thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

৭ নভেম্বর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন : বিএনপি

২০১৫ নভেম্বর ০৭ ০০:৩১:০৩
৭ নভেম্বর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন : বিএনপি

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সৈনিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে রাজনৈতিক গতিপথ ফিরে পায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সূচনা হয় জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। একে জাতীয় জীবনে প্রেরণার উৎস হিসেবেই দেখে বিএনপি। এমনটাই বললেন দলের শীর্ষ নেতারা।

৭ নভেম্বর প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। যে দিন সৈনিক-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের গতিপথ ফিরে পায়। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।’

জেনারেল মাহবুব বলেন, ‘প্রতিকূল পরিবেশে সৈনিক জনতা জিয়াউর রহমানকে বন্দী দশা থেকে মুক্ত করে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। কঠিন সময় ছিল। জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সুচনা করেছিলেন। ফলে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতায় নিতে আসেন।’

এ ছাড়া ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সৈনিক-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রেরণার উৎস।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতি ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার এক পর্যায়ে একদলীয় বাকশালী একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রূপ পেয়েছিল। এমনি এক প্রেক্ষাপটে মতাদর্শগত কোন্দল যখন চরমে উঠেছিল তখন আওয়ামী লীগেরই একটি বৃহৎ অংশ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একটি অভ্যুত্থান সংঘটিত করে ক্ষমতা দখল করে।’

‘এরই ধারাবাহিকতায় ঐ বছরের ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একটি অংশ আধিপত্যবাদের ভাবনায় প্ররোচিত হয়ে তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে।’ যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তকে রুখে দেওয়ার জন্য অকুতোভয় সৈনিক-জনতা এক ইস্পাত কঠিন ঐক্যে শপথবদ্ধ হন ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক বিপ্লব সংগঠনের জন্য। তারা বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেন তাদের প্রিয় সেনাপতিকে। এই ঐতিহাসিক পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘৭ নভেম্বরের সঙ্গে ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর, ২১শে ফ্রেব্রুয়ারি আমরা খুঁজে পাই। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৭ নভেম্বর খুঁজে পাই। কাজেই ৭ নভেম্বর যদি ব্যর্থ হতো বাংলদেশের ৭১ মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম ব্যর্থ হয়ে যেত। যারা ৭ নভেম্বরকে অস্বীকার করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করবে। মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা হবে।’

‘৭ নভেম্বর সৃষ্টির জনক হচ্ছে সিপাহী-জনতা। সিপাহী জনতা সব সময় দেশপ্রেমিকের ভূমিকা পালন করেছেন। সিপাহী জনতার বিপ্লবে জিয়াউর রহমানকে বন্দী দশা থেকে মুক্ত করে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।’ বলেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামছুজ্জামান দুদু দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অনন্য একটি দিন ৭ নভেম্বর। ২৫ জানুয়ারি একদলীয় বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের যে আওয়ামী লীগ, এ দলটিকেও সেই দিন বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। সকল দল মত পথ নভেম্বরে পুনর্জন্ম লাভ করে। ফলে এ দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের অনন্য একটি দিন।’

৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে— গণতন্ত্র, প্রভাব মুক্ত নির্বাচন, বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে একনায়কতন্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নির্বাচন কমিশন চলছে। যার কোনো ক্ষমতা নেই। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী, এমপি, মন্ত্রীরা প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারবে। এটা সরাসরি একদলীয় নির্বাচন হবে।’

‘যতদিন পর্যন্ত না ৭ নভেম্বরের চেতনা প্রতিষ্ঠা হবে ততদিন গণতন্ত্র ফিরে আসবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘৭ নভেম্বর স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্রের চেতনা। আমরা তাই ধারন, লালন করি। এ দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বলতম দিন। যেদিন সিপাহী-জনতার বিল্পবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান শাসনভার গ্রহণ করে একদলীয় শাসন থেকে দেশে বহুদলীয় শাসন, জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠিত করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই, কথা বলার স্বাধীনতা নেই, ভোটের অধিকার নেই, এমন অবস্থায় ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বলেন, ‘৭৫-এর ৭ নভেম্বর সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে জাতিসত্তার স্বাধীন অস্তিত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা নিশ্চিত হয়। ১৯৭৫ সালের এ দিনে আধিপত্যবাদী শক্তির নীলনকশা প্রতিহত করে এদেশের বীর সৈনিক ও জনতা এক ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে নতুন প্রত্যয়ে জেগে উঠেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭ নভেম্বর বিপ্লবের সফলতার সিঁড়ি বেয়েই জাতি বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তির পথ পেয়েছে। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের নায়ক ছিলেন এ দেশের অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সৈনিক-জনতা। স্বাধীনতার মহান ঘোষক জিয়াউর রহমানকে তারা মনে করতেন তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রাণপুরুষ।’

রিপন আরও বলেন, ‘৭ নভেম্বর বিপ্লবোত্তর সময়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করে দেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন— যার ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশের এই অর্থনীতি।’

প্রসঙ্গত, ৭ নভেম্বর বিএনপি সরকারের আমলে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এ দিবসটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ দিবসে ছুটি বাতিল করা হয়। বর্তমানে বিএনপি এ দিবসটি দলীয়ভাবে পালন করে থাকে। এ দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ১০ দিনের কর্মসূচি পালন করছে। ৫ নভেম্বর থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়, চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচ/এনআই/নভেম্বর ০৬, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

৭ নভেম্বর ২০১৫ এর সর্বশেষ খবর

৭ নভেম্বর ২০১৫ - এর সব খবর