thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
মারুফ কামাল খান

এগিয়ে চলার মহাসড়ক গড়ে দেন জিয়া

২০১৫ নভেম্বর ০৭ ০১:০৬:৪২
এগিয়ে চলার মহাসড়ক গড়ে দেন জিয়া

আকাশছোঁয়া স্বপ্ন, দিগন্ত বিস্তৃত প্রত্যাশা নিয়ে এ দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর তাদের সেই স্বপ্ন ও প্রত্যাশা স্বদেশী নব্য-শাসকদের কৃতকর্মে ধূলিস্যাৎ হয়েছিল। শতাব্দীর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ হয়েছিল বিপন্ন। লুণ্ঠনে জাতীয় অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। গণতন্ত্র আর সমাজতন্ত্রের বাধাবুলি জনগণের কাছে হয়ে উঠেছিল এক প্রহসন। দেশ বিশ্বে পরিচিতি অর্জন করেছিল বিভীষিকাময় এক মৃত্যু উপত্যকার। সেই ব্যর্থ ও নিষ্ঠুর শাসনের সর্বশেষ পরিণতিতে গণতন্ত্রের শেষ নিশানাটুকুও মুছে ফেলে একদলীয় ও ব্যক্তিনির্ভর শাসনপ্রথা প্রবর্তন করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ পন্থায় শাসক দল ও সরকার বদলের সকল পথ করে দেওয়া হয় রুদ্ধ। দেশরক্ষা বাহিনীকে উপেক্ষা করে সমান্তরালে বিভিন্ন বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল।

এতকিছু সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত ও সংগঠনকারী সমরনায়ক জিয়াউর রহমান কঠোর সামরিক শৃঙ্খলার প্রতি তাঁর প্রগাঢ় আনুগত্যে অটল থেকেছেন। সংবিধানসম্মত ও বৈধ অসামরিক রাজনৈতিক শাসন কর্তৃত্বের ওপর আস্থা রেখে তিনি একজন সুশৃঙ্খল সৈনিক হিসেবে অর্পিত কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ, দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের একটি অংশ, এমনকি শাসক মহলের গণতন্ত্রকামী একটি গোষ্ঠীও বিরাজমান নৈরাজ্য, স্বেচ্ছাচার ও ধ্বংসলীলা মেনে নিতে পারেনি।

১৯৭৫ এর মধ্য-আগস্টে রক্তক্ষয়ী এক সশস্ত্র সেনাঅভ্যুত্থানে ঘটে যায় রাষ্ট্রক্ষমতার পটবদল। খন্দকার মোশতাক আহমদ নামে একজন প্রবীণ আওয়ামী রাজনীতিক দেশজুড়ে সামরিক শাসন বলবৎ ও শাসনতন্ত্র স্থগিত করে রেখে তাঁর নিজস্ব মর্জি ও বিবেচনা মাফিক শাসন চালাতে থাকেন। অসামরিক ব্যক্তির নির্দেশিত সেই সামরিক প্রশাসনের ঘোষিত কোনো স্বচ্ছ দিকনির্দেশনা ছিল না। দেশে রাজনৈতিক দলের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। রাজনীতি ছিল নিষিদ্ধ। জাতির বর্তমান ছিল বিভ্রান্ত, ভবিষ্যৎ ছিল অন্ধকার। রাজনীতিহীন ওই সময়ে বিভিন্ন মতানুসারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীকেই একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিল। এতে জাতীর ঐক্য ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীতে সৃষ্টি হচ্ছিল নানা দল-উপদল, ভেঙ্গে পড়ছিল শৃঙ্খলা ও সংহতি। সেই চরম অনিশ্চিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে দেশী-বিদেশী চক্রান্তের ক্রীড়নক হয়ে কতিপয় উচ্চাভিলাষী সেনা অফিসার সামরিক বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করে ৩ নভেম্বর ঘটিয়ে দেয় এক স্বল্পমেয়াদী ক্যুদেতা। স্বাধীনতার ঘোষক, জিয়াউর রহমান তাদের হাতে বন্দী হন। তবে উচ্চাভিলাষী কতিপয় সেনা কর্মকর্তার এই ক্ষমতা দখলের অভিযান শেষ অব্দি শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়। ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহর থেকেই সারাদেশের সেনা ছাউনিগুলোর চেহারা বদলে যায়। সাধারণ সৈনিকেরা অস্ত্র হাতে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে বেরিয়ে আসে ব্যারাক থেকে। বন্দী সেনাপ্রধান জিয়াকে মুক্ত করে কাঁধে তুলে তারা নেমে আসে রাজপথে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, কুচক্রীরা নিপাত যাক, জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ ধ্বনি দিয়ে সৈনিকরা ৭ নভেম্বর প্রভাতে রাস্তায় নামলে তাদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানাতে সারাদেশের সাধারণ মানুষও বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা দেশরক্ষার সৈনিকদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে শ্লোগান তোলে। সেনাদলগুলোকে বিপুল করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করতে থাকে রাজপথের দু’পাশে অপেক্ষমাণ লাখো জনতা। জনসমুদ্র থেকে বর্ষিত পুষ্পবৃষ্টিতে ছেয়ে যায় ট্যাংক, সাঁজোয়া যান। কামানের নলে মালা পরায় সাধারণ মানুষ। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য! ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের পর আর কখনো এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়নি। ক্যুদেতা ঘটিয়ে উচ্চাভিলাষী সামরিক অফিসারদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ৭ নভেম্বরের সৈনিক-জনতার জাগৃতি ছিল এক প্রবল প্রতিরোধের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। এই বিপ্লবী অভ্যুত্থানের নায়ক কোনো জাঁদরেল সেনাপতি নন, সাধারণ সিপাহীরা। আর তাদের সাথে যোগ দিয়েছিল সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনতা। তারাই সেদিন বন্দী জিয়াকে মুক্ত করে এনে এক অরাজক ও নেতৃত্বশূন্য পরিস্থিতিতে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল দেশ পরিচলনার দায়িত্ব। প্রকাশ্য রাজপথে সৈনিক-জনতার মহাসমুদ্রে অবিরত পুষ্পবর্ষণের মাধ্যমে অভিষেক ঘটে তাঁর রাষ্ট্রক্ষমতার। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে রাজনীতি, গঠিত হয় রাজনৈতিক দল, পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় জনগণের নির্বাসিত মৌলিক অধিকার, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা। এই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে চক্রান্ত মুক্ত হয়ে সশস্ত্র বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আধিপত্যবাদী শক্তির স্বার্থের পরিপূরক অবস্থান থেকে বাংলাদেশ নামের জাতিরাষ্ট্রের নাগরিকরা রাষ্ট্রভিত্তিক, আধুনিক ও বাস্তবসম্মত এক জাতীয় পরিচয় অর্জন করে। আর আত্মপরিচয় লাভের মাধ্যমে নবোদ্দীপ্ত এবং আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে নবোত্থিত এই বাংলাদেশী জাতিসত্তাকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, স্বকীয়তা, মর্যাদা, নিজস্ব সংস্কৃতি, স্বাধীন অর্থনীতি ও গৌরব নিয়ে সম্মুখ পানে এগিয়ে চলার প্রশস্ত নতুন মহাসড়ক গড়ে দেন জিয়াউর রহমান।

লেখক : বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব

(দ্য রিপোর্ট/এইচ/এসআর/নভেম্বর ০৭, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

৭ নভেম্বর ২০১৫ এর সর্বশেষ খবর

৭ নভেম্বর ২০১৫ - এর সব খবর