thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫,  ১২ মহররম ১৪৪০

কর্নেল তাহেরের শহীদী মর্যাদা দাবি লুৎফা তাহেরের

২০১৫ নভেম্বর ০৭ ০০:৫১:২২
কর্নেল তাহেরের শহীদী মর্যাদা দাবি লুৎফা তাহেরের

সাগর আনোয়ার, দ্য রিপোর্ট : বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাসদের সাবেক নেতা কর্নেল তাহেরকে শহীদী মর্যাদা প্রদান এবং তার বিরুদ্ধে আনীত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ কী ছিল তা জাতির সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী সংসদ সদস্য লুৎফা তাহের।

শুক্রবার সকালে লালমাটিয়ার নিজ বাসভবনে দ্য রিপোর্টের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি সরকারের কাছে এ দাবি জানান।

আবার ৭ নভেম্বর চলে এল, দিনটিকে কীভাবে দেখেন...

লুৎফা তাহের : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেশে কোন সরকার ছিল না। খন্দকার মোশতাক ছিলেন পুতুল সরকার। সে সময় হঠাৎ করেই সেনাবাহিনীতে পাকিস্তান ফেরত আর্মি অফিসারদের ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছিল। এ নিয়ে সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ ছিল।

৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ক্যু হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে কর্নেল তাহের বলেছিলেন, ‘সেনাবাহিনীর উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তারা সৈন্যদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। প্রাসাদ ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এর অবসান হওয়া উচিৎ।’

তবে, ৩ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থানের কোন রাজনৈতিক দর্শন ছিল না। ওই সময় আমরা নারায়ণগঞ্জ ছিলাম। কর্নেল তাহেরও ছিলেন অসুস্থ। তারপরও তিনি নিয়মিত ঢাকা আসতেন। সেখানেই সেনাবাহিনীর বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা, জিসিও ও এনসিওরা কর্নেল তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। ৭ নভেম্বর কর্নেল তাহেরের অনুসারীরা বিপ্লব করলেও সেটা প্রতি-বিপ্লবীদের হাতে চলে যায়। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ঘাতক জিয়া।

সেদিন কর্নেল তাহেরের ভূমিকা যদি বলতেন...

লুৎফা তাহের : আসলে সেদিন কর্নেল তাহেরই ছিল মূল ভূমিকায়। কিন্তু জিয়াউর রহমান বিপ্লবীদের সঙ্গে বেঈমানী করেছিল।

-৭ নভেম্বরের দিনটিকে আপনারা ‘সিপাহী-জনতার অভুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করেন, বিএনপি পালন করে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ আবার আওয়ামী লীগ পালন করে ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’ হিসেবে ...

লুৎফা তাহের : সত্যিই বলেছেন, আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’ হিসেবে দিনটি পালন করে থাকে। সঠিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে যে, এটা মুক্তিযোদ্ধা হত্যার দিন ছিল না। একটা বিপ্লব হওয়ার পর যে রক্তপাত হওয়ার কথা ৭ নভেম্বর এর কিছুই হয়নি। সমাজ বদলের চিন্তাধারা থেকে বিপ্লব, সেই বিপ্লবই সেদিন হয়েছিল। আজ অনেকেই নিজেদের মতো করে ইতিহাস বিকৃত করছে।

কর্নেল তাহেরের সেই বিপ্লব কি সফল হয়েছিল? না হলে কারণ কি?

লুৎফা তাহের : জাসদের সেই বিপ্লব কিছুক্ষণের জন্য সফল হয়েছিল। কর্নেল তাহেরের উদ্দেশ্য ছিল সমস্ত রাজবন্দীদের মুক্তি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে নির্বাচন করা। উৎপাদনশীল সেনাবাহিনী গঠন করা। কিন্তু তার সেই ইচ্ছা সফল হয়নি। জিয়ার বিশ্বাসঘাতকার কারণে প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে তা নস্যাৎ হয়ে যায়।

২০১০ সালে হাইকোর্টের রায়ে কর্নেল তাহেরের ফাঁসিকে ‘ঠান্ডা মাথার খুন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, কিন্তু কি কারণে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়েছিল তার দলিল পেয়েছেন কি না ...

লুৎফা তাহের : না কোন দলিল পাইনি। বিচারিক কার্যক্রম হয়েছে। অবশ্যই আমরা দাবি জানাব যে, হাইকোর্ট কর্নেল তাহেরকে শহীদী মর্যাদা এবং তার নামে একটা স্থাপনা ও যথাযথ মূল্যায়নের যে নির্দেশ দিয়েছে তা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।

এখনও হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়াটা সরকারের অবহেলা কি না ...

লুৎফা তাহের : সরকারের অবহেলা বলবো না। সরকারের কারণেই হাইকোর্টে যেতে পেরেছি। যে আদেশের বলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা হয়েছিল, সেই আদেশের বলেই কর্নেল তাহের হত্যার বিচার হয়েছে। আমি শুধু চাইবো কর্নেল তাহেরের মর্যাদা যেন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

এছাড়া কর্নেল তাহের জীবিত থাকলে তিনি চাকরিকালীন সময়ে যে র‌্যাঙ্ক পেতেন, চাকরির পর যে পেনশন সুবিধাদি পেতেন সেটাও তো এখন আমার প্রাপ্য।

একজন সংসদ সদস্য হিসেবে কর্নেল তাহেরের ফাঁসির দলিল অবমুক্ত করার দাবি সংসদে উপস্থাপন করার কোন ইচ্ছা আছে কি না...

লুৎফা তাহের : সংসদ অধিবেশন শুরু হলে দাবি জানাবো।

(দ্য রিপোর্ট/সাআ/এসআর/এনআই/নভেম্বর ০৭, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

৭ নভেম্বর ২০১৫ এর সর্বশেষ খবর

৭ নভেম্বর ২০১৫ - এর সব খবর



রে