thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

৭ নভেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’

২০১৫ নভেম্বর ০৭ ০০:৩৪:২১
৭ নভেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’

আমানউল্লাহ আমান, দ্য রিপোর্ট : ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। দিনটিকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে নানা মতভেদ। কেউ দিনটিকে ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান’ দিবস, কেউ কেউ ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস হিসেবে পালন করেন। তবে আনুষ্ঠানিক কোন কর্মসূচি পালন না করলেও ক্ষমতসীন আওয়ামী লীগ দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’ হিসেবেই গণ্য করে।

আওয়ামী লীগের ভাষ্য হচ্ছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর একটি বিচ্ছিন্ন অংশকে নিয়ে খুনী মোশতাক-রশিদ-ফারুক চক্রের উত্থান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। খুনী মোশতাককে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা, সামরিক আইন জারি, জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়। ইনডেমিনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতাবিরোধীরা এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল।

আওয়ামী লীগ নেতারা প্রায়ই বলেন, তখন দেশে রাজনীতি ছিল না। হত্যার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেছিলেন। সেই সময় যাদের হত্যা করা হয়েছিল তার অধিকাংশই মুক্তিযোদ্ধা ছিল। এ কারণে দিবসটি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কর্মসূচি পালন না করলেও দিনটি ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’ হিসেবেই আখ্যায়িত করে দলটি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, গণপূর্ত ও গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এসব প্রসঙ্গে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘তখন কতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলো দেখুন। কতগুলো মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা হত্যা করে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় গেলেন। ক্ষমতায় গিয়ে কর্নেল তাহেরকে হত্যা করলেন। এসব হত্যার কারণে ৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস পালন করে।’

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে এ দেশে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়। জেলখানায় ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করার জন্য ৭ নভেম্বর অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা করেছেন। তখন দেশে একটা অন্ধকার যুগ নেমে এসেছিলো। এখানে কোন রাজনীতি ছিল না। মানুষের বাক-স্বাধীনতা ছিল না। আইনের শাসন ছিল না। তখন খুনীদের হত্যার উৎসব চলছিলো। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়।’

দলটির দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘৭ নভেম্বর উপলক্ষে আমাদের কোন কর্মসূচি নেই। তবে এই দিনটিকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস হিসেবেই দেখি।’

(দ্য রিপোর্ট/এইউএ/এসবি/এনআই/এসআর/নভেম্বর ০৬, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর

রাজনীতি - এর সব খবর



রে