thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
নাজমুল হাসান

৭ নভেম্বর : বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রেরণা

২০১৫ নভেম্বর ০৭ ০৬:২১:০২
৭ নভেম্বর : বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রেরণা

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’তে পরিণত হয়েছিল। সংকুচিত হয়েছিল মত প্রকাশের স্বাধীনতা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার মতো একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার স্বতঃফূর্ত বিপ্লব নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

মূলত ৭ নভেম্বরের ঘটনায় ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ ও কর্নেল তাহেরের ক্ষমতা দখলের তৎপরতা থাকলেও প্রাদপ্রদীপের আলোয় ছিলেন জিয়াউর রহমান। যদিও ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ ৩ নভেম্বর এক অভ্যুত্থানে তাকে সেনানিবাসের নিজ বাসভবনে বন্দী করেন, তথাপি ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবে জিয়া ছিলেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই তো জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করে খালেদ মোশারফের নেতৃত্বাধীন ব্যর্থ অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক ব্রিগেডিয়ার শাফায়েত জামিল ‘হলিডে’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘প্রকৃত প্রস্তাবে জিয়াই জাতিকে চরম নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং ৭ নভেম্বর সম্ভাব্য ভারতের পুলিশী এ্যাকশন থেকেও’ (Zia in fact saved the nation from total anarchy and a possible police action from India on 7th November)।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য সম্পর্কে তৎকালীন বাস্তবতায় এটাই হতে পারে শেষ কথা বা চুম্বক কথা। অথবা সব ঘটনার নির্যাস। এমনিতে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান ও ব্যক্তিজীবনে সততার কারণে সেনাবাহিনীর সকল স্তরের কর্মকর্তা এবং সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। এ ছাড়া ক্যান্টনমেন্টের বাইরে সাধারণ জনগণের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল অপরিসীম।

এখন আসা যাক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী তাৎপর্য বহন করে। দেশী-বিদেশী শক্তির অশুভ চক্রান্তে যখন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন তখনই সিপাহী-জনতার অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে সকল চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে যায়। একটি আত্মপ্রত্যয়ী জাতি হিসেবে আমরা পরিচিতি লাভ করি। যে কোন বিপদে দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ দেশপ্রেমের ভিত্তিতে বলিয়ান হয়ে কাজ করলে যে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা যায় ৭ নভেম্বর আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। ৭ নভেম্বরের সুর আত্মপ্রত্যয়ের, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের। এর ব্যঞ্জনা আত্ম-নির্ভরশীলতার।

৭ নভেম্বরকে স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশের রক্ষা কবজ বললেও ভুল বলা হবে না। কারণ এদিন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ ও তাহেরের নীলনকশা নস্যাৎ হয়ে যায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিপাহী-জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। বিশ্বের আধিপত্যবাদী শক্তি বিশেষ করে ভারত বুঝতে সক্ষম হয় যে, বাংলাদেশকে তাদের করদ রাজ্য করে রাখা যাবে না। অন্যদিকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে দিয়েই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হাতে নিয়েই তিনি সর্বপ্রথম সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। সমগ্র জাতিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে, নিজেদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের চেতনা জাগ্রত করেন। স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উঁচুতে উঠে।

অতএব বলা যায়, ৭ নভেম্বরের ঘটনায় বাংলাদেশ পেয়েছে একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্ব। যার নেতৃত্বেই সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার লোক জাতীয়তাবাদী চেতনায় বলীয়ান হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করে। প্রতিষ্ঠিত হয় বহুদলীয় গণতন্ত্র। নিশ্চিত হয় মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

দুর্ভাগ্য এবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসটি এমন এক সময় পালিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন ভোটারবিহীন নির্বাচনে গঠিত সরকার। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ সংকুচিত। গণ-মাধ্যমের কন্ঠ রোধের চেষ্টায় মরিয়া এ সরকার। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের নামে শত শত মানুষকে হত্যা ও গুম করা হচ্ছে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে জেলে বন্দী করা হয়েছে। এমতবস্থায় প্রয়োজন আরেকটি গণ অভ্যুত্থান, যার মূল সুর হবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার।

লেখক : ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি।

(দ্য রিপোর্ট/এনআই/নভেম্বর ০৭, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

৭ নভেম্বর ২০১৫ এর সর্বশেষ খবর

৭ নভেম্বর ২০১৫ - এর সব খবর