thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০

জেলহত্যার চল্লিশ বছর

ধরাছোঁয়ার বাইরে চার নেতার হত্যাকারীরা

২০১৫ নভেম্বর ০২ ২২:১২:৩২
ধরাছোঁয়ার বাইরে চার নেতার হত্যাকারীরা

জাহাঙ্গীর আলম, দ্য রিপোর্ট : মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

আলোচিত এ হত্যা মামলায় তিন জনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আসামীরা বিদেশে পলাতক থাকায় ৪০ বছরেও তাদেরকে বিচারের জন্য সোপর্দ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে জাতীয় ৪ নেতার হত্যাকারীরা।

পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দ্য রিপোর্টকে বলেন, জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার আসামীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। অনেক আসামি বিদেশে কোথায় অবস্থান করছে তা ইন্টারপোলকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখন ইন্টারপোল ও পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তবে আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে দেশে এনে বিচারের জন্য সোপর্দ করতে পারবো।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ চার সহকর্মীকে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন তৎকালীন উপ কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ ২১ বছর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর জেলহত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।৮ বছরেরও বেশী সময় বিচারকাজ চলার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মতিউর রহমান মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামীর মধ্যে সাবেক ১৫ সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন- রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মো. আবুল হাসেম মৃধা। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামি হলেন- লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সৈয়দ শাহরিয়ার রশীদ, মেজর (অব.) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশীদ, লে. কর্নেল (অব.) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এমএইচএমবি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, লে. কর্নেল (অব.) এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আহাম্মদ শরিফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) মো. কিসমত হোসেন ও ক্যাপ্টেন (অব.) নাজমুল হোসেন আনসার।

খালাসপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন, বিএনপি নেতা কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক মন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে কেবল রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মো. আবুল হাসেম মৃধা ও যাজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর চার আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) শাহরিয়ার রশীদ খান, মেজর (অব.) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়।

এদিকে জেলহত্যা মামলায় খালাস পেলেও লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) শাহরিয়ার রশীদ খান, মেজর (অব.) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ- এই চারজন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক অপর আট আসামির সম্পর্কে কোনো মতামত না দেওয়ায় তাদের দণ্ড বহাল আছে।

দফাদার মারফত আলী শাহ ও আবুল হাশেম মৃধাকে খালাস সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর লিভ টু আপিল দায়ের করে সরকার। ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি সরকারের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ আপিলের রায় ঘোষনা করেন। রায়ে দফাদার মারফত আলী শাহ ও আবুল হাশেম মৃধার বিরুদ্ধে দেয়া নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখেন।

(দ্য রিপোর্ট/জেএ/জেআইএল/এমডি/এনআই/নভেম্বর ০২, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে