক্টোবর ০৬, ২০১৫)


পাঠকের মতামত:

SMS Alert

অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর

অর্থ ও বাণিজ্য - এর সব খবর



রে