thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩,  ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮

জব্দ ইলিশ নিয়ে বেকায়দায় মৎস্য অধিদফতর

২০১৫ অক্টোবর ০৬ ১৭:১৮:৫৩
জব্দ ইলিশ নিয়ে বেকায়দায় মৎস্য অধিদফতর

চট্টগ্রাম অফিস : বঙ্গোপসাগরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ শিকারের সময় জব্দ করা বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে সরকারি সংস্থা মৎস্য অধিদফতর।

গত ১০ দিনে বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রাম এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিকারের সময় অন্তত আড়াই হাজার কেজি ইলিশ জব্দ করেছে কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদফতর। নিয়ম অনুযায়ী এ সব জব্দ করা মাছ নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার কথা। কিন্তু সরকারের নির্ধারিত দাম বেশি হওয়ায় নিলাম ডেকেও মাছ বিক্রি করতে পারেনি মৎস্য অধিদফতর। নিলামে বেশ কয়েকজন অংশ নিলেও তারা মাছ না কিনে ফিরে যান।

এত বিপুল পরিমাণ মাছ সংরক্ষণ করে রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়েছে সরকারি এ সংস্থাটি। তবে শেষ মুহূর্তে এ সব মাছ এতিমখানায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ইলিশ প্রজননক্ষেত্রগুলোতে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সব ধরনের ইলিশ মাছ শিকার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মৎস্য শিকার করার কারণে গত ১০ দিনে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদফতর জেলেদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ কেজি (৬২.৫ মণ) ইলিশ জব্দ করে। আটক করা হয় বেশকিছু নৌযান। একই সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত তিন শতাধিক জেলেকে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ সব জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠালেও জব্দ করা ইলিশ নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় মৎস্য অধিদফতর।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতী দেব বলেন, ‘কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদফতরের অভিযানে ২৫ সেপ্টম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এগুলো বিক্রির জন্য নিলামের আয়োজন করা হয়েছিল।’

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ৬০০ কেজি ইলিশসহ ৪০ জেলেকে আটকের পর মৎস্য অধিদফতর পরদিন বিকেলে পতেঙ্গা থানার ১১নং ঘাট মেরিন ফিশারিজ এলাকায় এ সব মাছ নিলামে বিক্রির আয়োজন করে। কিন্তু মাছ কিনতে যাওয়া যুবলীগের দুই গ্রুপের সংর্ঘষ ও সড়ক অবরোধের কারণে সেদিন নিলাম ভণ্ডুল হয়ে যায়।

এদিকে সর্বশেষ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতী দেবের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে নিলামের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এই ইলিশ কিনতে নাম তালিকাভুক্ত করেছিলেন ১০ জন ক্রেতা। যথাসময়ে তারা নিলামস্থলে হাজিরও হন।

মাছের বাজারমূল্য ধরা হয় ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আর সর্বনিম্ম মূল্য ধরা হয় ৭ লাখ টাকা। কিন্তু তালিকাভুক্ত ১০ ক্রেতা এই দামে মাছ কিনতে রাজি হননি। তারা অভিযোগ করেন, মাছের মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় নিলামে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন বলেন, ‘মাছের সর্বনিম্ম নিলাম মূল্য প্রতি কেজি ২৮০ টাকা হিসেবে ৭ লাখ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ক্রেতা এই মূল্যে কিনতে রাজি হননি।’

তিনি বলেন, ‘জব্দ করা মাছ নিলামে বিক্রি করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। সরকারি সম্পদ জনকল্যাণে ব্যবহার করা যায়। তাই জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এতিমখানায় ইলিশ মাছগুলো বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

নিলামে অংশ নিতে আসা মো. আক্কাস জানান, জব্দ করা মাছ নিজের চোখে দেখেছেন। মাছের আকার ছোট। ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত ইলিশ মাছ রয়েছে। তা ছাড়া মাছগুলো যেভাবে সংরক্ষণ করা দরকার তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। জব্দ অধিকাংশ ইলিশ মা মাছ। তাই তাদের শরীর নরম, পচন ধরবে দ্রুত। এ সব বিষয় বিবেচনা করে এই উচ্চমূল্যে কিনতে রাজি হননি।

তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতী দেব বলেন, ‘জব্দ করা ইলিশ দুই বছর পর্যন্ত তরতাজা থাকবে, এগুলোর জন্য দুই বছর মেয়াদী ফ্রিজিং সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুতারাং মাছ পচার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

(দ্য রিপোর্ট/এফএস/আসা/এজেড/অক্টোবর ০৬, ২০১৫)


পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে